নৈহাটিতে বিস্ফোরণ কাণ্ডে কোনও উচ্চক্ষমতাশীল বিস্ফোরক ছিল না, মত বিশেষজ্ঞদের

নৈহাটিতে বিস্ফোরণ কাণ্ডে কোনও উচ্চক্ষমতাশীল বিস্ফোরক ছিল না, মত বিশেষজ্ঞদের

৮ জানুয়ারি নৈহাটিতে নদীর পাড়ে সিআইডির বোম স্কোয়াড বোমা নিস্ক্রিয় করতে গিয়ে যে উচ্চ মাত্রার শব্দ তৈরি হয়েছিল , তাতে আশপাশের এলাকা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়

  • Share this:

#নৈহাটি:   ৮  জানুয়ারি নৈহাটিতে নদীর পাড়ে সিআইডির বোম স্কোয়াড বোমা নিস্ক্রিয় করতে গিয়ে যে উচ্চ মাত্রার শব্দ তৈরি হয়েছিল ,তাতে আশপাশের এলাকা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমনকী নদীর ওপারে হাসপাতাল থেকে স্কুল, ঘরবাড়ি  সেই শব্দের কম্পাঙ্কে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বিরোধী পক্ষের বহু মানুষের অভিযোগ , যে বাজি পোড়ানো হয়েছিল তার মধ্যে ছিল ধ্বংসাত্মক এমন উপাদান ,যার ফলে এত বড় বিস্ফোরণ হয়।

এই বিষয়কে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর। কারও এমনও মন্তব্য ছিল , নৈহাটি বিস্ফোরণ খাগড়াগড় কাণ্ডকে মনে করিয়ে দিচ্ছে।বিজ্ঞ মানুষের গভীর আলোচনায় উঠে এসেছিল, বাজিতে হয়তো আরডিএক্স ,এইচ এম এক্স, সি এল ২০ জাতীয় নাশকতামূলক উপকরণ ছিল। বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের দাবি, ' নৈহাটিতে বোমা বিস্ফোরনের ঘটনা  খাগড়াগড়ের ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছে। এই ঘটনার সিবিআই তদন্ত হওয়া উচিত।'  বাম ও কংগ্রেসও ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়।

বিষয়টি নিয়ে যখন চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে, বিশেষজ্ঞরা তখন হাসছেন, প্রতিবাদের কীর্তিকলাপ দেখে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, পুলিশ কোনও বিস্ফোরক  উদ্ধার করলে সেটা নষ্ট করা হয় জ্বালিয়ে । কখনওই ফাটানো হয় না। নিয়ম অনুযায়ী ,৫ থেকে ১০ কেজি বিস্ফোরক একসঙ্গে পোড়ানো যায়। নৈহাটি বিস্ফোরণে, দুটি টাটা সুমো ভর্তি করে বিস্ফোরক এনে, একটি ৭ ফুট গভীর ও ৬ ফিট চওড়া আয়তকার গর্তে প্রায় ২৫০ কেজি থেকে ৩০০ কেজি বাজি রেখে আগুন দেওয়া হয়। ফলে একসঙ্গে সব বাজি ফেটে যায় এবং যে শব্দ তরঙ্গের সৃষ্টি হয় তাতে  ক্ষতিগ্রস্ত  হয় বিস্তীর্ণ এলাকা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বোমা নিস্ক্রিয় করার জন্য আদর্শ ' পিট ও  প্যাড' পদ্ধতি। গর্ত করে বাজি নিস্ক্রিয় করাকে  বলা হয় 'পিট' পদ্ধতি।  মাটির ওপর ৬ ইঞ্চি পুরু আয়তক্ষেত্র করে, তার ওপর বিস্ফোরক পোড়ানো হলে তাকে বলে 'প্যাড' পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে উচ্চক্ষমতাশালী বিস্ফোরক পোড়ানো হয়।   নৈহাটিতে চকোলেট বোমা, শেল ইত্যাদি পোড়ানোর কথা ছিল। কিন্তু সেদিন একসঙ্গে গর্তে বাজি ফেলে আগুন দেওয়ার ফলে খুব জোর বিস্ফোরণ হয়। এখানেই ভুল করে সংশ্লিষ্ট এজেন্সি। তবে বাজিগুলোয় নিঃসন্দেহে কম ক্ষমতা সম্পন্ন বারুদ ছিল, ফলে  বিস্ফোরণের ধোয়ার রং হয় সাদা । যদি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কোনও বিস্ফোরক হত, যেমন আরডিএক্স ইত্যাদি তাহলে ধোয়ার রং হত কালো। বাজির মধ্যে  সামান্যতমও উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন কোনও বিস্ফোরক  ছিল না, তাই ধোয়া কালো হয়নি।   যে গর্তে বোমা নিস্ক্রিয় করা হয়েছিল, তার চারপাশে উঁচু করে বালির বস্তা দিয়ে প্রাচীর করে দিলেই শব্দের কম্পাঙ্ক  নদীর তল দিয়ে এগোতে পারত না।

