corona virus btn
corona virus btn
Loading

বি টেক পাশ করেও অফিসে চা দেওয়ার কাজ! তার ফাঁকে পড়েই কামাল পেলেন সরকারি ইঞ্জিনিয়ারের চাকরি

বি টেক পাশ করেও অফিসে চা দেওয়ার কাজ! তার ফাঁকে পড়েই কামাল পেলেন সরকারি ইঞ্জিনিয়ারের চাকরি

বি টেক পাশ করেও করতে হচ্ছিল গ্রুপ ডির কাজ, অবশেষে সরকারি ইঞ্জিনিয়ারের চাকরি জুটিয়ে তাক লাগালেন যুবক

  • Share this:

#পূর্ব বর্ধমান: জেলাশাসকের অফিসের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মী। ভালোবেসে অনেকে বলতেন ছোট ডিএম। সেই ছোট ডিএমই সরকারি ইঞ্জিনিয়ারের চাকরি পেয়ে গেলেন।  কাজের ফাঁকে বই নিয়ে চলতো পড়াশোনা। আরও ওপরে ওঠার প্রস্তুতি চলছিল অবসর সময়ে। তাতেই মিলল সাফল্য। বি টেক পাশ করে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর পদে যোগ দিয়েছিলেন। কাজের ফাঁকে চলছিল সরকারি বড় পদে চাকরির প্রস্তুতি। অবশেষে সরকারি ইঞ্জিনিয়ারের চাকরি পেলেন গুপিন মার্ডি। রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের ইঞ্জিনিয়ার পদে চলতি মাসেই যোগ দিতে চলেছেন তিনি। তাঁর  প্রথম পোস্টিং উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদ ব্লকে।

খুব নিরীহ শান্ত স্বভাবের যুবক গুপিন। জেলাশাসকের দফতর থেকে ফাইল পৌঁছে দেন সরকারি বিভিন্ন দফতরে। এছাড়াও রয়েছে জেলাশাসকের দফতরের বিভিন্ন কাজ। কথায় কথায় তার শিক্ষাগত যোগ্যতার কথা জানতে চেয়েছিলেন পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক বিজয় ভারতী। গুপিন বি টেক পাশ শুনে তাঁকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার উৎসাহ দেন জেলাশাসক। ইন্টারভিউয়ে কি ধরণের প্রশ্ন আসতে পারে, তার উত্তর কেমনভাবে দেওয়া প্রয়োজন সেসবের তালিমও দিয়েছিলেন জেলাশাসক। স্বাভাবিকভাবেই গুপিনের সাফল্যে খুশি তিনি। জেলাশাসক বললেন, বেকারত্বের জ্বালায় বি টেক পাশ ওই যুবককে গ্রুপ ডির কাজ করতে হচ্ছিল। ও যে নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পেয়েছে এতে আমরা খুশি। ওই যুবকের আরও উন্নতি কামনা করছি।

গুপিনের বাড়ি বীরভূম জেলার নলহাটির আলমপুর গ্রাম। ছ বিঘে জমির আয়ে সংসার চলতো কোনওক্রমে। সেই দারিদ্র্যের মধ্যেই স্কুলের প্রতিটি ক্লাসে নজরকাড়া সাফল্য পেয়েছে গুপিন। তার এগিয়ে যাওয়ার পথে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন অনেকেই। তাঁদের  সহায়তায় মুর্শিদাবাদের আজিমগঞ্জের ডন বসকো হাইস্কুলে মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। ৭২ শতাংশ নম্বর পেয়ে মাধ্যমিক পাস করেন। রামপুরহাট থেকে ৭০ শতাংশ নম্বর পেয়ে  উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর সিউড়িতে বীরভূম ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ৮৪ শতাংশ নম্বর পেয়ে বি-টেক করেন। এরপর চাকরির পরীক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি চাষবাস দেখাশোনা করতেন।  2017 সালে বাবা মিকায়েল মার্ডি মারা যান।

ওই বছরই রাজ্যের আদিবাসী উন্নয়ন নিগমের সহায়তায় ডবলুবিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে কলকাতায় যান গুপিন। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয় নিয়ে সেই প্রস্তুতিতে সমস্যা হচ্ছিল। তখন তাঁকে সরকারি ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার চাকরির প্রস্তুতির ব্যবস্থা করা হয়। ইঞ্জিনিয়ার হয়েও চাকরির জন্য একের পর এক পরীক্ষা দিতে থাকেন গুপিন।  ২০১৬ সালে সরকারি গ্রুপ-ডি পরীক্ষা দিয়েছিলেন। ২০১৯ সালে বর্ধমানে জেলা শাসকের দফতরে পোস্টিং পান তিনি।

বি-টেক পাস যুবক তাঁর দফতরে  গ্রুপ-ডি কাজ করছেন জেনে জেলাশাসক তাঁকে সরকারি ইঞ্জিনিয়ার চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পরামর্শ দেন। কাজের ফাঁকে চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে বলেন। গুপিন বললেন, এই সাফল্য পেতে আমাকে খুবই সাহায্য করেছেন জেলাশাসক। তাছাড়া এই অফিসে কাজ করার অভিজ্ঞতাও আমার খুবই কাজে লাগবে। তার এই সাফল্যে খুশি বাকি সহকর্মীরাও।

Saradindu Ghosh

Published by: Debalina Datta
First published: July 13, 2020, 6:29 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर