মহিষাসুরমর্দিনী নয়, দাস পরিবারে হয় হরগৌরির আরাধনা

মহিষাসুরমর্দিনী নয়, দাস পরিবারে হয় হরগৌরির আরাধনা

মহিষাসুরমর্দিনী নয়, দাস পরিবারে হয় হরগৌরির আরাধনা

  • Share this:

#বর্ধমান: ঐতিহ্য, বনেদিয়ানা, অর্থ। অভাব ছিল না কিছুরই। অভাব ছিল পুত্রসন্তানের। পুত্রলাভে যজ্ঞ। সেই সময়েই তৈরি করেন দুর্গা মন্দির। শুরু দুর্গাপুজো। পুত্রের নাম রাখেন দুর্গাচারণ। গল্প হোক বা বাস্তব। বর্ধমানের দাস বাড়ির এটাই বিশ্বাস। আর প্রতিমা এখানে স্বামী, সন্তান নিয়ে ঘরোয়া।

বর্ধমানের দামোদর সংলগ্ন সদরঘাট । এক সময়ের বাণিজ্যনগরী।  ব্যবসা করতে বাঁকুড়ার কোতলপুর থেকে বর্ধমানে চলে আসে দাস পরিবার । বর্ধমানের খাজা আনোয়ার বেড় এলাকায় তৈরি হয় বিশাল জমিদারবাড়ি। সেখানেই পুজো শুরু করেন জমিদার ব্রজেন্দ্রলাল দাস। তবে পুজোর শুরুতেই জড়িয়ে নানা গল্প।

সুখ, স্বাচ্ছন্দ, প্রভাব, প্রতিপত্তি।  সবই ছিল জমিদারের।  ছিল দুই মেয়ে।  কিন্তু ছেলে ছিল না।  বংশে বাতি দেবে কে ?  তাই বিশাল যজ্ঞের আয়োজন। বেনারস থেকে আসে পুরোহিত। তারপরেরটা সেই গল্পের এক্সটেইনশন। স্বপ্নাদেশ এবং দুর্গা দালান তৈরির  নির্দেশ। এক ছেলে হয় । নাম রাখেন দুর্গাচরণ। দুর্গাপুজোর শুরুও তখন থেকেই।

পনের ফুট উঁচু কাঠের দরজা।  দরজা পেরিয়ে বিশাল দুর্গাদালান। দালান জোড়া কারুকাজ। অনেকটাই আজ ক্ষয়ে গেছে।  চারপাশে খিলান। টানা বারান্দা। পরিবারের মহিলাদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা। গোপন পথ ধরে সোজা পৌঁছে যেতেন দোতলার বারান্দায়। দুর্গা ছিল ঘরোয়া।  তাই মহিষাশুরমর্দিনী নয়, দাস পরিবারে হয় হরগৌরির আরাধনা। স্বামী, ছেলেমেয়ে নিয়ে একেবারে ঘরোয়া মেয়ে।

ষোড়শপ্রচারে দুর্গার আরাধনা। বলি এখন বন্ধ। পুজো ঘিরে আজও নানা মিথ।  সন্ধিপুজোয় নাকি দুর্গার পাশে দেখা মেলে বিশালাকার এক মথের। পুজোর পর আর দেখা যায় না তাকে। পুজোর সময়ে আকাশে পাক খায় শঙ্খচিল।

পুজোর পাঁচদিন ঠাকুরদালানে বসত যাত্রার আসর। দোতলার খড়খড়ির আড়ালে আড্ডা মগ্ন থাকতেন মহিলামহল।  ভিয়েনে হরেক রকম মিস্টি তৈরির তোড়জোড়। তিনটি আলাদা ভোগঘরে ভোগ রান্না। বিশাল ঝাড়বাতিতে ঝলমলে দুর্গাদালান।

সবই আজ ইতিহাস। চুরি হয়ে গেছে ঝাড়লণ্ঠন। ভেঙে গেছে দুর্গাদালানের অনেকাংশ। জামকজমকে টান পড়েছে।  তবু পুজোর কদিন পরিবারের সদস্য, বন্ধু , পাড়া প্রতিবেশীদের ভিড়ে যেন জীবন ফিরে পায় বর্ধমানের দাসবাড়ি।

First published: 04:25:20 PM Aug 25, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर