স্কুলের সরস্বতী পুজো দেখতে বেরিয়ে নিখোঁজ, রেল লাইনের ধার থেকে উদ্ধার মৃতদেহ

স্কুলের সরস্বতী পুজো দেখতে বেরিয়ে নিখোঁজ, রেল লাইনের ধার থেকে উদ্ধার মৃতদেহ

ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে কি হল ছাত্রীর ? রেল লাইনের ধরে কr করতে গেল ছাত্রী ? খুন না আত্মহত্যা ? ধন্দ্বে পুলিশ ৷

  • Share this:

Debasish Chakraborty

#উলুবেড়িয়া: নিখোঁজ থাকার পর একাদশ শ্রেণীর ছাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল উলুবেড়িয়ার তুলসিবেড়িয়া অঞ্চলের সুমদা ধাড়াপাড়া। পথ অবরোধ তুলতে গিয়ে পুলিশের বেধড়ক লাঠিচার্জ। পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমাবাজির অভিযোগ গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে। পাল্টা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে পুলিশ। আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বেশ কয়েকটি ইঞ্জিনভ্যান ও পিক‌আপ ভ্যানে। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র‌্যাফ। জানা গিয়েছে, উলুবেড়িয়ার রাজাপুর থানা এলাকার তুলসীবেড়িয়া অঞ্চলের সুমদা ধাড়াপাড়ার বাসিন্দা শম্ভুচরণ সামন্তের বড় মেয়ে সাথী সামন্ত স্থানীয় ভূঁয়েরা বিএনএস হাইস্কুলের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী। এলাকা সূত্রে জানা গিয়েছে, সাথীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল সুমদা এলাকার শেখ আমির আলির। গত বৃহস্পতিবার সরস্বতী পুজোর দিন সকাল ১০টা নাগাদ স্কুলে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হয় সাথী। বিকাল হয়ে গেলেও বাড়ি না ফেরায় চারিদিকে খোঁজ শুরু করে সাথীর পরিবারের লোকজন।

স্কুলে গিয়ে শিক্ষকদের সমস্ত ঘটনা জানালে, তাঁরা স্কুলের সি সি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখেন, সেদিন সাথী স্কুলে আসেনি। স্কুল থেকে বেরোনোর সময় সাথীর এক সহপাঠী সাথীর বাবাকে জানায় যে, আমিরের সঙ্গে সাথীকে বাইকে চেপে যেতে দেখেছে সে। সেদিন সারা রাত মেয়ের কোনও খোঁজ না পেয়ে পরের দিন রাজাপুর থানায় নিখোঁজের অভিযোগের পাশাপাশি এই ঘটনায় আমিরের জড়িত থাকার অভিযোগ দায়ের করেন সাথীর বাবা শম্ভুচরণ সামন্ত। সেদিনেই ঘটনার কথা জানতে পেরে আমিরকে পুলিশের হাতে তুলে দেয় তার‌ই পাড়ার লোকজন। আমিরকে গ্রেফতার করে পুলিশ উলুবেড়িয়া মহকুমা আদালতে পেশ করলে বিচারক তার ৭ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত শেখ আমির আলি স্বীকার করেছে যে, সাথী বৃহস্পতিবার সারাদিন তার সঙ্গেই ছিল। যদিও তার দাবি, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সে সাথীকে বাড়ির কাছে নামিয়ে দেয়। তার পরে তার আর কিছু জানা নেই। অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার রাতে হাওড়া খড়গপুর শাখার বাগনান স্টেশনের পূর্ব দিকে চন্দ্রপুরের কাছে রেললাইন থেকে একটি কিশোরীর দেহ উদ্ধার করে উলুবেড়িয়া জিআরপি। দেহটি অজ্ঞাত পরিচয় মৃতদেহ হিসাবে উলুবেড়িয়া মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয় ময়নাতদন্তের জন্য। শনিবার সন্ধ্যায় উলুবেড়িয়া জিআরপি থানায় কর্তব্যরত এলাকার এক সিভিক ভলেন্টিয়ারের মাধ্যমে তাঁরা জানতে পারে যে, উলুবেড়িয়া জিআরপি একটি অজ্ঞাতপরিচয় কিশোরীর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। সেটি জানার পরেই সাথীর দেহ সনাক্ত করে তার পরিবারের লোকজন। ছাত্রীর বাবা শম্ভুচরণ বলেন, মেয়ে বাড়ি না ফেরায় স্কুলে গিয়ে জানতে পারি মেয়ে স্কুলে যায়নি। আমির নামের এক ছেলের সঙ্গে বাইকে চেপে বেরিয়েছে। পরের দিন আমিরের পাড়ার লোকজনকে সমস্ত ঘটনা জানাতে তাঁরা আমিরকে চাপ দেয়। তখন আমির স্বীকার করে আমার মেয়ে তার সঙ্গেই সারাদিন ছিল। সন্ধ্যায় বাড়ির কাছে নামিয়ে দিয়ে যায়। শম্ভুবাবুর অভিযোগ, আমির ও তার সঙ্গীরা তাঁর মেয়ে সাথীর মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত। তিনি দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে কঠোরতম শাস্তির দাবি জানান। রবিবার সকালে মৃতের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে দেখা করতে এসে হাওড়া গ্রামীণ জেলার বিজেপি সাধারণ সম্পাদক প্রত্যুষ মন্ডল বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে একটি মেয়ে উধাও হয়ে যাচ্ছে। পরে তার মৃতদেহ উদ্ধার হচ্ছে। অথচ প্রশাসনের কোনও হেলদোল নেই। এটা লজ্জাজনক। তিনি আরও বলেন উলুবেড়িয়া মহকুমায় বহু এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই প্রশাসন ঘটনাটি ধামাচাপা দিয়ে দিচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, শাসকদল পশ্চিমবঙ্গকে পশ্চিম বাংলাদেশ বানানোর পরিকল্পনা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, রবিবার বিকালে ধৃতের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু, কঠোরতম শাস্তি ও ঘটনায় যুক্ত বাকিদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে কুলগাছিয়া তুলসীবেড়িয়া রাস্তার সুমদা বাজার এলাকায় রাস্তার উপর টায়ার ও খড়ের আঁটি জ্বালিয়ে অবরোধ করে এলাকার লোকজন। দীর্ঘক্ষণ অবরোধ চলার পর উলুবেড়িয়া মহকুমা পুলিশ আধিকারিক পার্থ ঘোষের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র‌্যাফ অবরোধ তুলতে গেলে অবরোধকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। অভিযোগ, এর পরেই বেধড়ক লাঠিচার্জ করে অবরোধ তুলে দেয় পুলিশ। এরপরেই এলাকা থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইঁট ও বোমা ছুঁড়তে শুরু করে বিক্ষোভকারীরা। আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় কয়েকটি ইঞ্জিনভ্যান ও পিক‌আপ ভ্যানে। পাল্টা বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে পুলিশ। রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা সুমদা বাজার এলাকা। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র‌্যাফ মোতায়েন করা হয়েছে। হাওড়া গ্রামীণ জেলার পুলিশ সুপার সৌম্য রায় বলেন, পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তাকে পুলিশ আগেই গ্রেফতার করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরেই পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

 
First published: February 2, 2020, 10:03 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर