উচ্চশিক্ষায় বাধা করোনা ভাইরাস, অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে রায়গঞ্জের গবেষকের

উচ্চশিক্ষায় বাধা করোনা ভাইরাস, অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে রায়গঞ্জের গবেষকের

করোনা ভাইরাসের জেরে চিনে অন্য দেশের লোকেদের যাওয়ার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে চিন সরকার।

  • Share this:

#রায়গঞ্জ : করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে উচ্চশিক্ষায় বাধা গবেষকের। বিপাকে রায়গঞ্জ শহরের মিলনপাড়ার বাসিন্দা ত্রিস্রোতা ভৌমিক। চিনের হেবেই ইউনিভার্সিটি অফ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হয়েছেন ত্রিস্রোতা ভৌমিক। ১ মার্চ থেকে শুরু হবে ক্লাস। করোনার কারণে ত্রিস্রোতার ভিসার অনুমোদন দেয়নি চিন সরকার। ফলে অনিশ্চয়তার মুখে ত্রিস্রোতার উচ্চশিক্ষা।

করোনার কারণে হেবেই ইউনিভার্সিটি অফ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে অনলাইন ক্লাস শুরু করা হচ্ছে। করোনা ভাইরাসের জেরে চিনে অন্য দেশের লোকেদের যাওয়ার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে চিন সরকার। ইউহান থেকে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ শুরু হলেও এখন গোটা চিনজুড়েই ছড়িয়েছে করোনার আতঙ্ক। ইতিমধ্য়েই চিনে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৪২ হাজার ছাড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যা হাজারেরও বেশি। বেজিংয়ের পাশের শহর হ্য়ান্ডনেই হেবেই ইউনিভার্সিটি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং। বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়াই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ত্রিস্রোতার।

রায়গঞ্জের মিলনপাড়ার বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে রয়েছেন ত্রিস্রোতা ভৌমিক। অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাঁদের। গবেষক বলেন, "পয়লা মার্চ থেকে আমাদের ক্লাস শুরু। করোনা ভাইরাসের জেরে গোটা চিনেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমি ওয়ার্ক পারমিট পাচ্ছিনা। চিনা সরকার এখনও আমার ভিসা অনুমোদন করেনি। বুঝতে পারছিনা কবে থেকে কাজ শুরু করতে পারব!"

রায়গঞ্জের মিলনপাড়ার বাসিন্দা তীলকতীর্থ ভৌমিকের একমাত্র মেয়ে ত্রিস্রোতা ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছাত্রী ছিল। রায়গঞ্জ করোনেশন হাইস্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে জিওলজিকাল সায়েন্স নিয়ে এমএসসি পাশ করেন ত্রিস্রোতা। এরপর জামসেদপুরের আই আই টি থেকে কয়লার ওপর পিএইচডি করেন তিনি। তারপর পোস্ট ডক্টরেটের জন্য় হেবেই ইউনিভার্সিটি অফ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হন। ১ মার্চ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে ক্লাস করার কথা ছিল ত্রিস্রোতার । কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে ত্রিস্রোতার ভিসার অনুমোদন দেয়নি চিন প্রশাসন।

চিনে পড়তে গিয়ে আটকে পড়েছিলেন অনেক ভারতীয় পড়ুয়া-গবেষক। রায়গঞ্জের মিলনপাড়ার ভৌমিক পরিবারের কিছুটা স্বস্তি, তাঁদের মেয়ে গিয়ে আটকে পড়েননি। আছেন তাঁদের সঙ্গেই। ত্রিস্রোতার মা লিপিকা ভৌমিক বলেন, "চিনে যখন সুযোগ পেয়েছে, তখন দেরিতে হলেও তারা ডেকে নেবেন। এখন দেখার করোনা ভাইরাস থেকে মুক্ত হবে চীন সরকার কত দিন সময় নেয় চিন।"

চিনে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ কবে শেষ হবে, তার অপেক্ষায় দিন গুনছে রায়গঞ্জের ভৌমিক পরিবার। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পাড়ি দেবেন চীনের হ্য়ান্ডনে। তার আগে পর্যন্ত অনলাইন ক্লাসই ভরসা গবেষকের।

উত্তম পাল

First published: February 13, 2020, 3:13 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर