দু'বেলা নিখরচায় পৌঁছে দিচ্ছেন খাবার, করোনা আক্রান্তদের পাশে হিন্দ মোটরের দম্পতি

বিশ্বজিৎবাবু এবং তাঁর স্ত্রী লক্ষ্মীপ্রিয়াদেবী৷

হিন্দ মোটরের সুকান্ত নগরের বাসিন্দা পেশায় বিশ্বজিৎবাবু খাবার পৌঁছে দিয়ে করোনা আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন৷ তাঁর সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন জানান স্ত্রী এবং মেয়ে৷

  • Share this:

    #হিন্দ মোটর: নদীতে ভেসে আসা শব, অক্সিজেনের হাহাকার- সামাজিক মাধ্যম থেকে সংবাদমাধ্যম, মন খারাপ করে দেওয়া ছবি সর্বত্র৷ কিন্তু এটা যদি মুদ্রার এক পিঠ হয়, তাহলে উল্টোদিকটাও আছে৷ কঠিন এই সময়ই এমন কিছু মানুষের খোঁজ দিচ্ছে, যাঁরা বিপদের মুহূর্তে সবকিছু ভুলে অপরিচিতকেও আপন করে নিচ্ছেন৷ এমন কি, নিজের জীবন কিছুটা ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে হলেও পিছপা হচ্ছেন না তাঁরা৷

    যেমন হুগলির হিন্দ মোটরের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ ও লক্ষ্মীপ্রিয়া চক্রবর্তী৷ মেয়ে নেহাকে নিয়ে আপাতত সকাল থেকে একটাই লক্ষ্য চক্রবর্তী দম্পতির, করোনা আক্রান্তদের বিনামূল্যে খাবার পৌঁছে দেওয়া৷ তাও প্রতিদিন দু' বেলা৷

    হিন্দ মোটরের সুকান্ত নগরের বাসিন্দা পেশায় বিশ্বজিৎবাবু খাবার পৌঁছে দিয়ে করোনা আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন৷ তাঁর সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন জানান স্ত্রী এবং মেয়ে৷ প্রতিদিন সকালে মেয়েকে নিয়ে বাজার করে আনেন বিশ্বজিৎবাবু৷ এর পর শুরু হয় রান্নার তোড়জোড়৷ স্ত্রীর সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে রান্না করেন বিশ্বজিৎবাবু৷ রান্না করা, খাবার প্যাকেট করা- সবেতেই সাধ্যমতো সাহায্য করে মেয়ে নেহা৷ এর পর বাইকে করে তা করোনা আক্রান্ত িবভিন্ন পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন বিশ্বজিৎবাবু নিজেই৷

    কিন্তু হঠাৎ কেন এমন সিদ্ধান্ত? করোনোর দ্বিতীয় ঢেউয়ে তার নিজের ছয় বন্ধুকে হারিয়েছেন বিশ্বজিত বাবু। সেই শোক কিছুটা ভুলতেই এভাবে করোনা আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি৷ ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপে নিজেদের যোগাযোগের নম্বর দিয়ে শুরু করেন প্রচার৷

    বিশ্বজিৎবাবু বলেন, 'মানুষ এখন চারপাশে বিপদগ্রস্ত৷ যাঁদের করোনা হচ্ছে, তাঁরা বাড়ি থেকে বেরোলে তো সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়বে৷ তাই তাঁদের বাড়িতে খাবার পৌঁছে দিতে পারলে তাঁরাও নিরাপদ থাকবেন, বাকি সবাইও নিরাপদে থাকবেন৷' তিনি জানিয়েছেন, যতদিন আর্থিক ভাবে তিনি সামাল দিতে পারবেন, এই পরিষেবা চালিয়ে যাবেন৷

    প্রতিদিন দুপুরের মেনুতে থাকছে ভাত, পাতিলেবু, স্যালাড, উচ্ছে আলু ভাজা, ডাল, সবজি, মাছ অথবা ডিম। তবে সপ্তাহের শনিবার থাকে পনির ও রবিবার রয়েছে মুরগির মাংস। বর্তমানে হিন্দমোটর ছাড়িয়ে উত্তরপাড়া এলাকায় আক্রান্তদের বাড়িতে দিন রাতের খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন বিশ্বজিৎবাবু। এই পর্ষন্ত করোনা আক্রান্ত ২০টি পরিবারকে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে চক্রবর্তী দম্পতি৷ তাঁদের এই উদ্যোগকে কুর্ণিশ জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারাও৷

    Rana Karmakar
    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: