Home /News /south-bengal /
Nandigram: প্রয়াত নন্দীগ্রামের প্রাক্তন বাম বিধায়ক ইলিয়াস মহম্মদ

Nandigram: প্রয়াত নন্দীগ্রামের প্রাক্তন বাম বিধায়ক ইলিয়াস মহম্মদ

প্রয়াত নন্দীগ্রামের প্রাক্তন বাম বিধায়ক

প্রয়াত নন্দীগ্রামের প্রাক্তন বাম বিধায়ক

Nandigram: সম্প্রতি অসুস্থ হওয়ার পর জমি বিক্রি করে তাঁর চিকিৎসা করতে হয়েছে। অসুস্থতা ক্রমশ বাড়তে থাকে। আজ চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই নন্দীগ্রাম হাসপাতালে তাঁর জীবনাবসান হয়েছে।

  • Share this:

#নন্দীগ্রাম: প্রয়াত নন্দীগ্রামের প্রাক্তন বাম বিধায়ক (Nandigram's Ex MLA died) ইলিয়াস মহম্মদ। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর। সোমবার নন্দীগ্রাম হাসপাতালে মৃত্য়ু হয় তাঁর। বেশ কয়েক বছর ধরেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

২০০১ সালে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রথমবার বিধায়ক হন তিনি। ২০০৬ সালে দ্বিতীয়বার বিধায়ক নির্বাচিত হলেও মেয়াদের মাঝপথে স্টিং অপারেশনে আর্থিক অনিয়ম সামনে এলে বিধায়ক পদ হারান।

আরও পড়ুন: মিলবে ২৭.৫২ শতাংশ রিটার্ন, বিনিয়োগের জন্য এই মানি মার্কেট ফান্ড আদর্শ!

গত বেশ কয়েক বছর ধরেই শারিরীক অসুস্থতায় কাবু হয়েছিলেন তিনি। শেষমেশ আজ সকালে নন্দীগ্রাম হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু (Nandigram's Ex MLA died)  হয়েছে।

রাজ্যের প্রথম পঞ্চায়েত ভোটে দাঁড়িয়েই তিনি জয়ী হয়েছিলেন। ১৯৭৮ সালেই তিনি কেন্দেমারি অঞ্চলের পঞ্চায়েত সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৩ সালে নন্দীগ্রাম এক নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি হন। ২০০১-২০০৬ এবং ২০০৬-২০০৯ সাল পর্যন্ত দুফায় ৯ বছর নন্দীগ্রামের বিধায়ক নির্বাচিত হন।

ইলিয়াস মহম্মদ সিপিআই  করতেন। চাকরিও করতেন রাজ্য সরকারের এক দফতরে। চাকরির বয়স তিন বছর হতে না হতেই দলের নির্দেশে তাঁকে দাঁড়িয়ে পড়তে হয়েছিল বিধানসভা ভোটে। ২০০১-এর নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে প্রায় সাড়ে আট হাজার ভোটে জিতেছিলেন ইলিয়াস মহম্মদ। এর পর ২০০৬ সালেও নন্দীগ্রাম তাঁকে বিধানসভায় পাঠিয়েছে। তাঁর সেই বিধায়ক জমানার দ্বিতীয় পর্বেই জমি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে নন্দীগ্রাম। বামফ্রন্ট সরকার নন্দীগ্রামে কেমিক্যাল হাব করবে বলে জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। তাকে ঘিরেই বেড়েছিল উত্তেজনা।

আরও পড়ুন: দেশে জ্বালানি তেল ফুরাচ্ছে, বাড়ন্ত কেরোসিন, চলে যাচ্ছে চোরা কারবারিদের কাছে!

২০০৭-এর ১৪ মার্চ আর ১০ নভেম্বরের ভয়াবহ দখল-পুনর্দখলকে ঘিরে নন্দীগ্রাম তখন অগ্নিগর্ভ। সে সময়ই কলকাতার এমএলএ হোস্টেলে প্রথম ইলিয়াস মহম্মদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন এক চিত্র সাংবাদিক। তিনি যে একটি সংবাদমাধ্যমের কর্মী সেটা ইলিয়াস জানতেন না।  ইলিয়াসের কাছে তিনি দাবি করেছিলেন, নন্দীগ্রামের ওই পরিস্থিতিতে একটি এনজিও সেখানে উন্নয়নের কাজ করতে চেয়েছিল। সেই কাজের জন্য প্রয়োজন ছিল বিধায়কের একটি শংসাপত্র। সেটি নিতেই এসেছিলেন ওই চিত্র সাংবাদিক। অভিযোগ, শংসাপত্র হাতে পেতেই বিধায়কের পকেটে ১০ হাজার টাকা গুঁজে দেন তিনি। যদিও ছবিতে দেখা গিয়েছিল প্রথমে ইলিয়াস বাধা দিয়েছিলেন। এরপরে উন্নয়নের নামে দলের ফান্ডে টাকা দেওয়ার জন্য জোরাজুরি শুরু করেন ওই চিত্র সাংবাদিক। ইলিয়াসের কথায়, ‘‘পকেটে টাকা জোর করে ঢোকানোর সময় তার ছবি তুলে নেওয়া হয়। আর সেই ছবিই বিপত্তি ঘটায়।’’ এর পরেই বিধানসভায় স্বাধিকার ভঙ্গের অভিযোগ তোলা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। কিছু দিন পরেই বিধায়ক পদ, এমনকী, দলের সদস্য পদও ছেড়ে দিতে হয় ইলিয়াস মহম্মদকে।

এরপর সামান্য কটা টাকা পেনশন পেতেন। তাতে কোনও ভাবে পেট চলে যেতো। কিন্তু, সম্প্রতি অসুস্থ হওয়ার পর জমি বিক্রি করে তাঁর চিকিত্সা করতে হয়েছে। অসুস্থতা ক্রমশ বাড়তে থাকে। আজ চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই নন্দীগ্রাম হাসপাতালে তাঁর জীবনাবসান হয়েছে।

Published by:Rachana Majumder
First published:

Tags: Nandigram

পরবর্তী খবর