• Home
  • »
  • News
  • »
  • south-bengal
  • »
  • নতুন করে আগুনের ফুলকিতে আতঙ্ক মুর্শিদাবাদ মেডিক্যালে

নতুন করে আগুনের ফুলকিতে আতঙ্ক মুর্শিদাবাদ মেডিক্যালে

জতুগৃহে পুড়ে মরার আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই রবিবার সকালে ফের নতুন করে আতঙ্ক ছড়াল ।

জতুগৃহে পুড়ে মরার আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই রবিবার সকালে ফের নতুন করে আতঙ্ক ছড়াল ।

জতুগৃহে পুড়ে মরার আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই রবিবার সকালে ফের নতুন করে আতঙ্ক ছড়াল ।

  • Pradesh18
  • Last Updated :
  • Share this:

    #মুর্শিদাবাদ: জতুগৃহে পুড়ে মরার আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই রবিবার সকালে ফের নতুন করে আতঙ্ক ছড়াল । এদিন সকালে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যালের কলেজের জরুরি বিভাগের সামনে রাস্তায় বৈদ্যুতিক ফুলকি দেখা যায়। ফুলকি দেখের পরেও আবার রোগী ও তাঁর পরিজনদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায় ৷ হাসপাতালে মোতায়েন নিরাপত্তারক্ষীরা সবাইকে বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন ৷

    হাসপাতাল সূত্রে খবর, খোলা বৈদ্যুতিক তার থেকে এদিন ফুলকি দেখা যায়। রোগী ও পরিজনদের অভিযোগ, বারবার বলা সত্ত্বেও নির্বিকার রয়েছে হাসপাতাল। শনিবারের ঘটনার পরও এখনও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হুঁশ ফেরেনি ৷

    শনিবার সকালে আচমকাই মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ আগুন লাগে হাসপাতালের দোতলার ভিআইপি কেবিনে। আতঙ্কে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হল হাসপাতালের এক সহায়িকার ও এক রোগীর আত্মীয়ের। মৃত্যু হয়েছে এক সদ্যজাতেরও পাশাপাশি আগুনের প্রচণ্ড ধোঁয়ায় অসুস্থ ৫০টিরও বেশি শিশু। যদিও অসমর্থিত সূত্রে, পাঁচজনের মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে ৷

    আগুন লাগার সময় কেবিনটিতে কেউ ছিলেন না। হাসপাতালে অক্সিজেন ঢোকার পাইপলাইন ও এসি ডাক্ট থেকে বাতাস পেয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। একইসঙ্গে ধোঁয়াও ছড়িয়ে পড়তে থাকে হাসপাতালে। আগুন লাগায় নিয়ম মেনেই, একটি লিফট বন্ধ করে দেওয়া হয়। আরেকটি লিফট আগে থেকেই খারাপ ছিল এবং অন্য একটি এমার্জেন্সি গেটও বন্ধ ছিল এদিন।

    প্রাণ বাঁচাতে হুড়োহুড়ি করেই দোতলা ও তিনতলা থেকে অসুস্থ ও সদ্যোজাতদের নিয়ে সকলে সিঁড়ি ধরে নামতে থাকেন। ওই সিঁড়ি ধরেই দোতলা ও তিনতলা থেকে রোগী ও সদ্যোজাতদের সরানোর জন্য উঠতেও থাকেন একদল মানুষ। এই ভিড়ের মধ্যেই পদপিষ্ট হয়ে যান তিন বয়স্কা মহিলা। ঘটনাস্থলেই মারা যান দুই সহায়িকা পুর্ণিমা সরকার ও মামণি সরকার। পরে মৃত্যু হয় এক সদ্যজাতেরও ৷ ধোঁয়া ও ধাক্কাধাক্কিতে অসুস্থ হয়ে পড়েন বেশ কয়েকজন। ধাক্কাধাক্কিতে সাত থেকে আট জন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গিয়ে জখম হননি কেউ বলেই জানিয়েছেন রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা বিশ্বরঞ্জন শতপথী। মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ৷

    আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রাথমিকভাবে হাসপাতালকর্মী ও রোগীর আত্মীয়রাই অগ্নিনির্বাপণে নামেন। হাসপাতালের নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়েই আগুন নেভানোর কাজে শুরু করেন তাঁরা। অনেকেই কার্নিশ ধরে দোতলায় উঠে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। এরপর প্রাথমিকভাবে আসে দমকলের দুটি ইঞ্জিন। পুরো হাসপাতালেই অক্সিজেন সরবরাহের পাইপলাইন বন্ধ করে দেন দমকল কর্মীরা। দোতলার কাচ ভেঙে ধোঁয়া বের করে দেওয়ার কাজ শুরু হয়। গাছ বেয়েই তিনতলায় উঠে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। শিশুদের উদ্ধার করে একে একে নামিয়ে আনা হয়। সদ্যোজাতদের একতলায় নামিয়ে আনা হয়। সেখানে তাদের সুশ্রষা শুরু হয়।

    এই অগ্নিকাণ্ডের কারণ খুঁজতে অবশ্য রাজ্যের পক্ষ থেকে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অগ্নিকাণ্ডের পরই গোটা বিষযটি নিয়ে ফোনে খবরাখবর নিতে থাকেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্য, পুলিশ ও দমকল বিভাগ থেকেও রিপোর্ট তলব করেন তিনি। প্রত্যেকের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী কলকাতা থেকে যোগাযোগ রাখছেন। হাসপাতালের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যথেষ্ট ছিল বলে দাবি করেছেন মেডিক্যাল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল সুরিতা পাল।v

    First published: