corona virus btn
corona virus btn
Loading

লকডাউনে ওয়ারেন হেস্টিংসের আমলে ফিরে গেল বাঙালির অতি প্রিয় সমুদ্রসৈকত দিঘা

লকডাউনে ওয়ারেন হেস্টিংসের আমলে ফিরে গেল বাঙালির অতি প্রিয় সমুদ্রসৈকত দিঘা
  • Share this:

#দিঘা: ব্রিটিশ ভারতের বড়লাট এলেন, দেখলেন আর প্রেমে পড়লেন। স্ত্রীকে চিঠি লিখে বললেন, চমৎকার জায়গা। একে বিখ্যাত করে দিয়ে যাব আমি। নরিকুল, বীরকুল, ব্রাইটন অফ বেঙ্গল - জায়গাটার নাম বারেবারে বদলেছে। লকডাউনে যেন সেই ওয়ারেন হেস্টিংসের আমলেই ফিরে গিয়েছে বাঙালির সাধের দিঘা।

বাঙালির নিজস্ব সমুদ্র সৈকত। উইকএন্ড ডেস্টিনেশন। কম পয়সায়, কম সময়ে বেড়ানো। প্রেমের প্রথম আউটডোর। আর কত কি। তাই বোধহয় দিঘা সবসময় জমজমাট । ছুটির দিনের ধার ধারে না দিঘা। উপলক্ষ্য থাক বা না থাক। দিঘায় ভিড় থাকবেই। চেনা সেই ছবিটা হঠাৎই অচেনা। এ কোন দিঘা? সমুদ্রও যেন এখন কোয়ারান্টিনে কাটাচ্ছে যেন! মৃত্যুর ৫৬ বছর পর কি আবার ফিরে এল ফ্রাঙ্ক স্মেইথের দিঘা? দিঘার প্রথম বাসিন্দা তো তিনিই। নাকি দিঘার বুকে নেমে এসেছেন ওয়ারেন হেস্টিংস? হাতির পিঠে চেপে অচেনা, অজানা সৈকতে এসেছিলেন হেস্টিংস। তখন নাম বীরকূল। সেটা ১৭৭৪ সাল। শুনশান সি-বিচ। সমুদ্রের গর্জন ছাড়া অন্য কোনও শব্দ নেই। অন্য সময় পর্যটকের হই-হুল্লোড়ে ঢাকা পড়ে যায় যে শব্দ। এখন যেন প্রাণভরে নিঃশ্বাস নিচ্ছে ঢেউয়ের দল।

সমুদ্রের পাড় ছুঁয়ে নৌকাগুলোও অনেকদিন জলে ভাসে না। জীবনের সব প্রয়োজনই হারিয়ে গিয়েছে যেন। লকডাউন এফেক্ট। ঝাউবনও শুনশান। বেশ কয়েকদিন হয়ে গেল, বাইরের কেউই ঢোকেনি। সারি সারি গাছ-গুলো কি ভাবছে কে জানে?

পর্যটনশূন্য, মানবশূন্য দিঘা। বন্ধ দোকানপাট। নেই কেনাবেচা, গাড়ির লাইন। ২৪৬ বছর আগে এমন দিঘাকে দেখেই কি উল্লসিত হয়েছিলেন ওয়ারেন হেস্টিংস। স্ত্রীকে লেখেন, দুর্দান্ত একটা সৈকতের খোঁজ পেয়েছি। সমুদ্রে যেন হ্যান্ডশেক করতে আসছে। ঠিক ব্রাইটনের মতো। জায়গাটা বিখ্যাত করে দিয়ে যাব আমি । - ওয়ারেন হেস্টিংস, ১৭৭৪ সাল

হেস্টিংসের তৈরি গ্রীষ্মাবাস কয়েক বছরেই সমুদ্রে তলিয়ে যায়। তথন দিঘা আবার জনশূন্য, বিচ্ছিন্ন।

- ১৯২৩ সালে দিঘায় আসেন ব্রিটিশ ব্যবসায়ী জন ফ্রাঙ্ক স্মেইথ

- সমুদ্রের পাড়ে সাড়ে ১১ একর জমিতে তৈরি করেন রানসউইক হাউস

- তিনিই দিঘার প্রথম আবাসিক

স্বাধীনতার পর সপ্তাহে একটা করে চিঠি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীকে পাঠাতেন স্মেইথ সাহেব। কিছুটা বাধ্য হয়েই দিঘাতে পরিকাঠামো তৈরির কাজ শুরুতে রাজি হতে হয় বিধানচন্দ্র রায়কে। ১৯৬২ সালে জওহরলাল নেহেরু জেলায় আসার পর কাজের গতি বাড়ে। ১৭৭৪ থেকে ১৯৬২। এই ১৮৮ বছরে দিঘা কেমন ছিল? বড়-বড় বাড়ি, অফিস আর হোটেলকে বাদ দিলে দিঘা এখন যেমন, তখন তেমনই ছিল।

Published by: Bangla Editor
First published: May 10, 2020, 12:50 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर