corona virus btn
corona virus btn
Loading

বাড়িতে শুরু বিয়ের উদ্যোগ, সটান থানায় হাজির ষোড়শী

বাড়িতে শুরু বিয়ের উদ্যোগ, সটান থানায় হাজির ষোড়শী
photo: child marriage

এখনই বিয়ের পিঁড়িতে বসলে সব স্বপ্ন যে শেষ হয়ে যাবে।

  • Share this:

#উত্তর ২৪পরগনা: বাড়ির লোকেরা বিয়ের তোড়জোড় করছেন। পাত্রপক্ষ খুব শিগগির দেখতেও আসবে। কিন্তু সে চায় আরও পড়াশোনা করতে। তাই, নিজের বিয়ে রুখতে সাতসকালে থানায় হাজির উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের বিদ্যাসাগর বাণীভবন হাইস্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। কন্যাশ্রীর বঙ্গে এও এক বেনজির লড়াই। অশোকনগরের মানিকনগরে বাড়ি প্রতিমা ব্যাপারীর (নাম পরিবর্তিত)। বাবা কৃষ্ণ ব্যাপারী পেশায় রাজমিস্ত্রি। দুই ভাইয়ের পরে প্রতিমা সবার ছোট। সে অশোকনগরের বিদ্যাসাগর বাণীভবন স্কুলে একদশ শ্রেণির কলা শাখায় পড়ে। তার ইচ্ছা আরও পড়াশোনা করে ভাল চাকরি পাওয়ার। কিন্তু বাদ সাধলেন পরিবারের লোকেরা। অভাবের সংসারে তাঁরা তাকে বিয়ে দিয়ে হালকা হতে চান। ক'দিন ধরে বাড়িতে তা নিয়ে চাপা গুঞ্জন চলছিল। তা কিছুটা আঁচও করেছিল প্রতিমাও। অবশেষে বুধবার রাতে মা অঞ্জলি ব্যাপারি ও দাদা সুমন প্রতিমাকে সাফ জানিয়ে দিলেন, তার বিয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। খুব শিগগির পাত্রপক্ষ তাকে দেখত আসবে। প্রতিমার বয়স এখন সবে ষোলো। আঠারো হতে এখনও দু'বছর বাকি। তা ছাড়া সে যে আরও পড়াশোনা করতে চায়, বড় হয়ে চাকরি করার স্বপ্ন তার দু'চোখ জুড়ে। এখনই বিয়ের পিঁড়িতে বসলে সব স্বপ্ন যে শেষ হয়ে যাবে। বুধবার সারারাত প্রতিমা ঘুমায়নি। রাত পোহাতেই বৃহস্পতিবার সকালে টিউশন পড়তে যাওয়ার কথা বলে সে সটান হাজির অশোকনগর থানায়। থানার বড়বাবু অয়ন চক্রবর্তী সব কথা শুনে তড়িঘড়ি ফোনে খবর দিলেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মনোজ ঘোষকে। মনোজবাবু পত্রপাঠ ছুটলেন থানায়। সেখানে গিয়ে ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলার পর সিদ্ধান্ত নিলেন প্রতিমার অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলার। পুলিশ বাড়ির লোকেদের ডেকে পাঠাল। থানায় এলেন মা অঞ্জলি ও দাদা সুজন। প্রধান শিক্ষক ও থানার বড়বাবু অভিভাবকদের বোঝালেন, আঠারো বছরের আগে মেয়ের বিয়ে দেওয়া আইনত অপরাধ। প্রতিমাকে আরও পড়াশোনা করতে হবে৷ নিজেদের ভুল বুঝতে পারেন প্রতিমার অভিভাবকেরা৷ এভাবেই নিজের বিয়ে রুখে দিল আরও এক নাবালিকা৷

First published: August 22, 2019, 6:37 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर