Yaas : ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় তটস্থ রাজ্য, আগাম সতর্কতা জারি করল কৃষি দফতর!

ঝড়ের পূর্বাভাসে সতর্ক-বার্তা কৃষকদের

গতবার আমফানে (Cyclone Amphan) ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছিল চাষের জমি ও ফসল। সেই ক্ষতি বছর ঘুরতেও কাটিয়ে উঠতে পারেননি দুই ২৪ পরগনার কৃষকরা। এবার (Cyclone Yaas) তাই কোনও কসুর রাখতে চাইছে না কৃষি দফতর (Agricultural Department)।

  • Share this:

#কলকাতা : বিধ্বংসী আমফানের (Cyclone Amphan) বছর ঘুরতেই আরেক ঘূর্ণিঝড়ের ভ্রুকুটি। ঘূর্ণিঝড় যশের (Cyclone Yaas) ভ্রুকুটিতে আক্ষরিক অর্থেই উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগে থেকে প্রস্তুতির নির্দেশ প্রশাসনকে। নবান্নের শীর্ষ কর্তা থেকে জেলা প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে উপকূলবর্তী সাইক্লোন সেন্টারগুলিকে। বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরকেও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার, পানীয় জল, ওষুধ মজুত রাখতে নির্দেশ। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কবার্তা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতবার আমফানে (Cyclone Amphan) ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছিল চাষের জমি ও ফসল। সেই ক্ষতি বছর ঘুরতেও কাটিয়ে উঠতে পারেননি দুই ২৪ পরগনার কৃষকরা। এবার (Cyclone Yaas) তাই কোনও কসুর রাখতে চাইছে না কৃষি দফতর (Agriculture Department)। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কৃষকদের আগাম সতর্কতা জারি করলো কৃষি দফতর।

কৃষি দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে ২২ মে একটি নিম্নচাপ ঘনীভূত হবে উত্তর পূর্ব বঙ্গোপসাগরে। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিম্নচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেবে। উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ২৬ মে নাগাদ এই ঘূর্ণিঝড়টি আছড়ে পড়তে পারে ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের উপকূল অঞ্চলে। আমফানের চেয়েও বেশি শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশংকা করা হচ্ছে। হালকা ও কখনও কখনও ভারী বৃষ্টি শুরু হতে চলেছে ২৫ মে সন্ধ্যে থেকেই। এমনটাই আশঙ্কা করছে আবহাওয়া দফতর। তাই কৃষি দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে এর ফলে চাষের জমি ও ফসলের ক্ষতি হতে পারে। যার জন্য বেশ কিছু আগাম সতর্কতা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কৃষকদের। এগুলি হল

১) মাঠের পাকা বোরো ধান অবিলম্বে কেটে ফেলতে হবে। দ্রুত সেগুলিকে গুদামজাত করতেও হবে । প্রয়োজনে যন্ত্রের সাহায্য নিতে হবে এক্ষেত্রে।

২) তৈলবীজ যেমন, বাদাম, ডাল শস্য, মুগ ইত্যাদি ঝেড়ে অতিসত্তর গুদামজাত করতে হবে।

৩) তিল ও পাটের জমি থেকে যাতে দ্রুত জমে যাওয়া বৃষ্টির জল বের করে দেওয়া যায় সেই ব্যবস্থা আগে থেকেই নিতে হবে।

৪) সবজি ও ফল ইত্যাদি বিশেষত কলা, পেঁপে জাতীয় ফলের গাছ যাতে সহজে ঝড়ে ভেঙে না পরে তার জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে।

৫) সবজির মাচা থেকে পানের বোরজ ব্যাপক ক্ষতির মুখে পরে এই ধরণের ঘূর্ণিঝড়ে। তাই আগে থেকেই শক্ত বাঁধনে বেঁধে দিতে হবে এগুলিকে।

৬) সবজির জমিতে জমে যাওয়া বৃষ্টির জল বের করে দিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে বলেও কৃষি মন্ত্রক পরামর্শ দিয়েছে চাষিদের। প্রয়োজনে ঝড়-বৃষ্টি থামলে ছত্রাকনাশক স্প্রে দিতেও বলা হয়েছে।

৭) একইসঙ্গে এই ধরণের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার সময় যাবতীয় করোনা বিধি, অর্থাৎ মুখে মাস্ক বা গামছা ব্যবহার, সাবান দিয়ে হাত ধোয়া , কাজের সময় শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার নিয়মগুলিও পালন করার কথা বলা হয়েছে এই নির্দেশিকায়।

এই একগুচ্ছ নির্দেশের সঙ্গে কৃষকদের ঝড়-বৃষ্টির আগেই আবহাওয়ার গতি প্রকৃতির দিকে খেয়াল রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়ার বুলেটিনগুলো নজর রাখতে বলা হয়েছে। নিজেদের গবাদি পশু ও অন্যান্য গৃহপালিত পশু-পাখিদের নিয়ে প্রয়োজনে অন্যত্র থাকার ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।

সোমরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়

Published by:Sanjukta Sarkar
First published: