দক্ষিণবঙ্গ

corona virus btn
corona virus btn
Loading

মাছ ধরতে গেলেই বিপদ ! গোসাবায় জেলেরা না খেতে পেয়ে জীর্ণ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে !

মাছ ধরতে গেলেই বিপদ ! গোসাবায় জেলেরা না খেতে পেয়ে জীর্ণ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে !

গত তিন মাসে ৩০ জনের বেশি বাঘের আক্রমণে প্রাণ দিয়েছেন।

  • Share this:

#গোসাবা: জেলেরা মাছ ধরবে ,বিক্রি করবে,তাতেই জীবিকা নির্বাহ করবে ,এটাই স্বাভাবিক কাহিনী।এই ভাবেই বছরের পর বছর ,পুরুষ এর পর পুরুষ কাটিয়ে আসছে নদীমাতৃক এলাকার জেলেরা। সেই জেলেরা এখন নৌকা ডাঙ্গায় তুলে দিয়ে, চুপ করে বসে আছেন বাড়িতে। মাছধরা নেই ।রোজগার নেই, চলবে কি করে?  এ কাহিনী সুন্দরবন এলাকার গোসাবা ব্লকের। এই ব্লকের অধিকাংশ মানুষ জলজের উপর নির্ভর করে থাকে।ব্লকের বেশির ভাগ অংশ নদী আর জঙ্গল। ওখানে প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে বেঁচে থাকতে হয় সবাইকে।চাষের কাজে সেরকম কোনো রোজগার নেই।যার জন্যে গঙ্গা দেবীর ওপর নির্ভর করতে হয় সবাইকে।সেই নদীতে যেতে মানা সব জেলেদের। এখন নদীতে কোনভাবে নৌকোতে মাছ ধরা দেখলেই, জালসহ - নৌকো ও লোকজনকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে বনদফতর এর লোকেরা। কারণ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, গত তিন মাসে ৩০ জনের বেশি বাঘের আক্রমণে প্রাণ দিয়েছেন। তাদের প্রত্যেকেই জঙ্গলের খাড়িতে বা নদীতে মাছ কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিল। তাদের মধ্যে বেশকিছু জেলেদের বৈধ পাস ছিল ,আবার অনেকের পাস ছিল না। যার ফলে চুরি করে মাছ কাঁকড়া ধরতে জঙ্গলের ভেতরে প্রবেশ করত জেলেরা।সঙ্গে বাঘের আক্রমণে প্রাণ গেলে,সরকারের ওপর মহল থেকে চাপ আসে বনদফতরের উপর।

  বিকাশ বর্মন ( ৪৫)সাতজেলিয়াতে বাড়ি। বাপ ঠাকুরদা থেকে আরম্ভ করে সবাই নদীতে মাছ ধরে জীবন কাটিয়েছে। ও একই পেশা অবলম্বন করছে। ওর বক্তব্য 'ঠিকমতো পড়াশোনা জানিনা, চাষের কাজ করে পেট চলেনা না। যতই বারণ করুক বনদফতর ।পেটের তাগিদেয় লুকিয়ে চলে যেতেই হচ্ছে। এখন বনদফতরের কর্মীরা দেখতে পেলে, জাল সমেত নৌকা বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে চলে যাচ্ছে। সেই ভয়ে এখন আর নৌকা ভাসাচ্ছিনা জলে। ' অচিন্ত্য হাওলি, বছর ষাটেক বয়স। কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেলেছিলেন। সামনে পুজো, বাড়িতে নতুন সূতা কেনার টাকা নেই। লকডাউনে যা ছিল সব শেষ।  বনদফতরের এক আধিকারিকের কথায়,জেলেরা জঙ্গলের বাইরে নদীতে মাছ ধরতে ধরতে, সুযোগ পেলেই দৃষ্টির আড়ালে জঙ্গলে প্রবেশ করে। গোটা জঙ্গল নাইলনের জাল দিয়ে ঘেরা রয়েছে।সেই জাল কেটে, এই সমস্ত জেলেরা জঙ্গলের ভেতরে ঢুকে যায়।তারা যেমন বাঘের কোড় এলাকাতে ঢুকে পড়ছে,অন্যদিকে ওই জায়গা দিয়ে বাঘ নদী পেরিয়ে জনবহুল দ্বীপে চলে যাচ্ছে।এই সমস্ত কিছু মাথায় রেখেই ,আপাতত কাউকে এখন নদীতে মাছ ধরতে  দেওয়া হচ্ছে না।  প্রশ্ন, এই জেলেদের জন্য কি বিকল্প কোনো পেশার ব্যবস্থা করবে সরকার? নাকি এই ভাবে এরা কচুরি পানার মত, সারা জীবন জোয়ার ভাঁটা মেনে ভেসে বেড়াবে?

SHANKU SANTRA

Published by: Piya Banerjee
First published: September 28, 2020, 11:44 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर