৫ দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর গৃহবধূর পচাগলা দেহ উদ্ধার হল ক্ষেত থেকে

৫ দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর গৃহবধূর পচাগলা দেহ উদ্ধার হল ক্ষেত থেকে

বিধবা মহিলার তৃতীয় সম্পর্কের কারণে, এর আগে সালিশী সভা বসেছিল দুই পরিবারের মধ্যে। গ্রামে ওই সম্পর্কের সমালোচনা চলত।

  • Share this:

SHANKU SANTRA

#কাকদ্বীপ: কয়েক দিন নিখোঁজ থাকার পর বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে, মহিলার দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল কাকদ্বীপে। ঘটনাস্থলে পুলিশ এলে এলাকার জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। দেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠায় পুলিশ।

সোমবার সকালে কাকদ্বীপের হারউড পয়েন্ট কোস্টাল থানার সরকারচকে ফাঁকা মাঠে উদ্ধার হয় পুষ্পরাণি পুরকাইতের (‌৪০)‌ দেহ। মহিলার গলায় ফাঁস লাগানো ছিল। দেহে পচন ধরে গিয়েছিল। স্থানীয় এক বাসিন্দা সকালে গরু চড়াতে গিয়ে দেহটি পড়ে থাকতে দেখেন। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। মৃতার পরিবারের লোকজন খুনের অভিযোগ তুলেছেন। মহিলার শ্বশুরবাড়ি ও বাপেরবাড়ির মধ্যে গণ্ডগোল ছিল বলে জানা গিয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় পুলিশ। অস্বাভাবিক মৃত্যুর  মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

১১ বছর আগে পুষ্পরাণির স্বামী তাপস পুরকাইত মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর দুই ‌মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে থাকতেন পুষ্পরাণি। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। এক নাবালক ছেলেকে নিয়ে মহিলার সংসার। গত বৃহস্পতিবার সন্ধেয় বাড়ির পাশের শৌচালায়ে যাওয়ার জন্য বেরিয়েছিলেন। তারপর থেকে আর কোনও খোঁজ ছিল না তাঁর। আশেপাশের এলাকায় খোঁজখবর করেন পরিবারের লোকজন। আত্মীয়দের বাড়িতে খোঁজ শুরু করেন। কিন্তু খোঁজ মেলেনি।
থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত ডায়েরি করা হয় পরিবারের তরফে। চার দিন পর মহিলার দেহ পড়ে থাকতে দেখে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন পরিবারের লোকজন।‌ মহিলার বোনের অভিযোগ, ‘‌শ্বশুরবাড়ির লোকজন সব জেনেও চুপ ছিল। ওরা বলেছিল, কারও সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছে। খুন করে ফেলে দিয়েছে কেউ। পুলিশ তদন্ত করলে সব বেরিয়ে আসবে।’‌
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, পাশের গ্রামের এক পুরুষের সঙ্গে পুষ্পরাণির বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। তা নিয়ে এর আগে দুই পরিবারে গন্ডগোল হয়েছিল। বছর দুয়েক আগে সেই পুরুষসঙ্গীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়েছিলেন ওই মহিলা। সেটা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে যথেষ্ট খারাপ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। অনেকের সন্দেহ করছেন সেই পুরুষসঙ্গীই খুন করেছে পুষ্পরাণিকে। কারণ পুষ্পরাণিকে কেন্দ্র করে তাঁর পরিবারে অশান্তি দিনের-পর-দিন বাড়ছিল। সেই অশান্তি থেকে দূরে থাকবার জন্যই এই খুন হতে পারে বলে মনে করছে সবাই।
First published: January 20, 2020, 6:06 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर