অস্ত্রোপচারের আগে হাসপাতালে গিয়ে প্রৌঢ়ের হাতে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড তুলে দিল প্রশাসন

অস্ত্রোপচারের আগে হাসপাতালে গিয়ে প্রৌঢ়ের হাতে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড তুলে দিল প্রশাসন
স্বাস্থ্যসাথী কার্ড পেতে আবেদন জানিয়েছিলেন দুয়ারে সরকার শিবিরে। তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থার কথা জানতে পেরে দ্রুত তাঁর হাতে স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড তুলে দিতে উদ্যোগী হলেন পূর্ব বর্ধমানের জেলা শাসক মহম্মদ এনাউর রহমান।

স্বাস্থ্যসাথী কার্ড পেতে আবেদন জানিয়েছিলেন দুয়ারে সরকার শিবিরে। তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থার কথা জানতে পেরে দ্রুত তাঁর হাতে স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড তুলে দিতে উদ্যোগী হলেন পূর্ব বর্ধমানের জেলা শাসক মহম্মদ এনাউর রহমান।

  • Share this:

#বর্ধমান: পড়ে গিয়ে কোমরে গুরুতর আঘাত পেয়ে শয্যাশায়ী একপ্রৌঢ়। সম্বলহীন ওই ব্যক্তি এক সপ্তাহ ধরে ভর্তি বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। আগামী বুধবার তাঁর কোমরে অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা। তিনি স্বাস্থ্যসাথী কার্ড পেতে আবেদন জানিয়েছিলেন দুয়ারে সরকার শিবিরে। তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থার কথা জানতে পেরে দ্রুত তাঁর হাতে স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড তুলে দিতে উদ্যোগী হলেন পূর্ব বর্ধমানের জেলা শাসক মহম্মদ এনাউর রহমান।

জেলাশাসকের নির্দেশে সোমবার প্রশাসনের স্বাস্থ্যসাথী বিভাগের কর্মীরা হাসপাতালের এমার্জেন্সি বিভাগে গিয়ে ছবি তুলে সঙ্গে সঙ্গে প্রৌঢ়ের হাতে তুলে দিলেন স্বাস্থ্যসাথী কার্ড। প্রশাসনের এই তৎপরতায় খুশি ওই ব্যক্তি ও তাঁর আত্মীয় পরিজনরা।

বর্ধমান শহরের শ্যামলালের বাসিন্দা প্রদ্যুৎকুমার বর্মন। ৬৪ বছর বয়সী প্রদ্যুৎবাবু বাড়িতে একাই থাকেন। গত ১ ফেব্রুয়ারি বাড়িতে পড়ে গিয়ে কোমরে, পায়ে গুরুতর আঘাত পান তিনি। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে সেই খবর পান তাঁর বোন অপর্ণা সামন্ত। কলকাতার বেহালায় থাকেন তিনি। সেখান থেকে এসে প্রদ্যুৎবাবুকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এমার্জেন্সি বিভাগে ভর্তি করেন তিনি। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, প্রদ্যুৎবাবুর কোমরে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। আগামী বুধবার সেই অপারেশন হওয়ার কথা।


প্রদ্যুৎবাবুর আত্মীয়-পরিজনদের মারফত সেই খবর জানতে পারেন পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক মহম্মদ এনাউর রহমান। ওই ব্যক্তি যাতে দ্রুত স্বাস্থ্যসাথী কার্ড হাতে পান তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন জেলাশাসক। জেলাশাসকের নির্দেশ পেয়ে সোমবার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা হাসপাতালে গিয়ে তাঁর ছবি তোলেন। এরপর ওই ব্যক্তির হাতে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড তুলে দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা জানান, ওই ব্যক্তি স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের জন্য দুয়ারে সরকার শিবিরে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু এই শারীরিক অবস্থায় তাঁর পক্ষে ছবি তুলতে যাওয়া সম্ভব নয়। তাছাড়া তিনি যাতে প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসা পান তা নিশ্চিত করতেই জেলাশাসকের নির্দেশে দ্রুততার সঙ্গে তাঁর হাতে স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড তুলে দেওয়া হল।

জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে খুশি প্রদ্যুৎবাবু ও তাঁর আত্মীয় পরিজনেরা। কার্ড হাতে পেয়ে প্রদ্যুৎ বাবু বলেন, "আমার জন্য প্রশাসন যে এই উদ্যোগ নেবে তা ভেবে উঠতে পারিনি। আমার এই অসহায় অবস্থায় জেলা প্রশাসন পাশে আছে ভেবে ভালো লাগছে।" তাঁর বোন অপর্ণা দেবী বলেন, "দাদাকে অপারেশনের পরও হয়তো বেশ কিছুদিন শয্যাশায়ী থাকতে হবে। তাই তিনি কিভাবে স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড পাবেন তা নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। জেলা প্রশাসন উদ্যোগ নিয়ে হাসপাতালে এসে ছবি তুলে সঙ্গে সঙ্গে কার্ড দিয়ে যাবে তা ভেবে উঠতে পারিনি। এই তৎপরতার জন্য জেলাশাসক এবং প্রশাসনের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।"

Published by:Swaralipi Dasgupta
First published: