corona virus btn
corona virus btn
Loading

‘ ওঁরা খুব গরীব ছিল, কিন্তু মাথা উচু করে বাঁচত’ -‘শহীদ’ রাজেশের জন্যে মাথা উঁচু বন্ধু ফজলুর  

‘ ওঁরা খুব গরীব ছিল, কিন্তু মাথা উচু করে বাঁচত’ -‘শহীদ’ রাজেশের জন্যে মাথা উঁচু বন্ধু ফজলুর  

সেনা যোগ দেওয়ার সময় ট্রেনে তুলে দিয়ে এসেছিলেন বন্খুকে , সেই ‘শেষ দেখা’ রাজেশের কথা বলতে চোখ ভাসল জলে, বুজে এল গলা

  • Share this:

#বীরভূম: বন্ধু হারালে দুনিয়াটা খাঁ খাঁ করে। হারিয়ে যাওয়ার কথা তো ছিল না। কথা ছিল ডিসেম্বর মাসে সাই কমপ্লেক্সে আবার দেখা হবে। আবার হবে আড্ডা৷ প্রাণবন্ত ছেলেটা যে এভাবে চলে যাবে তা স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি ফজলু নস্কর। ফজলু আর রাজেশ ওরাং। পিঠোপিঠি দু'জনেই বেড়ে উঠেছিল বীরভূমের গ্রামে। যদিও কেউ কাউকে তখন চিনত না। প্রথম দেখা সল্টলেকের সাইয়ের মাঠে। শুরু এক সাথে দৌড়। শুরু এক ঘরে থাকা। শুরু একে অপরকে ভরসা করা। রাজেশ ভীষণ শান্ত ছিল। খালি বাড়ি নিয়ে চিন্তা করত। বলত বোনের পড়াশোনার খরচ উঠবে কিভাবে? বয়স হচ্ছে বাবা-মা'র তাদের ওষুধ জোগাড় থেকে শুরু করে বাকি সব সাহায্য মিলবে কি করে? এ সব নিয়েই রোজ দৌড়তে নামত ছেলেটা। এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো  বলে গেল ফজলু।

রাজেশ সেনার চাকরি পেয়ে কাশ্মীর চলে যায়৷ আর ফজলু এখন কলকাতার খাদ্য ভবনে কাজ করে। এসি থেকে পাখা বা ইলেকট্রনিক পয়েন্ট ঠিক ঠাক কাজ করছে কি না তা দক্ষ হাতে সামলায় ফজলু। সেনায় চাকরি নিয়ে চলে যাওয়ার পরে সেভাবে আর দেখা সাক্ষাৎ হয়নি।

তবে ফজলুর ভাই রাজেশের মতোই সেনায় আছে। কাশ্মীরে পোস্টিং। তার মাধ্যমেই এক বন্ধু খোঁজ পেত আর এক বন্ধুর। ২০১৯ সালে শেষ দেখা। হাওড়া স্টেশনে ভাইকে ট্রেনে তুলে দিতে গিয়েছিল ফজলু। সেখানেই দেখা রাজেশের সাথে। গলা জড়াজড়ি করে চলেছিল ৩ ঘন্টার আড্ডা। তারপর চোখের সামনে থেকে ট্রেন উধাও হয়ে যায়। ছুঁয়ে দেখা আর হল না বন্ধু রাজেশকে। ২০১৪ সাল থেকে একে অপরকে ভালোভাবে চেনে। ফজলুর কথায়, ‘ওরা খুব গরীব ছিল। কিন্তু ছেলেটা মাথা উঁচু করে বাঁচতে জানত। তাই বোধহয় দেশের প্রতি অন্যদের অত্যাচার সহ্য হয়নি। মা-অন্ত প্রাণ ছিল ছেলেটা যে।’ কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় চোখ ভিজে যায় ফজলুর।

খবরটা পেয়েই বীরভূমের বাড়িতে যেতে চেয়েছিল ফজলু। কিন্তু যোগাযোগের কোনও রাস্তা তৈরি করতে পারেনি সে। ফলে ভরসা ছিল মোবাইলে রাখা ছবিগুলো। ইচ্ছা আছে লকডাউন মিটলেই বাড়ি ফিরে রাজেশের বাড়ি যাব। ওর পোশাকগুলো একবার ছুঁয়ে থাকব। যেখানে ওর গায়ের গন্ধ লেগে আছে। মাথা উঁচু করেই ছেলেটা আমাদের ছেড়ে চলে গেল। মন খারাপের মাঝে এটাই ভালো লাগা রাজেশের বন্ধু ফজলুর।

ABIR GHOSHAL

Published by: Debalina Datta
First published: June 24, 2020, 1:53 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर