corona virus btn
corona virus btn
Loading

বাঙালি বান্ধবীর চেষ্টায়, অবশেষে মহারাষ্ট্র থেকে পশ্চিমবঙ্গ ফিরছে ২৫০০ পরিযায়ী শ্রমিক !

বাঙালি বান্ধবীর চেষ্টায়, অবশেষে মহারাষ্ট্র থেকে পশ্চিমবঙ্গ ফিরছে ২৫০০ পরিযায়ী শ্রমিক !

একদিন মহারাষ্ট্র থেকে এক পরিচিত বন্ধু দীপান্বিতা বাগচির খোঁজ মিলল। হাজার কথা না ভেবেই ফোন করে প্রদীপ। তিনিই সাহয্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন।

  • Share this:

#ডোমজুর: কথায় আছে যার কেউ নেই, তার ভগবান আছেন। এই কথাটা প্রতিটি দিনই ওদের মুখে আসত, বিশ্বাস হত না। মহারাষ্ট্রে  বসে ওরা এটাই বলত, একে অন্যের মনের জোর বাড়াত। ইসমাইল, নুর, রহমান, প্রদীপ, অরিন্দমরা ভাবত এই বুঝি কেউ বলবে, ব্যাগ গোছাও কাল বাড়ি ফিরবে। না, করোনা ভাইরাসে সামাজিক দূরত্ব রেখে, মনের দূরত্ব কমাতে পারেনি ওরা। চেনা মহাজনের কাছে জুটেছে মেস ছাড়ার নির্দেশ, পয়সাওলা বন্ধুর কাছে জুটেছে  বিনা পয়সায় সমবেদনা। সব রাস্তা বন্ধ দেখে প্রদীপের মনে হয়েছিল মহারাষ্ট্রের স্থানীয় নেতারাই তার বাড়ির টিকিট কেটে দেবে। না, পরিচিত নেতা যেন এক পলকে হয়ে গেছে অপরিচিত। দুই-এক জনের বাড়ির যাবার তাগিদ নয়, ওরা প্রায় ২৫০০ জন। বাড়ির লোকগুলো লকডাউনে একের পর এক অসুবিধায় পড়েছে পাশে দাঁড়াতে পারেনি ওরা। কারোর মায়ের ক্যান্সার, কারোর বউ অন্তঃসত্ত্বা,  কারোর বাবার জ্বর।  সবই শুনেছেন আর চিন্তা করেছেন, পাশে দাঁড়ানোর সুযোগটাও পাইনি  ওই মহারাষ্ট্রের পরিযায়ী শ্রমিকরা।

তার মধ্যে জমানো পয়সায় টান পড়তেই ছুটে গেছেন মন্দির থেকে মসজিদ। পেটে ভরেছে ক্ষনিকের জন্য, মন ভরেনি ওদের। কেনই বা ভরবে? কর্মভূমি মহারাষ্ট্রে থেকেও যে জন্মভিটের টান বুঝেছে লকডাউনে। বাড়ির ফোন আসত, উত্তরহীন প্রশ্ন একটাই, বাড়ি কবে আসবে? চোখে জল আসত তবু মুখে উত্তর আসত না। একদিন মহারাষ্ট্র থেকে এক পরিচিত বন্ধু দীপান্বিতা বাগচির খোঁজ মিলল। হাজার কথা না ভেবেই ফোন করে প্রদীপ। তিনিই সাহয্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন। তখনই এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোক্তা প্রমোদ পান্ডের সাহায্য নিয়ে ওদের বাড়ি ফেরার কাজ শুরু করে দেন। বাড়ি আসার জন্য  ফিলআপ করতে হবে ইংরেজিতে লেখা ফর্ম, কি হবে? সেটাও করে দেয় সংস্থা।  ব্যস, যা অন্য রাজ্যের কেউ করে দিল না, তা নিজের ভিটেমাটির অপরিচিত বন্ধুই করে দিল। ওদের বাড়ির লোক অপেক্ষা করছে ১লা জুনের জন্য, ওই দিনই মহারাষ্ট্র থেকে  বাড়ি ফিরছে ডোমজুরের প্রায় ২৫০০ জন। ওরা সবাই বলছে, নিজের ভিটেই নিজের দুঃখ বোঝে।

SUSOBHAN BHATTACHARYA

Published by: Piya Banerjee
First published: May 31, 2020, 9:51 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर