অমিত শাহকে প্রণাম, তৃণমূল ইতিবৃত্ত সম্পূর্ণ করে বিজেপিতে শুভেন্দু অধিকারী

অমিত শাহকে প্রণাম, তৃণমূল ইতিবৃত্ত সম্পূর্ণ করে বিজেপিতে শুভেন্দু অধিকারী

শুভেন্দুর বিজেপিতে যোগ দেওয়ার মুহূর্ত। ছবি-আবীর ঘোষাল।

২১ বছর তৃণমূল দলের সুখ-দুঃখের সঙ্গী থাকার পর আজ থেকে তিনি বিজেপির নেতা, বিজেপির মুখ।

  • Share this:

    #কলকাতা: বৃত্তটা সম্পূর্ণ হল। এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। শাহি মঞ্চে পদ্মাসনে থিতু হতে দেখা গেল শুভেন্দু অধিকারীকে। ২১ বছর তৃণমূল দলের সুখ-দুঃখের সঙ্গী থাকার পর আজ থেকে তিনি বিজেপির নেতা, বিজেপির মুখ।

    এ দিন মঞ্চে  শুভেন্দুর আসন ছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পাশেই। তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে, পুষ্পস্তবক দিয়ে বরণ করে নেন সাংসদ দেবশ্রী চৌধুরী। শুভেন্দুর হাত ধরে ৯ বিধায়ক এবং ১ জন সাংসদ আজ বিজেপিতে যোগ দিলেন। অমিত শাহকে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন শুভেন্দু  অধিকারী।

    এ দিন তৃণমূল স্তরের কর্মীদের উদ্দেশ্যে একটি ছয় পাতার চিঠি লেখেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে উঠে আসে তাঁর অভিমানের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ। তিনি মনে করেন তৃণমূলে পচন ধরেছে। দলের প্রতিষ্ঠাতা কর্মীরাই অপমানুত। ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছে দল। মানুষের সঙ্গে বেইমানি করতে চান না বলেই দল পাল্টাচ্ছেন তিনি। নাম না করে প্ৰশান্ত কিশোরের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি।

    রাজনৈতিক মহলের মত, এই খোলাচিঠি একদিকে 'ওপেন কল', নতুন করে জনসাধারণের মধ্যে অনুগামী তৈরি করার চেষ্টা। অন্য দিকে, সমস্ত ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও গেরুয়া শিবিরে কেন যাচ্ছেন তিনি, এই যে প্রশ্ন নানামহলে উঠছে, তার কৈফয়তও এই চিঠি।  তৃণমূল কর্মীদেরও খোলা আহ্বান জানাচ্ছেন, তাঁর ছাতার তলায় আসার।

    গত ১৫ ডিসেম্বর বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেন শুভেন্দু অধিকরী। তার আগে মন্ত্রিত্ব ছেড়েছিলেন ২৭ নভেম্বর। শুভেন্দু তৃণমূলে থাকবেন না যাবেন এই নিয়ে রহস্য খুলেছে পরতে। ডিসেম্বরের প্রথম দিন শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠক করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে হাজির ছিলেন সৌগত রায়, ভোটকুশলী প্রশান্তকিশোর, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়রা। তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় নিজে সাংবাদিকদের ডেকে জানান, বৈঠক অত্যন্ত ইতিবাচক। সব পক্ষ একটা সাধারণ জায়গায় এসেছে, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে। আপাতত সব সমস্যা মিটে গিয়েছে। তৃণমূলেই থাকছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাল কাটে ঠিক একদিন পরেই। শুভেন্দু বলেন, যৌথ প্রেস কনফারেন্সের শর্ত মানেননি দল। তাই আর একসঙ্গে পথ চলা সম্ভব নয়। হাসি চওড়া হয় বিরোধীদের, রাতারাতি শাসক দলের তুমুল আত্মবিশ্বাসী ছবিটা টাল খেয়ে যায়, আর হাসি চওড়া হয় বিজেপির। তারপর থেকে রাজ্যবাসী দিন গুণেছে। আজ এই খবরে সেই একাঙ্ক নাটকের পরিসমাপ্তি।

    এই নাটকের সমাপ্তি লগ্নে তৃণমূল স্পষ্ট করেই বলছে শুভেন্দু বি‌শ্বাসঘাতকতা করছে। ইডি-সিবিআই-এর ভয়ে তাঁর এই দলবদল।

    Published by:Arka Deb
    First published: