নামি সংস্থার শিশির মধ্যে নকল মধু, পুলিশি অভিযানে প্রকাশ্যে জাল চক্র

নামি সংস্থার শিশির মধ্যে নকল মধু, পুলিশি অভিযানে প্রকাশ্যে জাল চক্র

বুধবার পূর্ব বর্ধমানের মেমারির চেক পোস্ট সংলগ্ন রেল লাইনের ধারে নকল মধু তৈরির কারখানার হদিশ মেলে।

  • Share this:

#মেমারি: মেমারি-সহ বর্ধমানের বিভিন্ন দোকানে নামী কোম্পানির আড়ালে বিক্রি হচ্ছে নকল মধু! মেমারিতে নকল মধু তৈরির কারখানার হদিশ পাওয়ার পর এমনটাই মনে করছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই জাল মধুচক্রের এক পান্ডাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গিয়েছে, মেমারির ওই কারখানা থেকে নকল মধু, নামি সংস্থার কৌটো বা শিশিতে বিভিন্ন বাজারে পাঠানো হত। সেই মধু এখনও বিভিন্ন দোকানে বিক্রি হচ্ছে আসলের দামে।  কোথায় এবং কোন দোকানে কত মধু রয়েছে, তা ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

বুধবার পূর্ব বর্ধমানের মেমারির চেক পোস্ট সংলগ্ন রেল লাইনের ধারে নকল মধু তৈরির কারখানার হদিশ মেলে। পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ ও জেলা পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখা যৌথভাবে স্থানীয় বাসিন্দা স্বপন বিশ্বাসের বাড়িতে অভিযান চালায়। সেই অভিযানেই নকল মধু কারখানার হদিশ মেলে। তদন্তকারী পুলিশ অফিসাররা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে এই মধু নকল বলেই মনে করা হচ্ছে। মিষ্টির দোকানের গদ ফুটিয়ে তার সঙ্গে গুড় ও এসেন্স মিশিয়ে ছাকনিতে ছেঁকে মধু তৈরি করা হত বলে অভিযোগ। এরসঙ্গে কিছু পরিমানে স্থানীয় মধুও মেশানো হত। এরপর একটি নামি কোম্পানির পাত্রে ভরে তা বাজারে পাঠানো হত। আর এই মধু বিক্রি করে মোটা টাকা কমিশন পেতেন বিক্রেতারা। তবে বেশিরভাগ বিক্রেতাই জানতেন না, নামী সংস্থার আড়ালে চলছে নকল মধু বিক্রি রমরমা চক্র।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই কারখানা থেকে নামি কোম্পানির পাত্রে প্রচুর নকল মধু পাওয়া গিয়েছে। তা পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হচ্ছে। এই চক্রের সঙ্গে কারা কারা জড়িত তা জানার চেষ্টা চলছে। বৃহস্পতিবার ধৃত স্বপন বিশ্বাসকে বর্ধমান আদালতে তোলা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বেশ কয়েক মাস ধরেই এলাকায় এই বেআইনি কারবার চলছিল। দু-একদিন অন্তর গাড়িতে চাপিয়ে এই মধু বিভিন্ন বাজারে পাঠানো হত।  মেমারি, পান্ডুয়া, শক্তিগড়, বর্ধমানের বিভিন্ন দোকানে এই মধু যেত। পুলিশ জানিয়েছে, কোম্পানির লেভেল লাগানো এত পাত্র ওই কারখানায় কিভাবে এল, কোম্পানির কেউ তাতে যুক্ত আছে কিনা বা ওই লেভেল জাল করা হয়েছে কিনা তা দেখা হচ্ছে।

Saradindu Ghosh

First published: March 12, 2020, 5:35 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर