এখনও দেখা নেই ইলিশের ! চরম ক্ষতিতে সুন্দরবনের মৎস্যজীবী, ট্রলার মালিকেরা

এখনও দেখা নেই ইলিশের ! চরম ক্ষতিতে সুন্দরবনের মৎস্যজীবী, ট্রলার মালিকেরা
photo source collected

সমুদ্রে ট্রলার যতবার পাড়ি দিয়েছে, ইলিশ বিক্রি করে সেই খরচটুকুও তুলতে পারেননি ট্রলার মালিকেরা। এমনকী ট্রলারের শ্রমিকদের বেতনটুকুও দিতে পারছেন না

  • Share this:

সুন্দরবন: সুন্দরবনের নামখানা ও কাকদ্বীপের মধ্যবর্তী একাধিক নদীতে দাঁড়িয়ে সারি সারি ট্রলার । গত কয়েক দিন ধরে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সঙ্কেত মিলতেই গভীর সমুদ্র থেকে ট্রলার গুলি ফিরে এসেছে উপকূলে। এদিকে ভরা মরশুমেও দেখা নেই ইলিশের। কপালে চিন্তার ভাঁজ মৎস্যজীবীদের।

মৎস্যজীবীদের মত, সময়ে বর্ষা না আসায় সমুদ্রে ইলিশের আকাল। এ'বছর গভীর সমুদ্রে বৃষ্টি না হলেও, পশ্চিমী বাতাসের কারণে সমুদ্র সারাক্ষণই উত্তাল হয়ে রয়েছে। সেই কারণেই বারবার গভীর সমুদ্র থেকে ট্রলার নিয়ে ফিরে আসতে হচ্ছে মৎস্যজীবীদের। এখনও পর্যন্ত ট্রলার গুলি ৪ থেকে ৫ বার গভীর সমুদ্রে পাড়ি দিলেও, মেলেনি পর্যাপ্ত ইলিশ। মৎস্যজীবী জহরলাল দাস জানান, "গত ৩ দিন ধরে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার পর ট্রলার নিয়ে উপকূলে ফিরে এসেছেন তাঁরা। কিন্তু এই ৩ দিনে গভীর সমুদ্র থেকে ইলিশ মিলেছে মাত্র ২ ঝুড়ি যার ওজন মাত্র ১৩ কেজি।"

সমুদ্রে ট্রলার যতবার পাড়ি দিয়েছে, ইলিশ বিক্রি করে সেই খরচটুকুও তুলতে পারেননি ট্রলার মালিকেরা। এমনকী ট্রলারের শ্রমিকদের বেতনটুকুও দিতে পারছেন না । এ বিষয়ে সুন্দরবন সামুদ্রিক মৎস্যজীবী শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক সতীনাথ পাত্র জানান, "গত ২০ বছরে সুন্দরবনের ট্রলার ব্যবসায়ীদের এরকম পরিস্থিতি হয়নি। মাত্র ৩ মাসের ইলিশের মশুমের দেড় মাস কেটে গিয়েছে, বাকি দেড় মাসও যে ইলিশ মিলবে, তাও নিশ্চিত নয়। এই পরিস্থিতিতে আর দুটো ট্রিপে যদি ট্রলার মালিকেরা ক্ষতির মুখে পড়েন, তাহলে বহু ট্রলারই বন্ধ হয়ে যাবে। এমনকী এই ট্রলার ব্যবসাকে ঘিরে আনুষাঙ্গিক যেসব ব্যবসা বা কাজকর্ম চলে, সেগুলিও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।"

এই বছর ট্রলার ব্যবসায়ে পুরোপুরি খরা চলছে। ইলিশ মাছ পাওয়ার আশায় প্রতিটি নদীর ঘাটে, ট্রলারে পূজার আয়োজন করেছেন মৎস্যজীবীরা। সকাল থেকেই ট্রলার গুলির মধ্যে পুরোহিত দিয়ে পুজা অর্চনার পাশাপাশি চলছে হোমযজ্ঞ। মৎস্যজীবীদের বিশ্বাস, বর্ষার শেষ মরশুমে দেখা মিলবে ইলিশের। আর এই আশাতেই নতুন করে বুক বেঁধে আবারও গভীর সমুদ্র পাড়ি দেবে সুন্দরবনের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ট্রলার।

First published: August 6, 2019, 7:40 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर