DVC | Mamata Banerjee: সত্যিই বাংলায় ম্যান মেড বন্যা? মমতার অভিযোগের কী জবাব দিল ডিভিসি

মমতার অভিযোগের জবাব দিল ডিভিসি৷

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ মানতে নারাজ ডিভিসি কর্তৃপক্ষ৷ তাদের পাল্টা দাবি, শুধু ডিভিসি-র ছাড়া জলের জন্য নয়, বরং একটানা অস্বাভাবাবিক বৃষ্টিপাতের কারণেই দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে (DVC | Mamata Banerjee)৷

  • Share this:

    #কলকাতা: ডিভিসি রাজ্য সরকারকে না জানিয়েই জল ছাড়াতেই রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে৷ এ দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছেও একই অভিযোগ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ যদিও মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগ মানতে নারাজ ডিভিসি কর্তৃপক্ষ৷ তাদের পাল্টা দাবি, শুধু ডিভিসি-র ছাড়া জলের জন্য নয়, বরং একটানা অস্বাভাবাবিক বৃষ্টিপাতের কারণেই দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে৷ এর পাশাপাশি, মাইথন, পাঞ্চেতের মতো জলাধারগুলিতে ড্রেজিংয়ের জন্য এই মুহূর্তে ৫০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন৷ ফলে কেন্দ্রীয় জল কমিশনের তরফেই সেই প্রস্তাব খারিজ করে দেওয়া হয়েছে৷

    ডিভিসি-র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর সত্যব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'আমরা প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ কিউসেক জল ধরে রেখেছি৷ যতটা সম্ভব জল ধরে রাখা হচ্ছে৷ কিন্তু গত কয়েকদিনে বাঁধের উপরে গত কয়েকদিনে ১০০ মিলিমিটার এবং বাঁধের নীচের অববাহিকায় দেড়শো মিলিটার বৃষ্টি হয়েছে৷ আমরা সর্বাধিক একদিনে ১ লক্ষ ১৪ হাজার কিউসেক জল ছেড়েছি৷ তার আগেকম জলই ছাড়া হয়েছে৷ কিন্তু বাঁধ থেকে ছাড়া জলের সঙ্গে বৃষ্টির অতিরিক্ত জল যুক্ত হয়েই বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে৷'

    মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য সরকারের অভিযোগ, ডিভিসি-র জলাধারগুলিতে পলি জমে গিয়ে সেগুলির ধারণ ক্ষমতা কমে গিয়েছে৷ সেই অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে নিয়েও পাল্টা যুক্তি দিয়েছেন ডিভিসি-র ওই শীর্ষ কর্তা৷ সত্যব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'ড্রেজিংয়ের প্রস্তাব দিয়ে আমরা কেন্দ্রীয় জল কমিশনকে চিঠি দিয়েছিলাম৷ কিন্তু দেখা যায়, জলাধারের পলি পরিষ্কার করতেই প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে৷ আর্থিক ভাবে এই প্রস্তাব প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে এবং বাণিজ্যিক ভাবে লাভজনক নয় বলেই তা খারিজ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় জল কমিশন৷ তাছাড়া পাঁচ বছর পর আবার এই খরচ করতে হবে৷ তাছাড়া এত বড় বাঁধে পলি সংস্কারের কাজ হওয়ার উদাহরণও পাওয়া যায়নি৷ সেখানে নতুন বাঁধ তৈরি করতে খরচ দশ হাজার কোটি টাকা৷ আর ড্রেজিং করলে এই বিপুল পরিমাণ পলি রাখার জন্য প্রচুর জমির প্রয়োজন৷' ডিভিসি-র ওই কর্তা জানিয়েছেন, যে লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ডিভিসি তৈরি করা হয়েছিল, তার ৩৬ শতাংশ ধারণ ক্ষমতা এখন জলাধারগুলির রয়েছে৷ বাঁধ গুলির জল যে পথে বেরোয়,  ডিভিসি-র সেই সেচ খাল এবং জলাধারের সঙ্গে যুক্ত নদীগুলিতেও পলি জমে জল ধারণ ক্ষমতা কমছে বলে স্বীকার করে নিয়েছেন সত্যব্রতবাবু৷ বন্যা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা পুরোপুরি যে ডিভিসি-র হাতে নেই, সেকথাও স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি৷

    তবে রাজ্যকে না জানিয়ে জল ছাড়ার অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন ডিভিসি-র কর্তা৷ তিনি জানিয়েছেন, জল ছাড়া নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ডিভিসি-র নেই৷ জলাধার থেকে কত পরিমাণ জল কখন ছাড়া হবে তা ঠিক করার জন্য একটি কমিটি রয়েছে৷ কেন্দ্রীয় জল কমিশনের সদস্য ছাড়াও ডিভিসি-র চিফ ইঞ্জিনিয়ার এবং পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের সেচ দফতরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার সেই কমিটির সদস্য৷ ওই কমিটি যখন, যেমন নির্দেশ দেয় সেই অনুযায়ী জলাধারের গেট খোলা হয়৷

    সত্যব্রত বাবু আরও জানান, প্রাথমিক ভাবে মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধারের আয়ু ধরা হয়েছিল ৭৫ বছর৷ পরে সংস্কারকাজ করে সেই আয়ু বাড়িয়ে ১১০ বছর করা হয়েছে৷ ফলে ২০৬৪ সাল পর্যন্ত এই জলাধারগুলির কোনও সমস্যা হবে না৷

    যদিও ডিভিসি-র এই দাবি মানতে নারাজ রাজ্যের সেচ মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র৷ তাঁর পাল্টা চ্যালেঞ্জ, জল ছাড়ার সময় রাজ্যের দুই আধিকারিককে উপস্থিত থাকার অনুমতি দিক ডিভিসি৷ তাহলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে তারা কী পরিমাণ জল ছাড়ছে৷ সৌমেনবাবু বলেন, 'ডিভিসি বার বার এই অসত্য দাবি করে৷ আমরা বহুবার বলেছি আপনারা দিনে ৫০ হাজার কিউসেক করে জল ছাড়ুন৷ কিন্তু সেখানে তারা একদিনে ১ লক্ষ ৫২ হাজার কিউসেক জল ছেড়েছে৷ আমরা তো বলছি, জল ছাড়ার সময়ে আমাদের দু' জন আধিকারিককে আপনারা থাকতে দিন৷ তাহলেই সবটা স্পষ্ট হয়ে যাবে৷' রাজ্যের সেচমন্ত্রীর গুরুতর অভিযোগ, 'কেন্দ্রের অঙ্গুলি হেলনেই এমনটা হচ্ছে৷ রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করতেই ডিভিসি এ ভাবে না জানিয়ে অতিরিক্ত জল ছাড়ছে৷' সেচমন্ত্রীর আরও প্রশ্ন, বিপুল খরচের যুক্তি দিয়ে কেন ডিভিসি-র জলাধারগুলির পলি পরিষ্কার করছে না কেন্দ্রীয় সরকার? সৌমেন মহাপাত্র বলেন, 'পলি পরিষ্কারের জন্য খরচ করে লাভদায়ক হবে না বলে কেন বছরের পর বছর তার খেসারত কেন দেবেন বাংলার মানুষ?' রাজ্যকে জানিয়ে জল ছাড়ার দাবি জানিয়ে ফের ডিভিসি-কে এ দিনই চিঠি দিয়েছে রাজ্য সেচ দফতর৷

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: