corona virus btn
corona virus btn
Loading

"টাকা নয়, স্টেশন অফিসারের শাস্তি চাই...", দাবি নিহত দমকলকর্মী দেবনারায়ণের মায়ের

পরিবারের সদস্যদের প্রথমে জানানো হয়েছিল মোটরবাইক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন দেবনারায়ণ। কিন্তু হাসপাতালে গিয়ে মা দেখলেন রক্ত মাখা অবস্থায় পড়ে রয়েছে ছেলের নিথর দেহ।

  • Share this:

#হাওড়া: ২৭ বছর বয়সী দেবনারায়ণ পাল দমকলে অস্থায়ী কর্মী হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন বছরখানেক আগে। এক বছর ধরেই রোজ অফিস যাওয়ার পর সকাল ও দুপুরে নিয়ম করে বাড়িতে ফোন করতেন। খোঁজ নিতেন মা-বাবার। শুক্রবার দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেও ছেলের ফোন না আসায় মনে খটকা লাগে দেবনারায়ণের মা তনুশ্রী পালের। বড় মেয়ে দেবিকাকে ফোন করে জানতে চান ভাই ফোন করেছে কিনা। এর কিছুসময় পরই নিমতলা ঘাট স্ট্রিটে তাদের বাড়ির সামনে এসে পৌঁছয় দমকলের একটি গাড়ি। জানানো হয়, দেবনারায়ণের দুর্ঘটনা ঘটেছে, হাসপাতালে যেতে হবে। বাড়ির লোককে সঙ্গে নিয়ে যান তারা।

পরিবারের সদস্যদের প্রথমে জানানো হয়েছিল মোটরবাইক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন দেবনারায়ণ। কিন্তু হাসপাতালে গিয়ে মা দেখলেন রক্ত মাখা অবস্থায় পড়ে রয়েছে ছেলের নিথর দেহ। ছেলের মর্মান্তিক পরিণতি দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহত দমকলকর্মীর মা ও বাবা। মুখে লেগে থাকা রক্ত পরিষ্কার করতে গেলে সে সময় কাছেও ঘেঁষতে দেয়নি দমকলকর্মীরা, আক্ষেপ মায়ের।

শুক্রবার বিকেলে টালিগঞ্জ দমকল কেন্দ্রের ভেতরে একটি দমকলের ইঞ্জিন পিছনে নিতে গিয়ে লাইটপোস্টে ধাক্কা মারেন স্টেশন অফিসার। লাইট পোস্টটি ভেঙে সোজা দেবনারায়ণের মাথায় পড়ে। গুরুতর চোট পান তিনি। রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন দমকলকর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, ওই স্টেশন অফিসারের গাড়ি চালানোর অনুমতি নেই। অভিজ্ঞতাও নেই। তা সত্ত্বেও গাড়ি চালাতে গিয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে সে। এই ঘটনায় তাই অভিযুক্তের শাস্তির দাবি করেছেন দমকল কর্মীরা।

শুক্রবার রাতে পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয় স্টেশন অফিসারকে। শনিবার তাকে আদালতে তোলা হয়। এরপর বিকেলে ময়নাতদন্তের পর দেবনারায়ণের মৃতদেহ টালিগঞ্জ দমকল কেন্দ্রে নিয়ে আসা হলে নতুন করে বিক্ষোভ দেখান দমকল কর্মীরা। ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

একই অভিযোগ করেছে মৃতের পরিবার। তাঁর মা তনুশ্রী পাল বলেন, "শুনেছি ওই স্টেশন অফিসারের গাড়ি চালানোর অনুমতি নেই। তা সত্ত্বেও কেন গাড়ি চালাচ্ছিলেন তিনি? অফিসার বলে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আমরা টাকা-পয়সা চাই না। কঠোর শাস্তি চাই অভিযুক্তের। টাকা দিলে তো আমার ছেলেকে ফেরৎ পাবো না।"

কমার্স গ্র্যাজুয়েট দেবনারায়ণ স্কুল জীবন থেকেই এনসিসি, সিভিল ডিফেন্স ও সাঁতার প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। দমকলের মতই জরুরি বিভাগে চাকরি করার স্বপ্ন ছিল তার। বাবা অশোক পাল মানিকতলা নিমতলা রুটে অটো চালান। তা দিয়েই কোনওমতে সংসার চলত। তবে বছর খানেক আগে ছেলে সরকারি চাকরি পাওয়ার পর দিনবদলের স্বপ্ন দেখছিল গোটা পরিবার। অভিযুক্ত স্টেশন অফিসার গোটা পরিবারের সেই স্বপ্ন ভেঙেচুরে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অভিযুক্ত দমকলকর্মী শাস্তি পেলেই তবেই ছেলের মৃত্যুর সুবিচার হবে বলে মনে করেন মা।

সুজয় পাল

Published by: Siddhartha Sarkar
First published: May 30, 2020, 6:00 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर