ভারতের জাতীয় পতাকার অজানা ইতিহাস নিয়ে গবেষণা কালীশংকর ভট্টাচার্যের, গবেষণা সংরক্ষণের দাবি

ভারতের জাতীয় পতাকার অজানা ইতিহাস নিয়ে গবেষণা কালীশংকর ভট্টাচার্যের, গবেষণা সংরক্ষণের দাবি

দেশ বিদেশের জাতীয় পতাকা, ধর্মীয় পতাকা,রাজনৈতিক পতাকা মিলিয়ে ৪২২টি পতাকার ইতিহাস ও সন্ধান।

  • Share this:

 #আসানসোল:  সামনেই প্রজাতন্ত্র দিবস ৷ তাঁর আগে আসানসোলের কালীশংকর ভট্টাচার্যের পরিবারের দাবি সংরক্ষণ করা হক এই গবেষকের অনন্য গবেষণা৷ পতাকা নিয়ে প্রথম গবেষণা করে ডক্টরেট পেয়েছিলেন৷ দেশ বিদেশের জাতীয় পতাকা, ধর্মীয় পতাকা,রাজনৈতিক পতাকা মিলিয়ে ৪২২টি পতাকার ইতিহাস ও হদিশ রয়েছে তাঁর গবেষণাধর্মী রিপোর্টে। তিনি আসানসোলের কালীশংকর ভট্টাচার্য । তিনি আজ নেই৷ তাঁর গবেষণার বিষয় আজও সবার মনে রয়ে গিয়েছে৷

কালীশংকর ভট্টাচার্য ছিলেন রেলকর্মী । চাকরি জীবনেও গবেষণা থামাননি৷ অবসরের পর ২০০৮ সালে প্রথম গবেষণাধর্মী রিপোর্টটি জমা দেন। ২০১০-এর ১৩ মে ন্যাশনাল লাইব্রেরির কনভেনশন হয় নেতাজি মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে তৎকালীন রাজ্যপাল এম কে নারায়ণন তাঁকে ডক্টরেট উপাধিতে সম্মানিত করেন। ভারতের জাতীয় পতাকার ইতিহাস নিয়ে পাঠ্যবইয়ে যা নেই, তা ছিল আসানসোলের কালীশংকরের কাছে। তিনি প্রয়াত হওয়ার পর সব কিছু সংগ্রহে রেখেছে পরিবার। পরিবারের ইচ্ছে, সরকারি সাহায্য পেলে গবেষণার বিষয়বস্তু নিয়ে সংগ্রহশালা তৈরি করার।

কালীশংকরের গবেষণাধর্মী রিপোর্ট দেখে চমকে গিয়েছেন ইতিহাসবিদরাও। ভারতবর্ষের প্রস্তাবিত ও উত্তোলিত জাতীয় পতাকার বিবর্তন হয়েছে ১৭ বার। কালীশংকরের অবর্তমানে গবেষণার সেই মডেল পতাকাগুলি সংরক্ষিত রয়েছে পরিবারের কাছে।

ভারতের প্রথম জাতীয় পতাকার প্রবর্তন হয়েছিল ১৮৮৩ সালে। জাতীয় কথাটির উদ্ভবও হয় সেই প্রথম। সাদা বর্গাকার পতাকার মাঝে ছিল রক্তিম সূর্য। লাহোর নিবাসী শিরিষচন্দ্র বসু কর্তৃক এই পতাকাটি প্রস্তাবিত হয়। ১৯০৫ সালের ৭ অগাস্ট জাতীয় পতাকা প্রথম তুলেছিলেন অনুশীলন সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার প্রমথনাথ মিত্র। বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে কলকাতার পার্সি বাগান স্কোয়ারে পতাকাটি উত্তোলিত হয়। ওই একইদিনে কলকাতার স্বদেশী আন্দোলনকারীরা ধর্মতলা পার্কে গর্ভনর হাউসের সামনে গোপনে পতাকাটি উত্তোলন করে এসেছিলেন। পতাকার রং ছিল ত্রিবর্ণ। উপরে লাল, মাঝে হলুদ এবং নীচে সবুজ। লাল বর্ণের উপর আঁকা অষ্টবৃন্তের আটটি কুসুম। হলুদের উপর সংস্কৃতে লেখা ছিল বন্দেমাতরম। সবুজের উপর সূর্য ও অর্ধচন্দ্র। ওই একই আদলে চার রকমের পতাকার বিবর্তন হয়।

মেদিনীপুরের স্বদেশি আন্দোলনকারীরা যে পতাকাটির প্রস্তাব দিয়েছিলেন তা ছিল লাল-হলুদ ও নীল। আর বাংলায় লেখা বন্দেমাতরম। ব্রিটিশ শাসনে আটটি প্রদেশকে চিহ্নিত করতে কখনও পদ্ম, কখনও অষ্ট কুসুমকে পতাকার উপরে স্থান দেওয়া হয়েছিল।১৯২২ সালে বিজয়ওয়ারায় কংগ্রেস কমিটির বৈঠকে মহাত্মা গান্ধির উপস্থিতিতে জাতীয় পতাকার প্রস্তাব হয়। যেখানে ঠিক হয় জাতীয় পতাকায় কোনও জাতীয় চরিত্রকে চিহ্নিত করা হবে। পিঙ্গালি ভেঙ্কাইয়া নামের এক ছাত্র একটি পতাকা বানিয়ে আনেন। যার উপরে লাল, নীচে সবুজ ও মাঝে চরকা। পরের বছর কংগ্রেস কমিটির বৈঠকে ওই লাল সবুজ পতাকাটি উলটে দেওয়া হয়। পরিবর্তে নীচে লাল, উপরে সবুজ ও তার উপর সাদা ও মাঝে চরকা আঁকা হয়। এই প্রথম সর্বধর্ম সমন্বয়কে মাথায় রেখে জাতীয় পতাকা তৈরি হয়। ১৯২৩ থেকে ৩০ সাল পর্যন্ত এই পতাকাটি উত্তোলিত হয়েছিল। ১৯৩১ সালের ৬ অগাষ্ট জাতীয় পতাকার রংয়ে ফের বদল। উপরে গৈরিক। মাঝে সাদা এবং নীচে সবুজ। আর মাঝে চরকা। ১৯৪৭ সালের ২২ আগষ্ট চরকার পরিবর্তে সারনাথে যে অশোক চক্রটি রয়েছে সেই ২৪ স্পোকের চক্রটি নীল রঙের আঁকা হয়। অশোকের চক্রটি নেওয়ার অর্থ অশোক বিশ্বজয় করেছিলেন অহিংসা দিয়ে তাই। জওহরলাল নেহেরুর পছন্দ হওয়ায় এই ভাবনা মান্যতা পায়। প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে  কালীশংকরবাবুর  ঐতিহাসিক দলিল সযত্নে সংরক্ষণের দাবি তুলেছে আসানসোল।

আরও দেখুন

 
First published: January 24, 2020, 11:10 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर