বখশিশ নিয়ে দরাদরি, বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু শিশুর

বখশিশ নিয়ে দরাদরি, বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু শিশুর

অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া নিয়ে নির্মম দরাদরি ৷ দরাদরির ফাঁসে প্রাণ গেল মুমুর্ষ শিশুর ৷ মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে বারাসত হাসপাতালে ৷ শিশুমৃত্যুতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে বারাসত হাসপাতাল চত্বরে ৷ অসুস্থ শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়েছিল শিশুটির পরিবার ৷ সময় মতো শিশুটিকে নিয়ে হাসপাতালেও পৌঁছে যায় তারা ৷ কিন্তু শিশুটিকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার আগে ভাড়া মেটানোর দাবি করে অ্যাম্বুলেন্স চালক ৷ তড়িঘড়ি পকেট থেকে হাতের সামনে যা আছে তা বের করে চালককে দিয়ে দেন শিশুটির বাবা ৷

  • Share this:

#বারাসত: অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া নিয়ে নির্মম দরাদরি ৷ দরাদরির ফাঁসে প্রাণ গেল মুমুর্ষ শিশুর ৷ শিশুকে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে পৌঁছে দিতে বখশিশ চেয়েছিল নিশ্চয়তা যান প্রকল্পের অ্যাম্বুল্যান্স চালক। সেই দাবি পূরণ করতে পারেননি বাবা-মা। ফলে অ্যাম্বুল্যান্সের চাকা নড়লনা। মায়ের কোলেই মৃত্যু হল আট দিনের শিশুকন্যার। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে বারাসত হাসপাতালে ৷ শিশুমৃত্যুতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে বারাসত হাসপাতাল চত্বরে ৷

শ্বাসকষ্ট, বমি ও ধুম জ্বর নিয়ে বারাসত হাসপাতালে ভর্তির জন্য এসেছিল ৮ দিনের সোহিনী সুলতানা। বারাসতের আমডাঙার দাঁড়িয়াপুর গ্রামের বাসিন্দা ইমদাদুল হাসানের মেয়ে সেলিমাকে বিসি রায় হাসপাতালে রেফার করেন চিকিৎসকরা। বিপিএল তালিকাভুক্ত পরিবারটিকে সরকারি প্রকল্পের আওতায় অ্যাম্বুলেন্সেরও  ব্যবস্থা করে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সমস্যার শুরু তার পরেই ৷ অসুস্থ শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়েছিল শিশুটির পরিবার ৷ কিন্তু শিশুটিকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার আগে ভাড়া মেটানোর দাবি করে অ্যাম্বুলেন্স চালক ৷ তড়িঘড়ি পকেট থেকে হাতের সামনে যা আছে তা বের করে চালককে দিয়ে দেন শিশুটির বাবা ৷ তবু নিস্তার মেলে না ৷ ভাড়া মিটলে এবার আসে বখশিশের দাবী ৷ অ্যাম্বুলেন্স চালক ছাড়াও বখশিশের দাবীতে দরাদরিতে যোগ দেয় হাসপাতাল কর্মী ৷ ট্রলি ঠেলে নিয়ে যাওয়ার জন্য তারও চাই বখশিশ ৷ বখশিশের ‘চার্জ’ ক্রমাগত বাড়তে থাকে ৷ অসুস্থ শিশুর পরিবারের সঙ্গে  বচসা শুরু হয়ে যায় ৷

অন্যদিকে, অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে তখন ছটফট করছিল অসুস্থ শিশুটি ৷ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে ধীরে ধীরে মায়ের কোলে নেতিয়ে পড়ে শিশুটি ৷ শিশুটির পরিবারের কোনও কাকুতি-মিনতি তখন শুনতে নারাজ হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় ও অ্যাম্বুলেন্স চালক ৷ শেষ পর্যন্ত মনমতো টাকা দেওয়ার পর ছাড়া পায় পরিবার ৷ কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ ৷ ডাক্তারের কাছে পৌঁছানোর আগেই মায়ের কোলেই মারা গিয়েছে শিশুটি ৷ শিশুটির এই ভাবে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর পর ক্রুদ্ধ পরিবার হাসপাতাল সুপারের কাছে হাসপাতালকর্মী ও অ্যাম্বুলেন্স চালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে যায় ৷ কিন্তু শিশুটির পরিবারের সদস্যদের মারধর করে বের করে দেওয়া হয় ৷ এই ঘটনায় প্রবল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে হাসপাতাল চত্বরে ৷

First published: 03:05:52 PM Feb 10, 2016
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर