নিউ নর্মালে নার্সারি গড়ে আয়, নতুন রোজগারের পথ দেখাচ্ছেন পূর্ব বর্ধমানের যুবক

নিউ নর্মালে নার্সারি গড়ে আয়, নতুন রোজগারের পথ দেখাচ্ছেন পূর্ব বর্ধমানের যুবক

নিউ নর্মালে ফুলের নার্সারি করে আয়ের দিশা দেখাচ্ছেন পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের বিদেশ ধারা

নিউ নর্মালে ফুলের নার্সারি করে আয়ের দিশা দেখাচ্ছেন পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের বিদেশ ধারা

  • Share this:

#বর্ধমান: নিউ নর্মালে ফুলের নার্সারি করে আয়ের দিশা দেখাচ্ছেন পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের বিদেশ ধারা। লকডাউনে কাজ হারিয়েছেন অনেকেই। হঠাৎ উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কীভাবে সংসার চলবে তা বুঝে উঠতে পারছেন না এমন বাসিন্দার সংখ্যা কম নয়। লকডাউনে কাজ হারানো সেইসব ব্যক্তিদের অনেকেই এখন বিকল্প কাজ খুঁজে নিচ্ছেন। নিউ নর্মালে  নতুন কাজ শুরু করে ফের সংসারের সকলের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন তাদের কেউ কেউ। ফুলের নার্সারি করেও যে ভালভাবে সংসার চালানো যায়, সেই পথ দেখাচ্ছেন পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের যুবক।

ভাতার রেল স্টেশনের ধারে ফুলের নার্সারি করেছিলেন বিদেশ ধারা। আশা ছিল, সেই নার্সারি তাঁকে উপার্জনের নতুন দিশা দেখাবে। সেই নার্সারি করে দারুন সাফল্য অর্জন করেছেন, বর্তমানে যাঁরা লকডাউনে কাজ হারিয়ে ঘরে বসে রয়েছেন, তাঁরাও ফুলের নার্সারি করে ভালভাবে আয় করতে পারবেন বলে জানাচ্ছেন আত্মপ্রত্যয়ী এই যুবক। তিনি জানান, ইচ্ছে করলেই মাসে কম করে কুড়ি হাজার টাকা আয় করা যেতে পারে ফুলের নার্সারি থেকে। এ'জন্য আগ্রহী পুরুষ মহিলাদের নিখরচায় হাতে কলমে পাঠ দিতেও রাজি তিনি। কোন সময় কোথা থেকে গাছ বা ফুলের চারা আনতে হবে সেসব ঠিকানাও জানিয়ে দেওয়ার জন্য তিনি প্রস্তুত।

ইদানীং মরশুমি ফুল বা দেশি বিদেশি বাহারি গাছে ঘর সাজানোর ঝোঁক বেড়েছে। লকডাউনের সময় বাড়িতে থাকার কারণে ছাদের বাগানে বা কিচেন গার্ডেনে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন অনেকেই। ছোট্ট ব্যালকনি সাজিয়ে তুলছেন ডালিয়া চন্দ্রমল্লিকা, অ্যাস্টার, পিটুনিয়ায়। ফলে ফুল-ফল-সবজির চারা বা বিভিন্ন বাহারি ইনডোর প্ল্যান্টের চাহিদা বেড়েছে এখন অনেকটাই। তাই নার্সারি করে আয়ের পথ খুঁজে নেওয়া এখন বেশ লাভজনক পেশা বলেই মনে করছেন বর্তমানে এই কাজের সঙ্গে যুক্তরা। বিদেশ বাবু বললেন, দিন দিন বেকারত্বের সংখ্যা বাড়ছে। সরকারি চাকরির জন্য হা-পিত্যেশ করে বসে না থেকে বেকার যুবক যুবতীরা ফুলের নার্সারি করে স্বনির্ভর হয়ে উঠতেই পারেন। এই পেশায় পুঁজি লাগে কম। গাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নেই।  চাহিদাও এখন ব্যাপক।

বিদেশ বাবুর নার্সারিতে ৪৪ রকম ফুলের চারা রয়েছে। শীত পড়তেই সে সবের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। জানালেন, চারা থেকে শুরু করে টবে ফুল ফোটা গাছ, সবেরই ব্যাপক চাহিদা। বছরের বাকি সময়েও গোলাপ, জবা-সহ নানান ফুলগাছ, সবজি চারা, বাহারি গাছের চাহিদা থাকেই। বর্ষার সময় ফলের গাছের বিক্রি বাড়ে অনেকটাই। তাছাড়া পেটের খিদের পাশাপাশি গাছ পরিচর্যা করে মনেরও খিদে মেটে।

SARADINDU GHOSH

Published by:Rukmini Mazumder
First published: