শ্মশানে পড়ে রইল মায়ের দেহ, শেষকৃত্যে গেল না ছেলে, কারণ জানলে চোখে জল আসবেই

ছেলে মুখাগ্নি করতে না যাওয়ায় 3 ঘন্টা শ্মশানে পরে রইলো মায়ের দেহ | অবশেষে বাপের বাড়ির আত্মীয়দের সাহায্যে শেষকৃত্য হল গৃহবধূর |

ছেলে মুখাগ্নি করতে না যাওয়ায় 3 ঘন্টা শ্মশানে পরে রইলো মায়ের দেহ | অবশেষে বাপের বাড়ির আত্মীয়দের সাহায্যে শেষকৃত্য হল গৃহবধূর |

  • Share this:

#হাওড়া: পারিবারিক অশান্তির জেরে আত্মঘাতী গৃহবধূ | লিলুয়া থানার বেলগাছিয়া লিচুবাগানের ঘটনা | রবিবার সন্ধ্যায় গৃহবধূ ইতি দে নিজের ঘরেই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয় | ইতি দেবীর বাপের বাড়ির অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতি দেবীর স্বামী  শৈলেন দে ও গৃহবধূর ভাসুরকে গ্রেফতার করে |  বাবাকে কেন বিনা অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছে, অভিমানে মায়ের শেষকৃত্যে যোগ দিল না ছেলে |

মায়ের মুখাগ্নিতেও নারাজ বছর ১২ ছেলে | যার জেরে শ্মশানে তিনঘন্টা পরে রইল গৃহবধূর দেহ |  পুলিশ গিয়ে বার বার দেহ নেওয়ার ও শেষকৃত্য করার আবেদন জানালেও ছেলে নারাজ , তার পুলিশের কাছে আবেদন আগে বাবা এবং জেঠুকে ছাড়তে হবে তারপর সে মায়ের শেষকৃত্যতে যোগ দেবে | অনেক আবেদনেও নাবালকের মন গলাতে পারল না পুলিশ | অবশেষে গৃহবধূর বাপের বাড়ির আত্মীয়রাই করল শেষকৃত্যের কাজ |

শৈলেন বাবুর পরিবারের দাবি ১৪ বছর বিয়ে হলেও ইতি দেবী এলাকার এক যুবকের সঙ্গে বিবাহ বহির্ভুত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিল যা নিয়ে প্রায় দিনই পরিবারে অশান্তি লেগে থাকতো, কয়েকদিন আগে অশান্তি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে ইতি দেবীর বাপের বাড়ির লোকেরা এসে মীমাংসা করে যায়, কিন্তু তারপরেও ইতি দেবী সেই যুবকের সাথে গোপনে সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছিলেন |  তা নিয়েই পরিবারে অশান্তি চলছিল| রবিবার শৈলেন বাবু বেরিয়ে যেতেই নিজের ঘরে আত্মঘাতী হন ইতি দেবী | পরিবারের লোকেরা অনেক ডাকা ডাকি করলে ইতি দেবীর সারা না পাওয়া ঘরের দরজা ভেঙে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়, হাওড়া হসপিটালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা | এরপরেই ইতি দেবীর ভাই লিলুয়া থানায় বোনকে খুনের অভিযোগ করে | সেই অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় শৈলেন বাবুকে | মায়ের প্রতি ছেলের এমন বিরূপ আচরণ এলাকায় যথেষ্ট আলোড়ন সৃষ্টি হয় |ছেলের দাবি মা তো নিজের ইচ্ছায় তাকে ছেড়ে চলে গেলো এবার বাবা পশে না থাকলে তার দেখাশোনা করবে কে | আর মিথ্যা অভিযোগকারী মামাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নাবালক ছেলে |

 Debasish Chakraborty

Published by:Elina Datta
First published: