corona virus btn
corona virus btn
Loading

৮ বছর বয়সেই যোগ ব্যায়ামের এশিয়াডে সুযোগ, পৌষালীর স্বপ্নপূরণে বাধা অর্থ

৮ বছর বয়সেই যোগ ব্যায়ামের এশিয়াডে সুযোগ, পৌষালীর স্বপ্নপূরণে বাধা অর্থ
৮ বছরেই যোগ ব্যায়ামের এশিয়াডে যাওয়ার সুযোগ পৌষালীর সামনে৷

ইতিমধ্যেই জাতীয় পর্যায়ের সাফল্যের জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার ছাড়পত্র মিলেছে। সামনেই এশিয়াড।

  • Share this:

#দত্তপুকুর: মাত্র সাড়ে চার বছর বয়সে শুরু যোগ ব্যায়ামের অনুশীলন। এখন বয়স আট। এর মধ্যেই এশিয়াডের মতো বড় মাপের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার যোগ্যতা অর্জন করে ফেলেছে দত্তপুকুরের পৌষালী কংসবণিক। কিন্তু সেই প্রতিযোগিতায় আর্থিক কারণে আদেও পৌষালী যেতে পারবে কিনা সেই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তার বাবা মার।

চার বছর বয়সে দিদির যোগ ব্যায়াম করা দেখে জেদ ধরে সেও শিখবে যোগা। ওই বয়সে কোনও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পৌষালীকে ভর্তি নিতে চাইনি। কিন্তু তার জেদ দেখে স্থানীয় একটি ক্লাব পৌষালীকে ভর্তি নেয়। শুরু থেকেই যে কোনও ব্যায়াম নিখুঁত ভাবে করতে পারতো ওই একরত্তি মেয়ে। পৌষালীর প্রশিক্ষক বিপ্লব আইচের বলেন, 'যোগ ব্যায়ামে উন্নতি করতে গেলে শারীরিক নমনীয়তা ভীষণ প্রয়োজন। পৌষালীর শারীরিক নমনীয়তা যেন ঈশ্বর প্রদত্ত।'

স্থানীয় পর্যায়ে অনেক প্রতিযোগিতায় সফল হলেও নিয়মের জন্য আট বছর বয়সের আগে কোনও রাজ্য স্তরের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারছিল না পৌষালী। এই বছর প্রথম সুুযোগ আসতেই রাজ্য স্তরের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে দ্বিতীয় হয় দত্তপুকুরের চন্দ্রপুরের এই মেয়ে। এরপর যোগা ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার সাব জুনিয়র পর্যায়ে প্রথম বার অংশগ্রহণ করেই চ্যাম্পিয়ন হয় পৌষালী। করোনা অতিমারির জন্য এবার এই প্রতিযোগিতা হয় অনলাইনে। কিন্তু অনলাইনে অংশগ্রহণ করার জন্য একটি মোবাইল জোগাড় করতেই হিমশিম খেতে হয় পৌষালীর বাবা স্বরজিৎ কংসবণিককে। তিনি বলেন, 'লক ডাউনের জন্য দীর্ঘদিন ঠিকমতো কাজ নেই। যেটুকু রোজগার তা দু' বেলা খাবার জোগাড় করতেই সব চলে যাচ্ছে। ফলে মেয়েটার জন্য ইচ্ছে থাকলেও পেরে উঠছি না।'

ইতিমধ্যেই জাতীয় পর্যায়ের সাফল্যের জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার ছাড়পত্র মিলেছে। সামনেই এশিয়াড। সেটাই এখন পাখির চোখ পৌষালীর। যদিও করোনার কারণে এবার প্রতিযোগিতাটি কোথায় আয়োজিত হবে তা এখনও পর্যন্ত ঠিক হয়নি। তবে পৌষালী প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখতে চায়। রোজ চলছে পাঁচ থেকে ছ'ঘণ্টা অনুশীলন। কিন্তু তার প্রস্তুতিতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পারিবারিক আর্থিক অবস্থা। করোনার জন্য বন্ধ রয়েছে অনুশীলন কেন্দ্র। অনলাইনে অনুশীলন করাচ্ছেন প্রশিক্ষকরা। আর্থিক কারণে সেটা ঠিক মতো করে উঠতে পারছেনা পৌষালী।

সামনেই ফেডারেশন কাপ। তারপর এশিয়াড।  বিদেশে অংশগ্রহণ করার জন্য যদি মেয়েকে নিয়ে যেতে হয় তাহলে কোথা থেকে আসবে খরচের টাক? স্বরজিৎ কংসবণিককে বলেন, 'আমার স্বপ্ন মেয়ে একদিন অলিম্পিকে নামুক দেশের হয়ে। কিন্তু আমার যা অবস্থা তাতে সেই স্বপ্ন কতটা সত্যি হবে সেটা ভেবেই আমার রাতে ঘুম হয়় না।'

Soujan Mondal

Published by: Debamoy Ghosh
First published: August 4, 2020, 10:14 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर