লকডাউনে কর্মহীন, বাড়িতে অসুস্থ বাবা-মা-ছেলে ! সপরিবারে স্বেচ্ছা-মৃত্যুর আবেদন ব্যবসায়ীর

বৃদ্ধ মা,বাবা, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে স্বেচ্ছা মৃত্যুর আবেদন জানিয়ে প্রশাসনকে চিঠি লিখলেন লকডাউনে কর্মহীন এক ব্যবসায়ী

বৃদ্ধ মা,বাবা, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে স্বেচ্ছা মৃত্যুর আবেদন জানিয়ে প্রশাসনকে চিঠি লিখলেন লকডাউনে কর্মহীন এক ব্যবসায়ী

  • Share this:

#ডোমজুড়: বৃদ্ধ মা,বাবা, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে  স্বেচ্ছা-মৃত্যুর আবেদন জানিয়ে প্রশাসনকে চিঠি লিখলেন লকডাউনে কর্মহীন এক পর্যটন-পরিবহণ ব্যবসায়ী । ডোমজুড়ের বড়পুকুরের বাসিন্দা শৈবাল দত্তের এহেন আবেদন পেয়েই গোটা পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন ডোমজুড়ের বিডিও রাজা ভৌমিক।

কেন এমন আর্জি ? শৈবাল দত্তের দাবি,  বাবা এক সময় জুটমিলে কাজ করতেন।  জুটমিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেই সময় পাওয়া টাকা দিয়ে বাড়ি বানান। তাঁর জমানো টাকা বলতে আর কিছুই নেই। শৈবালবাবু প্রথমে পর্যটকদের বাস চালাতেন, পরে নিজেই একটি বাস কিনে ব্যবসা শুরু করেন। কিন্তু ব্যবসা ঠিকঠাক না চলায় একসময় বাস বিক্রি করে দিতে হয়। এদিকে বাস কিনতে গিয়ে বাড়ি বন্ধক রেখে ব্যাঙ্ক লোন নিয়েছিলেন। ১৪ বছরের ছেলে মানসিক ভারসাম্যহীন, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে বাবাও হৃদরোগে অসুস্থ হয়ে পড়েন। গত  কয়েক বছর ধরে মাও কিডনির রোগে ভুগতে থাকেন,  পরিবারের তিনজনের চিকিৎসা চালাতে হিমশিম খেতে হয় শৈবালবাবুকে। তার উপর টানা লকডাউনে সবরকম রোজগার ছিল বন্ধ।   ওষুধ না পাওয়ায় প্রায় মৃত্যুমুখে বাবা, ছোট মেয়ের পড়াশোনাও বন্ধ!  এরই মধ্যে ব্যাংকের কিস্তি দিতে না পাড়ায় বাড়ি দখলের চিঠি আসে!

চারদিক থেকে আশঙ্কার মেঘ ঘিরে ধরতে থাকে গোটা পরিবারকে | বেশ কয়েকবার প্রশাসনের সাহায্য  চেয়ে আবেদন করেন। সেভাবে সাহায্য না পেলেও দু'বেলা খাওয়ার যোগানের ব্যবস্থা হয় । কিন্তু বাবা-মা-ছেলের চিকিৎসার টাকা কোথা থেকে আসবে? প্রতি মাসে শুধুমাত্র ওষুধের জন্য খরচ হয় প্রায় ৬-৮ হাজার টাকা! কে দেবে এত টাকা ? তাই গোটা পরিবারের কাছে সপরিবারে স্বেচ্ছা-মৃত্যুর সিদ্ধান্তের কথা জানান শৈবালবাবু, আবেদনে রাজি হয়ে যান মা বাবা ও স্ত্রী | শৈবাল বাবু জানান, '' নিজে মরে গেলে হয়তো আমি বেঁচে যেতাম কিন্তু গোটা পরিবার রাস্তায় এসে দাঁড়াত! তাই ঠিক করেছিলাম সবাই মিলেই মরে যাব।''

শৈবালবাবুর চিঠি পেয়ে যোগযোগ করেন ডোমজুড় ব্লকার বি ডি ও রাজা ভৌমিক । সোমবার সন্ধ্যায় রাজা বাবুর উদ্যোগে শৈবালবাবুর বাবাকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয় গোটা পরিবারকে ।

Debasish Chakraborty

Published by:Rukmini Mazumder
First published: