ফের বহরমপুর মেডিক্যালে আগুন

জতুগৃহে পুড়ে মরার আতঙ্কের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের অগ্নিকাণ্ড বহরমপুর মেডিক্যাল ৷ গতবারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর মাস ঘুরতে না ঘুরতেই সোমবার আবার বহরমপুর মেডিক্যাল হাসপাতালে আগুন লাগার খবর এল ৷

জতুগৃহে পুড়ে মরার আতঙ্কের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের অগ্নিকাণ্ড বহরমপুর মেডিক্যাল ৷ গতবারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর মাস ঘুরতে না ঘুরতেই সোমবার আবার বহরমপুর মেডিক্যাল হাসপাতালে আগুন লাগার খবর এল ৷

জতুগৃহে পুড়ে মরার আতঙ্কের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের অগ্নিকাণ্ড বহরমপুর মেডিক্যাল ৷ গতবারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর মাস ঘুরতে না ঘুরতেই সোমবার আবার বহরমপুর মেডিক্যাল হাসপাতালে আগুন লাগার খবর এল ৷

  • Pradesh18
  • Last Updated :
  • Share this:

    #বহরমপুর: জতুগৃহে পুড়ে মরার আতঙ্কের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের অগ্নিকাণ্ড বহরমপুর মেডিক্যাল ৷ গতবারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর মাস ঘুরতে না ঘুরতেই সোমবার আবার বহরমপুর মেডিক্যাল হাসপাতালে আগুন লাগার খবর এল ৷ এদিন বিকেলে বহরমপুর মেডিক্যালের বিল্ডিংয়ের তিন তলায় আগুন লেগে যায় ৷ মুহূর্তে ফিরে আসে এক মাসের পুরনো স্মৃতি ৷ হুড়োহুড়ি করে পালাতে শুরু করেন করেন রোগীর আত্মীয় ও চিকিৎসাকর্মীরা ৷

    তবে স্বস্তির খবর, দমকল এসে যথাসময়ে নিয়ন্ত্রণে আনে আগুন ৷ ফলে আগের বারের মতো দুর্ঘটনার পরিস্থিতি তৈরি হয়নি ৷ তবে ঘটনায় যথেষ্ট আতঙ্ক ছড়িয়েছে রোগী ও তাদের আত্মীয়দের মধ্যে ৷ গতবারের অগ্নিকাণ্ডের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অগ্নিনির্বাপনের ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়ায় এদিন বড়সড় দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গেল বহরমপুর মেডিক্যাল ৷

    গত ২৭ অগাস্ট সকালে আচমকাই মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ আগুন লাগে হাসপাতালের দোতলার ভিআইপি কেবিনে। আতঙ্কে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হল হাসপাতালের এক সহায়িকার ও এক রোগীর আত্মীয়ের। মৃত্যু হয়েছে এক সদ্যজাতেরও পাশাপাশি আগুনের প্রচণ্ড ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়ে ৫০টিরও বেশি শিশু।

    আগুন লাগার সময় কেবিনটিতে কেউ ছিলেন না। হাসপাতালে অক্সিজেন ঢোকার পাইপলাইন ও এসি ডাক্ট থেকে বাতাস পেয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। একইসঙ্গে ধোঁয়াও ছড়িয়ে পড়তে থাকে হাসপাতালে। আগুন লাগায় নিয়ম মেনেই, একটি লিফট বন্ধ করে দেওয়া হয়। আরেকটি লিফট আগে থেকেই খারাপ ছিল এবং অন্য একটি এমার্জেন্সি গেটও বন্ধ ছিল এদিন।

    প্রাণ বাঁচাতে হুড়োহুড়ি করেই দোতলা ও তিনতলা থেকে অসুস্থ ও সদ্যোজাতদের নিয়ে সকলে সিঁড়ি ধরে নামতে থাকেন। ওই সিঁড়ি ধরেই দোতলা ও তিনতলা থেকে রোগী ও সদ্যোজাতদের সরানোর জন্য উঠতেও থাকেন একদল মানুষ। এই ভিড়ের মধ্যেই পদপিষ্ট হয়ে যান তিন বয়স্কা মহিলা। ঘটনাস্থলেই মারা যান দুই সহায়িকা পুর্ণিমা সরকার ও মামণি সরকার। পরে মৃত্যু হয় এক সদ্যজাতেরও ৷ ধোঁয়া ও ধাক্কাধাক্কিতে অসুস্থ হয়ে পড়েন বেশ কয়েকজন। ধাক্কাধাক্কিতে সাত থেকে আট জন আহত হন। মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গে তৎক্ষণাৎ সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী ৷

    আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রাথমিকভাবে হাসপাতালকর্মী ও রোগীর আত্মীয়রাই অগ্নিনির্বাপণে নামেন। হাসপাতালের নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়েই আগুন নেভানোর কাজে শুরু করেন তাঁরা। অনেকেই কার্নিশ ধরে দোতলায় উঠে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। এরপর প্রাথমিকভাবে আসে দমকলের দুটি ইঞ্জিন। পুরো হাসপাতালেই অক্সিজেন সরবরাহের পাইপলাইন বন্ধ করে দেন দমকল কর্মীরা। দোতলার কাচ ভেঙে ধোঁয়া বের করে দেওয়ার কাজ শুরু হয়। গাছ বেয়েই তিনতলায় উঠে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। শিশুদের উদ্ধার করে একে একে নামিয়ে আনা হয়। সদ্যোজাতদের একতলায় নামিয়ে আনা হয়। সেখানে তাদের শুশ্রুষা শুরু হয়।

    এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কংগ্রেস কর্মী অমল গুপ্তকে গ্রেফতার করে সিআইডি ৷ হাসপাতালের রোগী সহায়তা বিভাগের পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন অমল ৷ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক অভিযোগ ছিল ৷ অনিচ্ছাকৃত খুন, ষড়যন্ত্র-সহ একাধিক ধারায় মামলা কংগ্রেস কর্মী অমল গুপ্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় ৷

    First published: