সাংসদ বিধায়ক তহবিলের অ্যাম্বুল্যান্সগুলি কী অবস্থায় আছে, খোঁজ নিতে তৎপর জেলা প্রশাসন

সাংসদ বিধায়ক তহবিলের অ্যাম্বুল্যান্সগুলি কী অবস্থায় আছে, খোঁজ নিতে তৎপর জেলা প্রশাসন
অ্যাম্বুলেন্সগুলি কোনটি কোন গ্রাম পঞ্চায়েত বা ক্লাবে কি অবস্থায় আছে, সেগুলি কিভাবে চলে তা বিস্তারিতভাবে জানতে চেয়েছেন জেলাশাসক।

অ্যাম্বুলেন্সগুলি কোনটি কোন গ্রাম পঞ্চায়েত বা ক্লাবে কি অবস্থায় আছে, সেগুলি কিভাবে চলে তা বিস্তারিতভাবে জানতে চেয়েছেন জেলাশাসক।

  • Share this:

    #বর্ধমান:নিউজ 18 বাংলার খবরের জেরে এবার বর্ধমান জেলায় সরকারি অনুদানে কেনা বিভিন্ন ক্লাব বা সংস্থার হাতে থাকা অ্যাম্বুল্যান্সগুলির হাল-হকিকত জানতে  তৎপর হলো পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন। জেলায় বিধায়ক সাংসদ তহবিলের টাকায় কেনা অ্যাম্বুল্যান্সের সংখ্যা শতাধিক। সেই অ্যাম্বুল্যান্সগুলি কোনটি কোন গ্রাম পঞ্চায়েত বা ক্লাবে কি অবস্থায় আছে, সেগুলি কিভাবে চলে তা বিস্তারিতভাবে জানতে চেয়েছেন জেলাশাসক। এ ব্যাপারে জেলা পরিকল্পনা দফতর কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।

    কয়েকদিন আগে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে রোগী নিয়ে যাওয়া একটি অ্যাম্বুল্যান্স নিউজ এইট্টিন বাংলার খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিল। পূর্ব বর্ধমানের রায়নার হিজলনা গ্রাম পঞ্চায়েতের ওই অ্যাম্বুল্যান্সে অনেক বৈধ কাগজপত্রই পাওয়া যায়নি। ফিট সার্টিফিকেট থেকে শুরু করে বিমা গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাগজই ছিলনা।  আবার ওই অ্যাম্বুল্যান্সে অক্সিজেন থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় অনেক পরিকাঠামোও নেই ।

    পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসকের নামে রেজিস্ট্রেশন থাকা অ্যাম্বুল্যান্সের এই হাল হওয়ায় রাজ্য জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। জানা যায়, ঠিকেয় চলছে ওই অ্যাম্বুল্যান্স। মাসিক ভাড়ার চুক্তিতে এক ব্যক্তিকে ওই অ্যাম্বুলান্স ঠিকা দিয়ে দিয়েছে পঞ্চায়েত। এর মধ্য দিয়ে সরকারি অনুদানের টাকায় কেনা অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে দালালচক্রের প্রবণতা দেখা দিতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল।সেই বিতর্ক দেখা দিতেই অ্যাম্বুলেন্সগুলির বর্তমান অবস্থা জানাতে বলা হয়েছে জেলা পরিকল্পনা দপ্তরকে। সাংসদ ও বিধায়ক তহবিলের টাকায় কেনা জেলায় কতগুলি অ্যাম্বুল্যান্স রয়েছে,সেই অ্যাম্বুল্যান্সের কতগুলি পঞ্চায়েতে বা ক্লাবের হাতে রয়েছে,সাংসদ বিধায়ক তহবিলের টাকায় কেনা অ্যাম্বুল্যান্স কোনও ব্যক্তির হাতে চলে গিয়েছে কিনা, সেগুলোর পরিকাঠামোগত কি কি ঘাটতি রয়েছে, কাগজপত্র যথাযথ রয়েছে কিনা সেসব বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়েছে।


    সরকারি অর্থে কেনা এইসব অ্যাম্বুল্যান্স এলাকার দুঃস্থ, দরিদ্র, পিছিয়ে পড়া বাসিন্দাদের সুবিধার জন্যই দেওয়া হয়ে থাকে। এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজনে ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে উঠে সেগুলি কাজ করবে এই ভাবনা থেকেই অ্যাম্বুল্যান্সগুলি দেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, বাজারের তুলনায় ১০০-২০০ টাকা কমে সেগুলি ভাড়া দেওয়া হয়। এলাকার গরিব মানুষের সেভাবে কোনও উপকারে আসে না অ্যাম্বুল্যান্সগুলি। পূর্ব বর্ধমানের বহু পঞ্চায়েতে এইরকম অ্যাম্বুল্যান্স রয়েছে। অভিযোগ, অনেক পঞ্চায়েত মাসিক চুক্তিতে সেইসব অ্যাম্বুল্যান্স বিভিন্ন ব্যক্তিকে ঠিকা দিয়ে দিয়েছে। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধারা বলেন, এই জেলায় সরকারি অনুদানে কেনা 143 টি আম্বুলান্স রয়েছে। তারমধ্যে 112 টি এখন চালু রয়েছে। অনিয়মের অভিযোগ পাইনি। তেমন অভিযোগ এলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    Published by:Dolon Chattopadhyay
    First published: