প্রতিবেশী নবম শ্রেণীর ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের ‘অপরাধ’-এ খুন হতে হল যুবককে !

অল্প বয়েসের প্রেমের সম্পর্ক মেনে নেয়নি বাড়ির লোকজন। সেই সম্পর্ক ঘিরে হয়েছে অনেক অশান্তি।

Siddhartha Sarkar | News18 Bangla
Updated:Jun 24, 2017 08:03 AM IST
প্রতিবেশী নবম শ্রেণীর ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের ‘অপরাধ’-এ খুন হতে হল যুবককে !
Siddhartha Sarkar | News18 Bangla
Updated:Jun 24, 2017 08:03 AM IST

#চুঁচুড়া:  একই পাড়ায় থাকার সুবাদে পাড়ার প্রতিবেশী নবম শ্রেণীর ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল শ্রীবাসের। অনেক জায়গায় লুকিয়ে দেখা করা। চিঠি পত্র দেওয়া নেওয়া চলতো। বেশ কয়েকবার বিষয়টি নজরে পড়েছিল স্থানীয় বাসিন্দাদের। অল্প বয়েসের প্রেমের সম্পর্ক মেনে নেয়নি বাড়ির লোকজন। সেই সম্পর্ক ঘিরে হয়েছে অনেক অশান্তি।

অনেক টানাপোড়েনের পরেও সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়নি, উল্টে অবনতি হয়েছে। অবশেষে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হুগলির চুঁচুড়া স্টেশনের মাঝে রেল লাইন থেকে উদ্ধার হয় যুবকের মৃতদেহ। মৃত যুবকের নাম শ্রীবাস মন্ডল(১৮), বাড়ি চুঁচুড়া স্টেশন সংলগ্ন মোহালি পাড়া বস্তি এলাকায়। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ডাউন রেল লাইন থেকে তাঁর গলাকাটা মৃতদেহ উদ্ধার করে ব্যান্ডেল জিআরপি। ঘটনায় দু’জনকে আটক করেছে চুঁচুড়া থানার পুলিশ।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার ভোররাতে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। অভিযুক্ত প্রেমিকার বাড়িতে চড়াও হয় এলাকার বাসিন্দারা। চলে ব্যাপক ভাঙচুর। অভিযোগ আত্মহত্যা বা দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়নি শ্রীবাসের। ওকে খুন করার পর মৃতদেহ রেল লাইনে ফেলে দেওয়া হয়েছে। মৃতের মেজো দাদা জয়দেব মন্ডলের অভিযোগ, তাঁর ভাইয়ের দেহের কোথাও কোনও আঘাতের চিহ্ন ছিল না। দেখে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল ওকে খুন করা হয়েছে।

প্রেমিকাও ওই পাড়ারই। এই সস্পর্ক মেনে নেয়নি মেয়ের পরিবারের কোনো সদস্যই। দীর্ঘদিন ধরেই সম্পর্ককে ঘিরে দুই পরিবারের মধ্যে ব্যাপক গোলমাল চলছিল। অভিযোগ, গত বুধবার প্রেমিকার বাড়ির লোকজন দলবল নিয়ে চড়াও হয়ে ব্যাপক মারধর করে শ্রীবাসের পরিবারের সদস্যদের। জয়দেববাবুকে মাটিতে ফেলে মারধর করা হয়, বুকে পেটে লাঠি মারা হয় অভিযোগ জয়দেববাবুর। এই দুই পরিবারের গোলমাল দিনের পর দিন বেড়েই চলেছিল। সম্প্রতি শ্রীবাসের বিরুদ্ধে ওই মেয়েটিকে টোন টিটকারী করার অভিযোগ তুলে ব্যাপক গোলমাল শুরু করে মেয়ের পরিবার। তাই বৃহস্পতিবার পাড়ায় একটি সালিশি সভা ডাকা হয়। সেই সভায় এই টোনটিটকারীর অভিযোগে সরব হয় ওই ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা। সেখানে উপস্থিত সকলের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মিটিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ, অপরাধ না করেও সালিশি সভায় ছাত্রীর পরিবারের চাপের মুখে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয় শ্রীবাসের পরিবারের সদস্যরা।

সালিশি সভায় উপস্থিত কোদালিয়া ১ পঞ্চায়েতের সদস্যা বর্ণালী রায় এই সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন সালিশি সভায় দু’পক্ষকে বসিয়ে বিষয়টি মেটানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। বিষয়টা মিটেও গিয়েছিল। সভায় ওই ছাত্রীর পরিবারের তরফে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলা হয়েছিল। সেই মোতাবেক ভরা সভায় শ্রীবাসের পরিবারের সকলেই একে একে ক্ষমা চায়। ওই শালিশি সভায় গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি মিটিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বর্ণালীদেবী বলেন তার পরের ঘটনা তিনি কিছুই জানেন না, রাতে তিনি বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন। সমস্ত বিষয় মিটিয়ে বাড়ি ফেরেন সকলেই। শুধু বাড়ি ফেরে না শ্রীবাস। রাতে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায় না। রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ ফোন করা হয় শ্রীবাসকে। তখন ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তারপর গভীর রাতে রেল লাইন থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়।

Loading...

ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। একটি মামলা রুজু হয়েছে। এতো দিন ধরে ঘটনা ঘটছে অথচ তা পুলিশকে জানানো হয়নি, নিজেদের মধ্যেই মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এমনকী, গত বুধবার মারামারির ঘটনা ঘটার পরেও তা জানানো হয় নি।

First published: 08:03:03 AM Jun 24, 2017
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर