• Home
  • »
  • News
  • »
  • south-bengal
  • »
  • Deucha-Pachami: শিল্প আসলে সন্তানের পড়াশোনা হবে, আশায় ডেউচা-পাচামি

Deucha-Pachami: শিল্প আসলে সন্তানের পড়াশোনা হবে, আশায় ডেউচা-পাচামি

পুলিশের উদ্যোগে দেউচা পাচামির স্থানীয় শিশুদের পঠনপাঠনের ব্যবস্থা৷

পুলিশের উদ্যোগে দেউচা পাচামির স্থানীয় শিশুদের পঠনপাঠনের ব্যবস্থা৷

ডেউচা-পাচামির একটা বড় অংশ জুড়ে এক ফসলী জমি। যেখানে চাষের জমি তার সব কোণেই পাথর ভাঙার আওয়াজ, ক্রাশারের ধুলো এসে ধানের শীষে বসে থাকে (Deucha-Pachami)৷

  • Share this:

#সিউড়ি: শীতের সকালে চারিদিকে কেমন একটা ঝাপসা হয়ে আসে গ্রামগুলিতে। সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া আওয়াজ সন্ধ্যা নামলে শেষ হয়। আর সেই পাথর ভাঙা আওয়াজের মধ্যে দিয়েই এগোতে থাকে বীরভূমের ডেউচা-পাচামির জীবন যাত্রা (Deucha Pachami)।

গ্রামে খনি হবে, এই কথা কানে আসায় এখন ঘরে ঘরে একটাই আলোচনা, আগামী দিনে তাদের কি হবে? কতটা ক্ষতিপূরণ, কোথায় পুনর্বাসন মিলবে? এই সব আলোচনার মধ্যেও এলাকার মহিলারা চাইছেন, আর যাই হোক পড়াশোনার সুযোগ পাক তাঁদের সন্তানরা। তাহলে অন্তত জমি-বাড়ি ছেড়ে নতুন জায়গায় চলে গিয়েও সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত থাকবে।

আরও পড়ুন: দুয়ারে রেশন, সঙ্গে কর্মসংস্থান! প্রকল্পের উদ্বোধনে দিশা দেখালেন মমতা

ডেউচা-পাচামির একটা বড় অংশ জুড়ে এক ফসলী জমি। যেখানে চাষের জমি তার সব কোণেই পাথর ভাঙার আওয়াজ, ক্রাশারের ধুলো এসে ধানের শীষে বসে থাকে৷ তাই ক্রাশারের জীবন পেরিয়ে সন্তানের চিন্তায় বুঁদ হিংলো, ভাঁড়কাটা, দেওয়ানগঞ্জ, হরিণশিঙার মানুষ। স্বামী ক্রাশারে,  স্ত্রী ৫ বিঘা জমিতে ভাগ চাষি হিসেবে কাজ করে।

গ্রামের বাসিন্দা ফুল মারিয়া বলেন, "এখানে হয়তো উপার্জনের সুযোগ আছে৷ কিন্তু সন্তানের ভবিষ্যত নেই৷ পাথর খাদানে কাজ করে আর কী হয়? আস্তে আস্তে শরীর খারাপ হতে শুরু করবে। এর চেয়ে সরকার আমাদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিয়ে জমি নিয়ে নিক। আমাদের ছেলে মেয়েদের ভালো করে পড়াশোনা শেখানোর ব্যবস্থা করে দিক। তাতে ওদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত থাকবে।"

আরও পড়ুন: ডেউচা-পাচামিতে গড়ে উঠছে বড় স্বপ্ন! জোরকদমে কাজ শুরু, শিল্প নগরীর আশায় বুক বেঁধেছে বীরভূম...

একই কথা বলছেন পূর্ণিমা। তাঁর খেদ, 'ছোট মেয়েকে স্কুলে পাঠাতে ভয় পাই৷ গ্রাম থেকে দূরের অন্য গ্রামের স্কুলে পড়াশোনা করতে যেতে হয়।  কিন্তু রাস্তা খারাপ। প্রচন্ড ধুলো ওড়ে।' তার মধ্যে যে ভাবে তীব্র গতিতে ডাম্পার চলাচল করে তাতে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করেন পূর্ণিমারা।

আর সেই কারণেই বীরভূম জেলা পুলিশের উদ্যোগে, মহম্মদবাজার থানা গ্রামে গ্রামে 'পাঠশালা' চালাচ্ছে। সেখানে গ্রামের মাঝে একটা নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে আসা হয় বাচ্চাদ্দের। আছেন শিক্ষকরা। তাঁরাই পড়াশোনা শেখান।

জেলা পুলিশ সুপার নগেন্দ্র নাথ ত্রিপাঠী বলছেন, ''এই উদ্যোগে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। অভিভাবকরাও আমাদের কাছে  সন্তানদের পাঠাচ্ছেন।" গ্রামে গ্রামে অবশ্য ছেলেমেয়েদের খুঁজে বার করে তাঁদের উপযুক্ত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন।

গ্রামের যুবক জয়রাম হাঁসদা ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়েন। সুভাষ হাঁসদা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছেন৷ এরকম অনেকেই আছেন যাঁরা স্পোকেন ইংলিশ থেকে শুরু করে ফুটবল খেলা বা কম্পিউটারে প্রশিক্ষিত হয়ে উঠছেন৷ আর তাঁদের অভিভাবকরাও চাইছেন, তাঁদের সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে।

Published by:Debamoy Ghosh
First published: