• Home
  • »
  • News
  • »
  • south-bengal
  • »
  • অগ্নিকাণ্ডের কারণ খতিয়ে দেখতে হাসপাতালে CID

অগ্নিকাণ্ডের কারণ খতিয়ে দেখতে হাসপাতালে CID

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মতো অগ্নিকাণ্ডের কারণ সন্ধানে রবিবার সকালেই মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছায় CID-র বিশেষ দল

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মতো অগ্নিকাণ্ডের কারণ সন্ধানে রবিবার সকালেই মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছায় CID-র বিশেষ দল

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মতো অগ্নিকাণ্ডের কারণ সন্ধানে রবিবার সকালেই মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছায় CID-র বিশেষ দল

  • Pradesh18
  • Last Updated :
  • Share this:

    #মুর্শিদাবাদ: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মতো অগ্নিকাণ্ডের কারণ সন্ধানে রবিবার সকালেই মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছায় CID-র বিশেষ দল ৷ ঘটনাস্থলে এসে ফরেনসিক দলের নমুনা সংগ্রহের কথা রয়েছে ৷

    মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান ডিআইজি সিআইডি বিএল মিনা। হাসপাতালে ঢুকেই তিনি যান দোতলার ভিআইপি কেবিনে। সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন তিনি। একইসঙ্গে মোবাইলে ওই কেবিনের ছবিও তোলেন। সেখান থেকে বেরিয়ে এসএনসি বিভাগে যান তিনি। ডাক্তার, নার্স ও সহায়িকাদের সঙ্গে কথা বলেন। কী ঘটনা ঘটেছিল তা জানতে চাওয়া হয় সকলের কাছে। সেইসঙ্গে, সকলের ডিউটি রোস্টার সম্পর্কে খোঁজখবরও নেওয়া হয়। হাসপাতাল সুপার সুরিতা পালের সঙ্গেও কিছুক্ষণ কথা বলেন বি এল মিনা। বেলা ২.৩০টে নাগাদ হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যান ডিআইজি সিআইডি।

    ডেকে পাঠানো হয় কংগ্রেসের তরফে ওই হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা কংগ্রেস কর্মী অমল গুপ্ত ওরফে পল্টুকে। বহুদিন ধরেই হাসপাতালে রোগী ভর্তির দায়িত্বে তিনি। শনিবারও, হাসপাতাল চত্বরে ছিলেন তিনি।

    শনিবার সকালে আচমকাই মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ আগুন লাগে হাসপাতালের দোতলার ভিআইপি কেবিনে। আতঙ্কে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হল হাসপাতালের এক সহায়িকার ও এক রোগীর আত্মীয়ের। মৃত্যু হয়েছে এক সদ্যজাতেরও পাশাপাশি আগুনের প্রচণ্ড ধোঁয়ায় অসুস্থ ৫০টিরও বেশি শিশু। আগুন লাগার সময় কেবিনটিতে কেউ ছিলেন না। হাসপাতালে অক্সিজেন ঢোকার পাইপলাইন ও এসি ডাক্ট থেকে বাতাস পেয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। একইসঙ্গে ধোঁয়াও ছড়িয়ে পড়তে থাকে হাসপাতালে। আগুন লাগায় নিয়ম মেনেই, একটি লিফট বন্ধ করে দেওয়া হয়। আরেকটি লিফট আগে থেকেই খারাপ ছিল এবং অন্য একটি এমার্জেন্সি গেটও বন্ধ ছিল কাল।

    প্রাণ বাঁচাতে হুড়োহুড়ি করেই দোতলা ও তিনতলা থেকে অসুস্থ ও সদ্যোজাতদের নিয়ে সকলে সিঁড়ি ধরে নামতে থাকেন। ওই সিঁড়ি ধরেই দোতলা ও তিনতলা থেকে রোগী ও সদ্যোজাতদের সরানোর জন্য উঠতেও থাকেন একদল মানুষ। এই ভিড়ের মধ্যেই পদপিষ্ট হয়ে যান তিন বয়স্কা মহিলা। ঘটনাস্থলেই মারা যান দুই সহায়িকা পূর্ণিমা সরকার ও মামণি সরকার। পরে মৃত্যু হয় এক সদ্যজাতেরও ৷ ধোঁয়া ও ধাক্কাধাক্কিতে অসুস্থ হয়ে পড়েন বেশ কয়েকজন।

    মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গে সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ গাফিলতি ধরা পড়লে কাউকে রেয়াত করা হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মতো এদিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিআইডি ৷ তাঁরা খতিয়ে দেখবে ঠিক কীভাবে এই ঘটনা ঘটল,এর পিছনে কারও গাফিলতি ছিল কিনা। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা উপযুক্ত ছিল কি না,এসি- থেকে আগুন সেখানে কোনও ত্রুটি ছিল কিনা,হাসপাতালের পরিকাঠামোয় সমস্যা, পিডব্লুডি-যে তৈরি করে ছিল তাতে কোনও ত্রুটি ছিল কিনা।তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দেবে সরকারকে।

    হাসপাতালে যান এডিজি সিআইডি রাজেশ কুমার। সঙ্গে ছিলেন বিএল মিনাও। ফরেনসিক দলও ঘটনাস্থলে যায়। ভিআইপি কেবিন পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। সেখান থেকে নমুনাও সংগ্রহও করেন তাঁরা। ওই কেবিনের চাবি কার কাছে থাকত তা জানতে চাওয়া হয়। বিদ্যুৎ বিভাগ ও পিডব্লুডি-র থেকেও রিপোর্ট তলব করেছে সিআইডি।

    হাসপাতাল পরিদর্শনের পর ডিআইজি সিআইডি বিএল মিনা বলেন, ‘আমরা পুরোটাই দেখলাম ৷ ষড়যন্ত্রের তত্ত্বের অভিযোগ খতিয়ে দেখছি ৷ ফরেনসিক দলও আসবে ৷ সিআইডি-র আরও দল আসবে ৷’

    অন্তর্ঘাতের তত্ত্বকে সামনে রেখেৃই ষড়যন্ত্র, আগুন লাগানো, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, অনিচ্ছাকৃত খুন-সহ একাধিক ধারায় মামলা শুরু করেছে বহরমপুর থানা।

    অন্যদিকে, এদিন সকালেও খোলা তারে বিদ্যুতের ফুলকি থেকে আবারও আগুনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে হাসপাতালে ৷ দ্রুত জেলার প্রধান হাসপাতালকে ছন্দে ফেরাতে উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসনিক আধিকারিকরা ৷ মহকুমা শাসক দিব্যনারাণ চক্রবর্তী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত জেলাশাসক বৈঠকের পর হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিত্সকের উপস্থিতিতে সুপারকে নজর দিতে আবেদন করেছেন ৷

    First published: