corona virus btn
corona virus btn
Loading

নদী বাঁধ নির্মাণ ঘিরে অব্যাহত রাজনৈতিক তরজা   

নদী বাঁধ নির্মাণ ঘিরে অব্যাহত রাজনৈতিক তরজা   

আমফানে ভেঙেছে ২৮ কিলোমিটার নদী বাঁধ। ক্ষতিগ্রস্ত ৭৬ কিলোমিটার নদী বাঁধ।

  • Share this:

#সুন্দরবন: একটা সময় সুন্দরবনের মানুষের মুখে মুখে ঘুরত নদী বাঁধ নিয়ে একটা স্লোগান। "আমাদের বাঁধ, আমরাই বাঁধব"। সেই নদী বাঁধ সংষ্কার নিয়েই অব্যাহত তরজা। আমফান ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বাঁধ ভেঙেছে একাধিক জায়গায়। ভরা কোটালে জল ঢুকে প্লাবিত হয়েছে একাধিক জনপদ। এই সমস্ত বাঁধ নির্মাণ কবে হবে বা আদৌ কংক্রিটের তৈরি করা সম্ভব কিনা তা নিয়ে হাজারো প্রশ্ন। তবে সেচ দফতর সূত্রে খবর, টাকা না পেলে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে আয়লা বাঁধ যা কংক্রিটের বাঁধ বানানো সম্ভব নয়। সেচ দফতর সূত্রে খবর, আমফানের প্রভাবে বাঁধ ভেঙেছে ২৮ কিলোমিটার। ৭৬ কিলোমিটার নদী বাঁধের ক্ষতি হয়েছে। সুন্দরবনের নদী বাঁধের ভাঙন আটকানো যায়নি। ৭১টি স্থানে সেই নদী বাঁধ ভেঙেছে। সব মিলিয়ে রাজ্যের হিসেবে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। ইতিমধ্যেই রাজ্যের সেচ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণার বিস্তীর্ণ অংশে গিয়ে বাঁধ পরিদর্শন করে এসেছেন।

বেশ কতকগুলি জায়গায় বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু হয়ে গেছে। তবে এর সবটাই হচ্ছে অস্থায়ী ভিত্তিতে। কারণ স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে গেলে কংক্রিটের রিং বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। আর যা অত্যন্ত খরচ সাপেক্ষ। ২০০৯ সালে আয়লা ঘূর্ণিঝড় এর কারণে ভীষণ রকম ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় নদী বাঁধ। প্রায় ১০০০ কিলোমিটার নদী বাঁধ রাজ্যে ক্ষতি হয়েছিল। যার মধ্যে ৭৭৭ কিলোমিটার নদীবাঁধ ছিল সুন্দরবন জুড়ে। তৎকালীন রাজ্য সরকার কেন্দ্রের কাছে বাঁধ নির্মাণ করতে সাহায্য চায়। ৭৫ শতাংশ কেন্দ্র দেবে ও ২৫ শতাংশ রাজ্য দেবে এই চুক্তিতে কেন্দ্র ৫০৩২ কোটি টাকা মঞ্জুর করে। ২০১০ সালে ৭৭ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করে বামফ্রন্ট সরকার। ক্ষমতায় এসে ৯০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করে তৃণমুল সরকার। তার পর কেন্দ্র টাকা দেওয়া বন্ধ করে বলে অভিযোগ। রাজ্য সরকার সূত্রে খবর, কেন্দ্র ১৭০০ কোটি মতো টাকা দিয়েছিল। যে টাকা বাঁধ নির্মাণ জন্য জমি অধিগ্রহণ করতেই খরচ হয়ে যায়৷ জমি অধিগ্রহণের জন্য ঠিক হয়, প্রতি বিঘা পিছু ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হবে ৫ লক্ষ করে। এছাড়া বাড়ি বা অন্য সম্পত্তি অধিগ্রহণ হলে তার দাম আলাদা দেওয়া হবে৷ এভাবেই যে সমস্ত জায়গায় জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে তাতে প্রায় ২০০ কিলোমিটার নদী বাঁধ কংক্রিটের করা সম্ভব হয়েছে। বাকি সব জায়গায় সেই অস্থায়ী মাটির বাঁধ হয়ে আছে। আর সেগুলিই আমফানের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত।

যে সমস্ত জায়গায় ফাটল ধরা পড়েছে তার মধ্যে আছে সন্দেশখালি, হিংগলগঞ্জ, কুলতলি, গোসাবা, বাসন্তী, মথুরাপুর, রায়দিঘী, পাথরপ্রতিমা, সাগরের কিছু অংশে। এই সব জায়গায় বাঁধ নির্মাণ করতে গেলে, হয় হাতি বাঁধ যা ৫.৮ মিটার উঁচু বা সমুদ্র বাঁধ, যা ৭.২ মিটার উঁচু করতে হবে। ৪০ মিটার ভিতের এই বাঁধ আটকাতে পারবে জোয়ারের জল। এছাড়া নদীর দিকে বাঁধের সামনে ম্যানগ্রোভ আর জমির দিকে সুন্দরী গাছ বসাতে হবে। কিন্তু এই সব কাজ হবে কবে? প্রাক্তন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী কান্তি গাঙ্গুলি জানান, "সেচের কেউ আসেই না। আসতে ভয় পায়। তৃণমুল বাহিনীর হাতে বাঁধ নির্মাণের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার চাপ দেয়। কোনও মন্ত্রী আসে না। তাই কাজ হয় না।" যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাজ্যের সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী মন্টুরাম পাখিরা। তিনি জানিয়েছেন, "বাঁধ তৈরির কাজ চলছে। লকডাউনের জেরে শ্রমিক পেতে অসুবিধা হয়েছে। রাজ্য নিজের খরচে কাজ করছে। কেন্দ্র কোনও সাহায্য করছে না।" ফলে এক সময়ের যে স্লোগান ছিল সেই বাঁধ গড়ার দায়িত্ব নিজেদের হাতেই নিতে চায় সুন্দরবনবাসী।

ABIR GHOSHAL

Published by: Ananya Chakraborty
First published: June 8, 2020, 10:31 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर