হোম /খবর /দক্ষিণবঙ্গ /
আরামবাগ, খানাকুল সহ একাধিক জায়গায় ক্ষতিগ্রস্ত নদী বাঁধ, সমীক্ষা শুরু সেচ দফতরের

আরামবাগ, খানাকুল সহ একাধিক জায়গায় ক্ষতিগ্রস্ত নদী বাঁধ, সমীক্ষা শুরু সেচ দফতরের

রূপনারায়ণের বাঁধ ভেঙেছিল দুই সপ্তাহ আগে। তার পরেই এলাকায় জল ঢুকতে শুরু করে।

  • Share this:

#হাওড়া: জল নামতে শুরু করলেও বৃষ্টির ভ্রুকুটি চিন্তায় রেখেছে খানাকুলকে। এরই মধ্যে একাধিক জায়গায় নদী বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চিন্তা বেড়েছে সেচ দফতরের। চিন্তা বেড়েছে প্রশাসনের। রাজ্যের সেচ মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র জানিয়েছেন, আগামী ৭ দিনের মধ্যেই একটা সমীক্ষা রিপোর্ট তৈরি করা হবে। কোথায়, কোন কোন অংশে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা বোঝা যাবে। প্রাথমিক রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে ঠাকুরানী চকের হানাগড়ের কাছে ৬০ মিটার ও ভীমতলার কাছে ১৫০ মিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রঘুনাথপুর আদকপাড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৭০ মিটার বাঁধ। সবটাই দ্বারকেশ্বর ও রুপনারায়ণের জলে ভেসেছে৷ এই দুই নদীর বাঁধ ভেঙেছে। ঘাটাল, আমতা, উদয়নারায়ণপুর সহ একাধিক জায়গা থেকে জল নামলেও। ব্যতিক্রম হয়ে আছে এখনও খানাকুল। জল কিছুটা নামলেও এখনও যা পরিস্থিতি তাতে ভীত হয়ে আছেন এখানকার বাসিন্দারা। জল থাকলেও, ত্রাণ শিবির ছেড়ে বাড়ি ফিরতে তৎপর হয়ে উঠেছেন একাধিক ব্যক্তি।

রূপনারায়ণের বাঁধ ভেঙেছিল দুই সপ্তাহ আগে। তার পরেই এলাকায় জল ঢুকতে শুরু করে। ধীরে ধীরে বাড়ির একতলা জলের গ্রাসে চলে যায়। বাধ্য হয়েই গত কয়েকদিন ধরেই বাড়ির ছাদে আশ্রয় নিয়েছিলেন একাধিক পরিবার। খানাকুলের পূর্ব ঠাকুরানি চকের সামন্তপাড়ার সেই বাড়ির ছাদ থেকে হেলিকপ্টারে উদ্ধার করা হয়েছিল ১০০ পেরনো জাহ্নবীকে। নিয়ে আসা হয় তাকে আরামবাগের ত্রাণশিবিরে। প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর বৃদ্ধার প্রথম কথা ছিল, ‘‘এমন বন্যা আগে দেখিনি।’’ এই ক'দিনে জেলা প্রশাসনের ত্রাণ শিবির থেকে বারবার খেয়াল রাখা হয়েছে সকলের উপরে৷ খোঁজ নিয়েছেন প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর থেকেও। এবার ঘরে ফিরতে চাইছেন ত্রাণ শিবিরে থাকা সকলেই। ইতিমধ্যেই ১ কলাম সেনা নামানো হয়েছে এলাকায়। সাথে আছে ইঞ্জিনিয়ারিং টাস্ক ফোর্সের সদস্যরা।

রুপনারায়ণের জলে বিঘের পর বিঘে চাষের জমি এখনও জলের তলায়। খানাকুলের পূর্ব ঠাকুরানীচক গ্রামের চেহারা এমনই। যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম নৌকা। তা নিয়েই চলছে জমি দেখে আসার কাজ। তবে সকাল হতেই আকাশে ঘন কালো মেঘ, চিন্তা বাড়াচ্ছে খানাকুলের। আরামাবাগ, খানাকুল, গোঘাট হুগলি জেলার এই সমস্ত এলাকা বরাবর বন্যা প্রবণ। প্রতি বছর বন্যার ভ্রুকুটি সহ্য করতে হয় এই সব এলাকার মানুষদের। চলতি বছরেও তার অন্যথা হয়নি। হুগলি জেলার এই সব এলাকা রুপনারায়ণ, দ্বারকেশ্বর, মুন্ডেশ্বরী, দামোদর নদী দিয়ে ঘেরা। এর মধ্যে রুপনারায়ণের জলে ভেসেছে খানাকুলের একাধিক গ্রাম। আর তার জেরেই জলের তলায় চাষের জমি। গ্রামের বাসিন্দা সুনীল হাজরা। তার ১৫ বিঘা ধান জমি এখন জলের তলায়। তিনি জানাচ্ছেন, "প্রত্যেক বছরই তো আমাদের এই অত্যাচার সহ্য করতে হয়। ব্যারেজ জল ছাড়লেও আমাদের জমি জলের তলায়। আর ভারী বৃষ্টি হলেও জলের তলায়চলে যায় আমাদের জমি। এভাবে আমরা আর কত বছর সহ্য করব।"

বাসাবাটি'র বাসিন্দা শ্যামল দারি। তার জমিও জলের তলায়। তিনি জানাচ্ছেন, "পটল, উচ্ছে সহ মরসুমী সবজি আমার সব জলের তলায় চলে গেল। সব ফসল পচে গেছে। কবে জল নামবে জানিনা। ফলে কিছু আর ফেরত পাওয়ার আশা রাখি না।" খানাকুলের গড়েরঘাটের রাস্তার দু'ধারে বিঘের পর বিঘে জমি জলের তলায় চলে গেছে। প্রায় ৫ থেকে ৬ ফুট জলের উচ্চতা।অন্যদিকে, জলমগ্ন এদিন বাসাবাটি, জগৎপুর সহ গ্রামের মানুষের নানা অসুবিধার কথা শুনছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা। মিতালী হাজরা গ্রামবাসী জানিয়েছেন, "ওষুধ নিয়ে আসা গ্রামে সবচেয়ে সমস্যা। প্রশাসনকে বললাম, যাতে ওষুধ আমরা পেতে পারি।" আর এক গ্রামবাসী নয়ন হাজরা জানিয়েছেন, "বাজার করতে যেতে পারছি না। গ্রাম তো একটা দ্বীপ হয়ে গেছে। খাবার যাতে পাই সেটা দেখতে অনুরোধ করেছি পুলিশকে।" হুগলি জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা অবশ্য জানিয়েছেন, "জলবন্দি এলাকার মানুষের খোঁজ  নিতেই আমাদের দল বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছে। কথা বলে চলেছি আমরা অবিরত। যা যা চাহিদা আছে সব দেখে দেওয়া হবে। বিশেষ করে ওষুধ ও খাবার।" একটু জল নামলেই বাড়ি পরিষ্কার করে ঘরে ফেরানো হবে ত্রাণ শিবির থেকে সকলকে।

Published by:Pooja Basu
First published:

Tags: Bengal, Flood