বিশেষজ্ঞরা জানান,  কম্পাঙ্কের তরঙ্গ তিন প্রকার হয়--

১.এস ( শর্ট ওয়েভ)

২. এল ( লঙ্গিচুডিনাল ওয়েভ)

৩.পি (প্রাইমারি)/টি ( ট্রান্সভার্স ওয়েভ )

হুগলি নদীর ওপারে যে তরঙ্গ গিয়েছিল তাকে টি ওয়েভ বলে, বাংলায় যাকে বলা হয়  তীর্যক তরঙ্গ। নদীর পাড়ে বাজি নিস্ক্রিয় করার ফলে তরঙ্গ  জলতল দিয়ে খুব দ্রুত ও গতি বাড়িয়ে নদীর ওপারে আঘাত হানে।   বিস্ফোরণের ঘটনাতে মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। শব্দের তরঙ্গের আঘাতে বাড়ির কাঠামো থেকে আরম্ভ করে জানালার কাঁচ ভেঙে পড়ে। ঘটনাস্থল থেকে ১ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত ঘর বাড়ির ক্ষতি হয়। অ্যাজবেস্টারের ছাদ  ভেঙে পড়ে। নদীর ওপারে চুঁচুড়াতেও ব্যাপক ক্ষতি হয়।  অনেকেই দাবি করেন, কোনও নাশকতার জিনিস তাড়াতাড়ি নষ্ট করার জন্যই পুলিশ এই কাজ করেছে ।

আসলে সিআইডি-র অসচেতনতার ফলেই এই ঘটনা ঘটেছে। তবে তার পর থেকে পুলিশ মুখে কুলুপ এঁটেছে।  এই মুহূর্তে ওই জায়গাটিকে  ঘিরে রেখেছে পুলিশ। তবে বোম্ব বিশেষজ্ঞদের ধারনা, সাধারণ পেটো জাতীয় বোম্ব ওর মধ্যে থাকতেও পারে। তবে তা কখনওই  উচ্চক্ষমতাশীল এক্সপ্লোসিভ-এর আওতায় পড়ে না। নৈহাটির যেখানে এই আতশ বাজির কারখানা ছিল, সেটা দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে চলছিল। কোনও বৈধ কাগজপত্র ছিল না। সেখানেও যে-কোনও সময়ে বড়সড় কোনও বিস্ফোরণ ঘটতে পারত।  নদীপাড়ে এই বাজি একসঙ্গে ফেটে যা অবস্থা হয়েছে, যদি জনবহুল এলাকাতে বিস্ফোরণ হত, তাহলে অনেক বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিল। পুলিশ এতদিন কেন নিষ্ক্রিয় ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে!

SHANKU SANTRA

First published: 07:21:36 PM Jan 14, 2020
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर