Yaas Effect on Shankarpur: মরা মাছের দুর্গন্ধ আর ছাদ হারানোর কষ্ট, বদলে গেছে চিরচেনা শঙ্করপুর!

এ কোন শঙ্করপুর!

Yaas Effect on Shankarpur: প্রকৃতির কাছে মানুষ কতটা অসহায়, তা শঙ্করপুরের চেহারা একবার না দেখলে বোঝা যাবে না । শঙ্করপুর রাজ্যের অন্যতম বড় মৎস্য বন্দর হিসাবে পরিচিত।

  • Share this:

শঙ্করপুর: ভেসে আসা প্লাস্টিক আর মরে যাওয়া মাছের গন্ধ। শঙ্করপুরের (Shankarpur) রাস্তা জুড়ে এমনই নানা ছবি উঠে আসছে। যেদিকে দু'চোখ যায় সেদিকেই দেখা মিলছে কোথাও সামুদ্রিক মাছ তো কোথাও নদীর মাছ মরে পড়ে আছে। রাস্তা জুড়ে এমন ভাবে পড়ে আছে যা মোহনা অবধি যাওয়াটাই একটা কঠিন ব্যাপার হয়ে উঠেছে। ওল্ড দীঘা (Old Digha) থেকে মোহনা অবধি সমুদ্র পাড় সাজিয়ে তুলেছিল সেচ দফতর। গার্ড ওয়াল তৈরি হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু প্রকৃতির কাছে মানুষ কতটা অসহায়, তা শঙ্করপুরের চেহারা একবার না দেখলে বোঝা যাবে না । শঙ্করপুর রাজ্যের অন্যতম বড় মৎস্য বন্দর হিসাবে পরিচিত।

এখানেই মুলত মাছের একাধিক গোডাউন রয়েছে। রয়েছে যত্ন করে মাছ রাখার নানা ব্যবস্থা। ঝড়ের আগে থেকেই সমস্ত ট্রলার নিয়ে চলে আসা হয়েছিল বন্দরের খাঁড়িতে। ঝড়ের দাপটে ট্রলারের সে রকমের কোনও ক্ষতি না হলেও বন্দরের কাঠামোর বেশ ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে আশেপাশের প্রায় ২৫টি গ্রামের। স্থানীয়দের সাহায্য করছেন প্রশাসন সহ একাধিক ব্যক্তিরা। কিন্তু মরা মাছের এতটাই গন্ধ বেরোতে শুরু করেছে যে স্থানীয়রাই বুঝে উঠতে পারছেন না তাদের করণীয় কি আছে। সমুদ্রের ধারের গ্রামগুলি এখনও জলমগ্ন হয়ে আছে। ঝড়ের দাপটে কোনও বাড়ির ছাদ উড়েছে। কোনও বাড়ির আবার দেওয়াল ভেঙে পড়ে আছে। সবটাই নষ্ট। ভেসে চলে গেছে বাসনপত্তর। ভেসে চলে গেছে প্রয়োজনীয় কাগজটুকু। আর এভাবেই মরা মাছের গন্ধ আর সব হারানোর যন্ত্রণা নিয়ে টিকে আছেন এখানকার বাসিন্দারা।

স্থানীয় বাসিন্দা তথা ব্যবসায়ী ঋত্বিক নায়েক জানাচ্ছেন, মানুষই এখন মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে। যতটা সম্ভব আমরা সাহায্য করছি। কিন্তু মানুষ অসহায়। অনেকের জীবনের মূল্যবান পূঁজি জলে ভেসে চলে গিয়েছে। মৎস্যজীবী সংগঠনের প্রধান লক্ষীনারায়ণ জানা জানিয়েছেন, সমুদ্রের জল এতটাই বৃদ্ধি পেয়ে ছিটকে পড়ে গ্রামে তাতে আমাদের আর কিছু করার ছিল না। সব লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছে। এই কারণে কিছু মাছ ভেসে চলে গিয়েছে। আর কিছু মাছ মরে গিয়েছে। যার জেরেই এই গন্ধের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। শঙ্করপুর থেকে মাছ যায় কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায়। আপাতত সেই কাজ বন্ধ। স্থানীয় বাসিন্দা প্রতিমা নায়েক বলছেন, এমন বিপদ আগে কখনও দেখিনি। সমুদ্রের এই চেহারা আমাদের কাছে অচেনা। রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রী তথা স্থানীয় বিধায়ক অখিল গিরি বলছেন, এটা সত্যিই দূর্ভাগ্যজনক ঘটনা। আমরা চেষ্টা করছি। দফতর ক্ষয় ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে সমীক্ষা করছে। নোংরা সরানোর কাজ শুরু হয়েছে।

Published by:Suman Biswas
First published: