দক্ষিণবঙ্গ

?>
corona virus btn
corona virus btn
Loading

লকডাউনে বেকার বাবা-মা, হকারি করেই পড়াশোনা করছে মুর্শিদাবাদের দশম শ্রেণির ছাত্র

লকডাউনে বেকার বাবা-মা, হকারি করেই পড়াশোনা করছে মুর্শিদাবাদের দশম শ্রেণির ছাত্র
Representative Image

জিতুর বাবা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় অসুস্থ হয়ে পড়ায় তিনজনের পরিবারের উপার্জনের জন্য স্কুল ছাড়তে হয়েছে জিতুকে। জিতুর বাবা কেরলে রাজমিস্ত্রি হিসাবে কাজ করেন।

  • Share this:

পরিস্থিতি মানুষকে অনেক কিছু করতে বাধ্য করে। আর তার সবচেয়ে জ্বলন্ত উদাহরণ হল, মুর্শিদাবাদ জেলার দশম শ্রেণির ছাত্র জিতু সাহা। সে তার পরিবারের ৬ জন ভাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে ছোট। তার দাদারা বিবাহিত। সবার পরিবার আলাদা। সে মা-বাবাকে নিয়ে থাকে৷ তাই তার ওপর সব দায়িত্ব। আর এই দায়িত্বের বোঝা কাঁধে নিয়েই পড়াশোনার পাশাপাশি হকারি পেশা বেছে নিয়েছে জিতু। এই অতিমারীর জেরে তার পরিবারের অবস্থা খুব শোচনীয়। তাই সে জীবিকা নির্বাহের জন্য পড়াশোনার পাশাপাশি এই পেশা বেছে নিয়েছে ।

জিতুর বাবা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় অসুস্থ হয়ে পড়ায় তিনজনের পরিবারের উপার্জনের জন্য স্কুল ছাড়তে হয়েছে জিতুকে। জিতুর বাবা কেরলে রাজমিস্ত্রি হিসাবে কাজ করেন। পরিযায়ী শ্রমিক। মা স্থানীয় বিড়ির কারখানায় কাজ করেন,সেখান থেকে সামান্য কিছু পয়সা উপার্জন হয়। হঠাৎ এই করোনা পরিস্থিতি ও লকডাউনের জন্য তার বাবা বাড়ি ফিরে আসেন৷ তার সঙ্গে মায়ের কারখানাও বন্ধ হয়ে যায়। তাই দিশেহারা হয়ে পড়ে তার পরিবার। খুব অনটনের মধ্যে পড়ে যায় সংসার। তাই পরিবারের ছেলে হিসেবে সংসারের হাল ধরতে এই পেশা বেছে নেয়। এরই মধ্যে শ্বাসকষ্টের সমস্যায় প্রবল অসুস্থ হয়ে পড়েন তার বাবা। কঠিন সময়ের মধ্যে যেন বিপদ কিছুতেই পিছু ছাড়ে না তাদের পরিবারের।

অপরদিকে ছেলের এই কষ্ট দেখে তার বাবা পুনরায় কাজে যেতে চান। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে কাজের জন্য তাঁর অসুস্থ বাবাকে বাড়ি থেকে দূরে পাঠাতে রাজি নয় জিতু। তাই সে এখন বিস্কুট, মুড়ি, স্ন্যাক্স, আচার ইত্যাদি বিক্রি করে কোনও রকমে সংসার চালাচ্ছেন। লকডাউনের সময় প্রতিদিন প্রায় গড়ে ১৫০-২০০ টাকার জিনিস বিক্রি করেছে সে। মাসের শেষে মায়ের হাতে ৭ হাজার টাকা তুলে দিতে পেরে সে নিজেও খুশি। কিন্তু এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দাঁড়িয়ে হাল ছাড়ছে না জিতু। সে তার অদম্য জেদ নিয়ে লড়ে যেতে চায়৷ এবং সে মাধ্যমিক পাস করতে চায়।

Published by: Arindam Gupta
First published: September 8, 2020, 6:58 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर