ঠান্ডায় জলে ভয়, ধরা হচ্ছে না বোরলি, মন খারাপ গজলডোবার

ঠান্ডায় জলে ভয়, ধরা হচ্ছে না বোরলি, মন খারাপ গজলডোবার

প্রচন্ড ঠান্ডার কারণে তিস্তায় নামতে পারছেন না কেউই। ফলে তিস্তার বোরলি মিলছে না কোনও খাবারের দোকানেই।

  • Share this:

#গজলডোবা: উত্তরবঙ্গের মন খারাপ হলে কুয়াশা হয়, ব্যাকুল হলে হয় তিস্তা। তারপর পাতে যেই বোরলি, সব মনখারাপ একছুটে পালায়। উত্তরের রুপোলি শস্য বোরলি মানেই চেটেপুটে, স্বাদে আহ্লাদে৷  কিন্তু  এই বোরলিই যে পাতে পৌঁছোচ্ছে না৷ কারণ, ঠান্ডায় জলে নামতেই চাইছেন না কেউ৷ তাই বোরলি ধরার লোকই নেই, হেঁশেলে পৌঁছবে  কী করে?

শিলিগুড়ির কাছে তিস্তা ব্য়ারাজের পাশে নতুন বেড়ানোর ঠিকানা গজলডোবা৷  সেখানেই ভোরের আলো৷ নদী, জঙ্গল ঘেরা  এই গজলডোবায় মানুষ গিয়েই বোরলিকে খোঁজেন৷  সাজানো গজলডোবায় প্রতি খাবারের দোকানের বিজ্ঞাপনে রুপোলি শস্য়ের ছবি৷ কিন্তু, যে বোরলির  টানে ছুটে যাওয়া, তারই নেই জোগান। রকমারি বোরলি মাছের পদ পাওয়া ভারী মুশকিল৷  ব্য়বসায়ীরা বলছেন, পাহাড় থেকে নেমে আসা বরফ জল মিশছে নদীতে৷ আর ওই ঠান্ডা জলে নেমে কয়েকঘণ্টা ধরে মাছ ধরার কষ্ট অনেকটাই৷ কেউই নদীতে নামতে চাইছেন না৷ তাই, মাছপ্রিয় বাঙালির চাহিদা থাকলেও বোরলির জোগান নেই৷

গজলডোবায় ‘বোরলি’ নামের একটি রেস্তোরাঁও তৈরি হয়েছে। রেস্তোরাঁর মালিক পরিমল বসু বললেন, ‘এই সময় প্রচুর মানুষ আসেন গজলডোবায় আসেন। কিন্তু ১  কেজি মাছও পেতে হচ্ছে অনেক কষ্ট করে। আগে থেকে যাঁরা বুকিং করে আসছেন তাঁদেরও বোরলির পদ খাওয়ানো যাচ্ছে না৷ তবুও অল্প অল্প করে দিয়েই সবার মন রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে৷’

সাধারণত পর্যটকদের যাতায়াত বাড়লে প্রত্যেকদিন প্রায় ৬ কেজি বোরলি লাগে এই রেস্তোরাঁয়। ব্যারাজের পাশের ফুডস্টলগুলিতেও কমবেশি ২ -৩ কেজি করে এই মাছ প্রয়োজন হয়। কেজি প্রতি মাছের দাম ১১০০ টাকা। জোগান কমে যাওয়ায় দাম গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১৭০০ টাকায়।ব্যবসায়ী প্রীতম বসু বললেন ‘ টাকা দিতে কোনও আপত্তি নেই আমাদের। কিন্তু মাছটা তো পেতে হবে। সেটাই তো আমরা পাচ্ছিনা।’

মৎস্য়জীবীরা এখন তিস্তার পাড়ে ডাব বিক্রি করছেন। তাঁদেরই একজন গৌর বললেন, ‘মাছ আমরাই ধরি। কিন্তু এবার ঠান্ডায় ঘন্টার পর ঘন্টা জলে নেমে থাকা সম্ভব নয়। আমাদের কয়েকজন জলে নেমে যতটা পাচ্ছেন মাছ দিচ্ছেন। ঠান্ডা কমুক তারপর মাছ পাওয়া যাবে।’

জলঢাকা, সংকোশ নদীতেও বোরলি পাওয়া যায়। তবে স্বাদের দিক থেকে তিস্তার মাছের সবচেয়ে বেশি চাহিদা। শীতকালে পাওয়া যায় যে মাছ, সেই মাছ প্রবল শীতের কারণেই অমিল। জলে দূষণ বাড়ায় তিস্তা, তোর্সা থেকে হারিয়ে যাচ্ছিল বোরলি৷ পরীক্ষামূলকভাবে, নদীর সঙ্গেই পুকুর, বাড়ির ছাদে কৃত্রিম জলাশয়েও বোরলি চাষ করা হয়৷ দেখা যায়, দিব্যি বংশ বিস্তার করে বিলুপ্তপ্রায় তালিকা থেকে নিজের নাম মুছে ফেলেছে উত্তরের  সুস্বাদু মাছ। মৎস্য দফতরের উদ্যোগে কোচবিহার জেলায় বোরলির বাণিজ্যিক চাষ চলছে।  মৎস্য দফতরের আশা আগামীদিনে দক্ষিণবঙ্গেও  হতে পারে উত্তরের রুপোলি শস্যের চাষ। তবে গজলডোবা এখন রসনা মেটাচ্ছে বোরলি ছাড়াই৷

ABIR GHOSHAL 

First published: January 25, 2020, 2:50 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर