বর্ধমানের কোথায় রয়েছে শ্রীচৈতন্যের পদচিহ্ন জানেন ?

বর্ধমানের কোথায় রয়েছে শ্রীচৈতন্যের পদচিহ্ন জানেন ?

প্রতিদিনই এই মঠে ভিড় করেন দূর দূরান্ত থেকে আসা ভক্তরা। কলরবহীন শান্ত স্নিগ্ধ পরিবেশে কাটান দীর্ঘক্ষণ।

  • Share this:

#বর্ধমান: গ্রামের শেষ প্রান্তে হিংস্র জন্তুতে ভরা জঙ্গলের মাঝে বসে কঠোর সাধনা করেছিলেন যবন হরিদাস। তাঁর সাধনায় খুশি হয়ে পুরী যাবার পথে সেই গ্রামে সপার্ষদ এসেছিলেন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু। আজও সেখানে রয়েছে শ্রীচৈতন্যের পদচিহ্ন। প্রতিদিনই এই মঠে ভিড় করেন দূর দূরান্ত থেকে আসা ভক্তরা। কলরবহীন শান্ত স্নিগ্ধ পরিবেশে কাটান দীর্ঘক্ষণ।

পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের কুলীনগ্রাম। শ্রীচৈতন্যের জন্মেরও আগে অবিভক্ত বাংলার মধ্যে কৃষ্ণনামের ঢেউ উঠেছিল এই কুলীন গ্রামে। সেই গ্রামের সাধারণ মানুষ  খুবই কষ্ট দুঃখ দুর্দশার  মধ্যে আছেন বলে খবর পান শ্রীচৈতন্য। সেই খবর পেয়ে বিচলিত হয়ে সেখানের বাসিন্দাদের পাশে থাকতে ভক্ত  যবন হরিদাসকে কুলীনগ্রামে পাঠান শ্রীচৈতন্য।

সে সময় অহিন্দুদের যবন বলা হতো। তারা এক প্রকার অস্পৃশ্য ছিলেন। ১৪৫০ সালে হরিদাস ঠাকুরের জন্ম বাংলাদেশের এক ব্রাহ্মণ পরিবারে।  ছোটবেলায় তাঁর বাবা মা মারা যান। বাবার সুহৃদ হাবিবুল্লা কাজির কাছে বড় হয় হরিদাস। সেই জন্যই যবন হরিদাস নামে পরিচিত হন তিনি। বাল্য অবস্থাতেই তাঁর মনে বৈরাগ্য দেখা দেয়। তিনি পালক পিতার সঙ্গ ত্যাগ করে বেনাপোলের কাছে কুটীর তৈরি করে বৈষ্ণব ধর্ম গ্রহণ করে সাধনা শুরু করেন। কিন্তু স্থানীয় জমিদার রাম চন্দ্র খানের অত্যাচারে বেনাপোল ছাড়তে বাধ্য হন হরিদাস। পরিব্রাজনকালে তিনি নদীয়ায় গিয়ে শ্রীচৈতন্যের সাহচর্যে আসেন। তাঁরই নির্দেশে কুলীনগ্রাম যান হরিদাস।

কুলীন গ্রামের শেষ প্রান্তে সেই হরিদাস ঠাকুরের পাটবাড়ি। শিক্ষক সমীর ঘোষাল বললেন, এখানেই থাকতেন যবন হরিদাস। এটি হরিদাস গৌড়িও মঠ নামেও পরিচিত। আবার হরিদাসের আখড়াও বলা হয়। এখানেই অগ্রহায়ণ মাসে এসে নাম ভজনা শুরু করেন যবন হরিদাস। গাছের ফল জুটলে ভালো। না হলে দিঘির জল পান করেই দিন কাটাতেন তিনি। তাঁর সাধনায় খুশি হয়ে পুরী যাওয়ার পথে সপারিষদ কুলীনগ্রামে আসেন শ্রীচৈতন্য। তাঁর সঙ্গেই পুরী চলে যান হরিদাস ঠাকুর। তিনি যে গাছের তলায় বসেছিলেন সেই গাছ, সেখানে তাঁর পদচিহ্ন আজও আছে। রয়েছে হরিদাসের দিঘি।প্রতিদিন নামসংকীর্তন হয় এই মঠে। এই পুণ্য ভূমিতে প্রতিদিনই  আসেন ভক্তরা। নাম গান শোনেন। প্রসাদ গ্রহণ করেন।

Saradindu Ghosh

First published: February 29, 2020, 5:12 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर