পরণে পিপিই কিট, মুখে মাস্ক, পিঠে অক্সিজেন সিলিন্ডার! কোরনা যুদ্ধে নামলেন বৃহন্নলারা

এখনও সমাজ এঁদের সাদা মনে গ্রহণ করে না । কিন্তু সমাজের সকলের জন্য পিপিই কিট পরে তাঁরাই ঝাঁপিয়ে পড়লেন বিপদের দিনে ।

এখনও সমাজ এঁদের সাদা মনে গ্রহণ করে না । কিন্তু সমাজের সকলের জন্য পিপিই কিট পরে তাঁরাই ঝাঁপিয়ে পড়লেন বিপদের দিনে ।

  • Share this:

SHANKU SANTRA

#হুগলি: হুগলি জেলার ত্রিবেণী, বলাগড়, এলাকাজুড়ে পিপিই কিট পরে, কখনও অক্সিজেন সিলিন্ডার, খাবার নিয়ে দৌড়াচ্ছে বাইক। ব্যস্ততার মধ্যে তাঁদের পরিচয় জানার সুযোগ হয় না সবার। এই রকমই পিপিই কিট পরা একটি মোটরসাইকেল এসে দাঁড়াল মগরা থানার সামনে, চায়ের দোকানে। মুখের মাক্স ,মাথার টুপিটা খুলতেই চেনা মুখটা সামনে ভেসে উঠলো।  চা দোকানদার মুচকি হেসে বললেন, 'তোমরা অক্সিজেন সাপ্লাই করো নাকি?' চা -দোকানদার থেকে আরম্ভ করে বাসস্ট্যান্ডের অনেক দোকানদার জানেন, ওঁরা বৃহন্নলা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ট্রেন কিংবা বাসে এঁদেরকে ভিক্ষা করতে দেখা যায়। এ ভাবে বেশ ভালই চলছিল। করোনা সংক্রমণের ফলে লকডাউনে, এঁদের রোজগার শিকেয় উঠেছে।

হুগলি জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সবুজ সৈনিক দলের থেকে এঁরা খাবার পাচ্ছে। করোনাতে এখন মানুষ বিধ্বস্ত। সকলকে সাহায্য করতে বৃহন্নলাদের চল্লিশ জনের একটি দল রাস্তায় নেমে পড়েছে।  এই বৃহন্নলাদের নেত্রী অত্রি কর। তিনি পেশায় প্রাথমিক স্কুল শিক্ষিকা। সকাল হলেই করোনা রোগীদের বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিচ্ছে। যা প্রয়োজন, তাইই জুগিয়ে দিচ্ছেন এঁরা। অত্রী জানান, বৃহন্নলাদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের লিঙ্গ বৈষম্য থাকে। কোনও হিজড়ে যদি বাসে কিংবা ট্রেনের আসনে বসে থাকে, সচরাচর সেই পাশের আসনটিতে কেউ বসতে চান না। মনের কথা থেকে আরম্ভ করে, সমাজের উন্নতি, অবনতি কোন কিছুই তাঁদের সঙ্গে কেউ ভাগ করে নেন না। যার ফলে বৃহন্নলাকে আলাদা হয়ে অন্যত্র থাকতে হয়।

অত্রি বলছিলেন, ওঁরা এই সমাজের জন্য কিছু করতে চায়। রোজগার নেই। তবুও ঝাঁপিয়ে পড়েছেন অত্রিরা। নিজেরা কোনও ভাবেই ভাবছেন না, তাঁরাও সংক্রমিত হতে পারেন। দিন রাত, যখনই খবর আসছে মোটরসাইকেলে, কাঁধে অক্সিজেন সিলিন্ডার, দৌড়ে চলেছেন করোনা রোগীর বাড়িতে। বলতে বলতে অত্রির চোখের কোনায় জল। কুন্তলদা ছিল বলে ' আমরা সমাজে বাঁচার অন্য একটা স্বাদ পাচ্ছি। আর দু’টো খেয়ে বেঁচে আছে আমারা, বৃহন্নলারা।'

Published by:Simli Raha
First published: