ডোরাকাটা শরীর থেকে ঠিকরে বেড়িয়ে আসছে চোখ! নোনা জলের কুমীর প্রথম উদ্ধার মেদিনীপুরে

ডোরাকাটা শরীর থেকে ঠিকরে বেড়িয়ে আসছে চোখ! নোনা জলের কুমীর প্রথম উদ্ধার মেদিনীপুরে

আমফানের ফলে উঁচু জায়গায় বাসা বেঁধে ডিম পাড়তে চেয়েছে এই প্রজাতির কুমীর

আমফানের ফলে উঁচু জায়গায় বাসা বেঁধে ডিম পাড়তে চেয়েছে এই প্রজাতির কুমীর

  • Share this:

#পূর্ব মেদিনীপুর: সেপ্টেম্বর মাসে পর পর তিন বার নোনা জলের কুমীর উদ্ধার হল পূর্ব মেদিনীপুরে। রাজ্য বন দফতর সূত্রে খবর, পূর্ব মেদিনীপুরে এই প্রথম বিশ্বের সবচেয়ে বৃহত্তম কুমীর প্রজাতির দেখা মিলল। প্রাথমিক ভাবে বন দফতরের কর্তাদের ধারণা, সুন্দরবন থেকে হুগলী নদীর রাস্তায় প্রায় ৫০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার সাঁতরে এই কুমীরগুলি মেদিনীপুরের দিকে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক অনুমান, আমফান সাইক্লোনের ফলে একটু উঁচু জায়গায় বাসা বেঁধে ডিম পাড়তে চেয়েছে এই প্রজাতির কুমীর। লকডাউনের প্রভাবে এই এলাকার জল অন্য বারের থেকে শান্ত থাকায় এই এলাকাই ওরা বেছে নিয়েছিল প্রজননের জন্য। সেপ্টেম্বর ১২ এবং ২৪ তারিখে দু'টি কুমীর প্রথম উদ্ধার হয় নিজকসবা বিটের বাজকুল রেঞ্জ থেকে। শনিবার ফের একটি কুমীর উদ্ধার হয়েছে একই বিটের এগরা রেঞ্জ থেকে।

বন দফতরের এক কর্তা বলেন, "প্রথম যে দু'টি কুমীর উদ্ধার হয়েছিল, তাদের উদ্ধারের জায়গাতেই ফের নদীতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে শেষেরটিকে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে আলিপুর চিড়িয়াখানায়।" ওই কর্তা বলেন, "শেষের উদ্ধার হওয়া কুমীরটি ১৩-১৪ ইঞ্চি লম্বা এবং বছর দেড়েকের মতো বয়স।"

হুগলীরই একটি খাড়ি, বাগুই নদীর যে অংশে কুমীর উদ্ধার হয়েছে, ওই অংশে সম্প্রতি বন দফতর ম্যানগ্রোভের চাষ করেছিল। সুন্দরবনের জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত ওই সব কুমীর ম্যানগ্রোভ দেখেই ওই জায়গাগুলিকে ডিম পাড়ার জন্য বেছে নিয়েছে বলে অনুমান বন দফতরের কর্তাদের।

সুন্দরবন থেকে এত দূরে সুদূর মেদিনীপুর থেকে এই কুমীর উদ্ধার হওয়ায় অবশ্য অবাক হচ্ছেন না বিশেষজ্ঞেরা। তাঁদের মতে, এ ধরনের কুমীর প্রজননের জন্য ন'শো কিলোমিটার পর্যন্ত উজিয়ে যেতে পারে। তাঁদের ধারণা, হয় বঙ্গোপসাগর দিয়ে অথবা হুগলী, সপ্তমুখী, মুড়িগঙ্গা, হলদি নদী এবং এদের খাঁড়ি দিয়ে সাঁতরে মেদিনীপুরে ঢুকে পড়েছে কুমীরগুলি। তা ছাড়া সাইক্লোনের পরে এই সব প্রজাতির অপেক্ষাকৃত উঁচু এলাকায়, জল জমে না এমন জায়গায় বাসা বেঁধে ডিম পাড়তে চায়। সেই জায়গার খোঁজে বেরিয়েই মেদিনীপুরে এসে ঘাঁটি গেড়েছে এই সব কুমীর।

Published by:Pooja Basu
First published: