শুধু চাকরি নয়, সঙ্গে দোষীদের শাস্তিও চায় মৃত মইদুলের পরিবার

শুধু চাকরি নয়, সঙ্গে দোষীদের শাস্তিও চায় মৃত মইদুলের পরিবার
মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিচার চাইছে মইদুল ইসলাম মিদ্দার পরিবার৷

  • Share this:

    #কোতুলপুর: শুধু চাকরি নয়, তাঁর সঙ্গে প্রকৃত দোষীদের শাস্তিও চায় মৃত ডিওয়াইএফআই কর্মী মইদুল ইসলাম মিদ্দার পরিবার৷ বাঁকুড়ার গোপীনাথপুরের চোরকল গ্রামের বাসিন্দা মইদুল গত ১১ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় এসেছিলেন নবান্ন অভিযানে যোগ দিতে৷ তার পর আর বাড়ি ফেরা হয়নি তাঁর৷ এখন তাঁর নিথর দেহ আসার অপেক্ষায় চোখের জল ফেলছেন বৃদ্ধা মা এবং স্ত্রী৷

    পেশায় টোটো চালক ৩২ বছরের মইদুল ছিলেন পরিবারের একমাত্র রোজগেরে৷ দীর্ঘদিন বাম ছাত্রযুব সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত মইদুল কোতুলপুর ব্লকের গোপীনাথপুরে ডিওয়াইএফআই-এর সম্পাদক ছিলেন৷ সেই সূত্রেই কর্মসংস্থান সহ একগুচ্ছ দাবিতে নবান্ন অভিযানে যোগ দিয়েছিলেন তিনি৷ মইদুলের বাড়িতে ৬৫ বছরের বৃদ্ধা মা এবং স্ত্রী ছাড়াও রয়েছে দুই কন্যাসন্তান৷ মইদুলের মৃত্যুসংবাদে তাই শোকের সঙ্গেই ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তাও গ্রাস করেছিল পরিবারকে৷

    পুলিশের মারেই মইদুলের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ৷ এ দিন অবশ্য মু্খ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশ্বাস দিয়েছেন, মৃত ডিওয়াইএফআই কর্মীর পরিবারের একজনকে চাকরি দিতে তৈরি রাজ্য সরকার, দেওয়া হবে আর্থিক সহায়তাও৷ মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা হয়তো কিছুটা লাঘব হয়েছে৷ কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একটিই আর্জিই জানিয়েছেন মইদুলের মা এবং স্ত্রী৷ তাঁদের একটাই দাবি, মইদুলের মৃত্যুর পিছনে যারা প্রকৃত দোষী, তাদের শাস্তি দিতে হবে৷ মইদুলের স্ত্রী বলেন, 'আমাদের পরিবারে এতজন মহিলা রয়েছে৷ আমরা সবকিছুর বিচার চাই৷ প্রকৃত দোষীর শাস্তি চাই৷' মইদুলের প্রতিবেশীরা অবশ্য দাবি করেছেন, যে কোনও চাকরি নয়৷ পরিবার এবং শিশুসন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে পর্যাপ্ত বেতন সহ চাকরির বন্দোবস্ত করতে হবে মইদুলের পরিবারের জন্য৷


    নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, মইদুল ইসলাম মিদ্দা আহত হওয়ার পর দু' দিন তাঁর পরিবারকে কিছু জানানো হয়নি৷ মৃত ডিওয়াইএফআই কর্মীর পরিবারেরও দাবি, মইদুল যে নবান্ন অভিযানে যাচ্ছেন, সেটাই তাঁরা জানতেন না৷ এমন কি, কাদের সঙ্গে তিনি গিয়েছিলেন, সে সম্পর্কেও অন্ধকারে ছিলেন তাঁরা৷ মইদুল বাড়ি না ফেরায় তাঁর মোবাইলে ফোন করলে অন্য কেউ একজন জানায় যে মইদুল আহত হয়েছেন৷ এর পর এ দিনই তাঁর মৃত্যুসংবাদ পৌঁছয় বাঁকুড়ার বাড়িতে৷

    এ দিন ডিওয়াইএফআই কর্মীর মৃত্যু সংবাদ পেয়ে বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তীকে ফোন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সুজন চক্রবর্তী পরে বলেন, 'আর্থিক এবং অন্যান্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া তো সরকারের দায়িত্ব৷ আমি মুখ্যমন্ত্রীকে সেটাই বলেছি৷ উনি প্রস্তাব দিয়েছেন ভাল কথা, আমি জানিয়েছি পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাঁকে জানাব৷'

    Mrityunjoy Das

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published:

    লেটেস্ট খবর