দক্ষিণবঙ্গ

corona virus btn
corona virus btn
Loading

কপাল বোধহয় একেই বলে, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দিনমজুর থেকে হয়ে গেলেন কোটিপতি!

কপাল বোধহয় একেই বলে, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দিনমজুর থেকে হয়ে গেলেন কোটিপতি!

পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের দিন মজুরের কোটিপতি হওয়ার গল্প এখন জেলার বাসিন্দাদের মুখে মুখে ফিরছে।

  • Share this:

#বর্ধমান: কপাল বোধহয় একেই বলে! ছিলেন দিনমজুর, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে হয়ে গেলেন কোটিপতি। পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের দিন মজুরের কোটিপতি হওয়ার গল্প এখন জেলার বাসিন্দাদের মুখে মুখে ফিরছে। ছেলের কাছে সামান্য টাকা ধার করে লটারি টিকিট কেটেছিলেন। তাতেই তিনি পেয়ে গেলেন প্রথম পুরস্কার বাবদ এক কোটি টাকা। রাতারাতি দিনমজুর থেকে কোটিপতি হয়ে এখন এলাকার আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছেন হরি মাঝি।

এমনিতে হরি মাঝিকে চিনতেন না বিশেষ কেউই। চেনার কথাও নয়। পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতার থানার বামশোর গ্রামের এক দিনমজুর তিনি। তার ওপর মুক ও বধির। সে কারণে অনেকে তাকে সেভাবে জন মজুরের কাজেও সেভাবে লাগাতেন না। এই হরি মাঝিকেই এখন জেলার বাসিন্দারা এক ডাকে চিনছেন। দুপুরে লটারি টিকিট কেটে বিকেলেই কোটিপতি হয়ে গিয়েছেন তিনি। তাঁকে দেখতে এখন ভিড় করছেন আশপাশ গ্রামের অনেকেই।

হাতে টাকা কড়ি তেমন কিছু ছিল না। আবার নিয়মিত যে সব পারিশ্রমিক খরচ করে লটারি টিকিট কাটতেন তাও নয়। তবুও সোমবার যেন লটারি টিকিট কাটার জেদ চেপে গিয়েছিলো তাঁর মধ্যে। কিন্তু টিকিট কাটার টাকা পাবেন কোথায়! অবশেষে চক্ষু লজ্জার মাথা খেয়ে ছেলের কাছেই 30 টাকা ধার চেয়ে ছিলেন। সেই টাকা নিয়ে গ্রামেরই এক বিক্রেতার কাছে লটারির টিকিট কেটেছিলেন হরি মাঝি।

বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। বিকেলেই খবর পান তিনিই পেয়েছেন প্রথম পুরস্কার। বার বার নম্বর মিলিয়ে দেখে দেখেও বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। অবশেষে সন্ধ্যায় তাঁর বাড়িতে পৌঁছয় লটারি এজেন্সির কর্মকর্তারা।ছবি তুলে নিয়ে যান তাঁরা। এরপর হরি মাঝি নিশ্চিত হন, তিনি পেয়েছেন প্রথম পুরস্কার অর্থাৎ এক কোটি টাকা।

বামশোর গ্রামের বাসিন্দা হরি মাঝি জন্ম থেকেই মূক ও বধির। তিনি কথা বলতে পারেন না এবং কানে শুনতে পান না। সারাদিন হাড়ভাঙ্গা শারীরিক পরিশ্রম করেন তিনি। তাঁর বাবা-মা তাঁর বিয়ে দিয়েছিলেন। বাড়িতে রয়েছেন স্ত্রী, এক ছেলে ও মেয়ে। সারাদিন হাড়ভাঙ্গা খাটুনিতে যে পয়সা রোজগার হয় তাতেই তিনি অনেক কষ্ট করে সংসার চালাতেন। তার সেই অমানুষিক পরিশ্রমের দিন বোধহয় এবার শেষ হলো। সপরিবারে স্বাচ্ছন্দে এবার বাকি জীবন কাটানোর ক্ষেত্রে আর বোধহয় কোনো বাধা রইল না।

Saradindu Ghosh

Published by: Elina Datta
First published: November 3, 2020, 9:49 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर