পথকুকুরদের আশ্রয় দিয়ে প্রতিবেশীদের রোষের পড়ে স্বেচ্ছ্বামৃত্যুর আবেদন মহিলার

পথকুকুরদের আশ্রয় দিয়ে প্রতিবেশীদের রোষের পড়ে স্বেচ্ছ্বামৃত্যুর আবেদন মহিলার

১২ টি কুকুরকে সন্তান স্নেহে পালন করাই কাল। কুকুর চিৎকার করলেই জুটছে প্রতিবেশীদে অত্যাচার ৷

  • Share this:

RAJARSHI ROY

#বারাসত: প্রতিবেশীর রোষ থেকে কুকুরগুলোকে বাঁচাতে জেলা শাসকের কাছে স্বেচ্ছা মৃত্যুর আবেদন।

অবলা পশুকে ভালবাসা এখানে অপরাধ। পরিণতিতে যুদ্ধে জয় হতে চলেছে সমষ্টিগত বাধার। কার্যত পশুপ্রেমী মহিলাকে পর্যুদুস্ত করেছে সেই সমষ্টিগত বাধা। উপায়ান্তর না দেখে জেলাশাসকের কাছে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানিয়েছেন উত্তর চব্বিশ পরগনার বারাসতের পশুপ্রেমী তরুণী ইন্দ্রাণী ভৌমিকের। মানবিক হতে চেয়ে অত্যাচারিত হয়ে স্বেচ্ছামৃত্যু চাইতে হচ্ছে তাঁকে।  মানবিকতা আর সমাজ ব্যবস্থার দ্বন্দ্বে পরাজিত হয়ে সামনে এসেছে নির্মম অমানবিকতা। যার ফলশ্রুতিতে অসহায় এক মহিলার  স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন।

কুকুরকে সন্তান স্নেহে পালন করার মাশুল হিসেবে বেছে নিতে হচ্ছে স্বেচ্ছামৃত্যুর পথ। ঘটনার পটভূমি বারাসতের নপাড়া পোদ্দার গলি। অভিযোগ, কর্মস্থলে থাকা দাদার অনুপস্থিতির কারণে কুকুরকে লালন-পালন করার জন্য  অসহায় মহিলার ওপরে চলছে অত্যাচার। প্রতিবেশীদের মানসিক ও কার্যত শারীরিক অত্যাচারের সামনে পড়ে চূড়ান্ত ভাবে ভেঙে পড়ে আত্মহননের পথ বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বছর পঁয়তাল্লিশের ইন্দ্রাণী ভৌমিক। জেলা শাসকের কাছে মঙ্গলবারই তিনি স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানিয়েছেন।

ইন্দ্রাণী ভৌমিকের বক্তব্য ও অভিযোগ, তিনি ১২টি কুকুরকে  অপত্য স্নেহে নিজ গৃহে প্রতিপালন করেন । কুকুররা মাঝে মধ্যেই  চিৎকার করে । আর সেই অছিলা দেখিয়ে প্রতিবেশী শ্রীদাম দে ও কিছু প্রতিবেশী তাঁকে মানসিক অত্যাচার করছেন। তাঁদের দাবী, কুকুরদের তাড়াতে হবে। নাহলে তাঁকে ভিটেমাটি থেকে উৎখাত করা হবে। কুকুরদের না তাড়াতে চাওয়ায় তাঁকে উৎখাতের যে চেষ্টা চলছে তার বিরুদ্ধে তিনি অসহায়। পুলিশকে জানিয়েও ফল মেলেনি । স্থানীয় বাম কাউন্সিলর রত্না ভট্টাচার্যও প্রতিবেশীদের সুরে সুর মিলিয়ে তাঁকে চাপ দিচ্ছেন বলে তাঁর অভিযোগ । অভিযোগ, কুকুরের শব্দ শুনলেই ইন্দ্রাণী দেবীকে জল ছুড়ে দিচ্ছেন প্রতিবেশীরা ৷ সঙ্গে রয়েছে অশ্রাব্য গালিগালাজও চলছে ।

4404_IMG-20200121-WA0000

সবমিলিয়ে নিপীড়ন এমন জায়গায় যে আত্মহনন ছাড়া পথ নেই মনে করে জেলাশাসকের দপ্তরে আত্মহত্যার অধিকার চেয়েছেন ইন্দ্রাণী ভৌমিক । তাঁর পাশে কিছু পশুপ্রেমী মানুষ ও পৌরসভার প্রধান ও উপপ্রধানকে পেয়েছেন । বারাসত পৌরসভার উপপ্রধান অশনি মুখোপাধ্যায় দ্বর্থহীন ভাষায় ঘটনাটির নিন্দা করেছেন। পশুপ্রেমী সংস্থার পক্ষে অর্পিতা চৌধুরী জানিয়ে রেখেছেন, ইন্দ্রাণী ভৌমিক কোনও রকম সুরাহার পথ না পেলে তাঁরা পথে নামবেন । কিন্তু পথ দেখছেন না পশুপ্রেমী ইন্দ্রাণী ভৌমিক । তিনি নিশ্চিত নন প্রোমোটিং নাকি অন্য কী কারণে তাঁর ওপরে এই নিপীড়ন । কিন্তু সহ্যসীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার আত্মহত্যা ছাড়া কোনও বিকল্প পথ খোলা নেই  বলেই মনে করছেন তিনি।

First published: January 21, 2020, 9:34 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर