দক্ষিণবঙ্গ

corona virus btn
corona virus btn
Loading

স্বামীর বন্ধুর সঙ্গেই ঘর বাঁধার স্বপ্ন, খুনের পর দেহ লোপাটে হাত লাগায় স্বপ্নাও

স্বামীর বন্ধুর সঙ্গেই ঘর বাঁধার স্বপ্ন, খুনের পর দেহ লোপাটে হাত লাগায় স্বপ্নাও
ধৃত সুজিত দাস ও স্বপ্না সরকার৷

এ দিনই গাইঘাটার গোয়ালবাতান এলাকায় সুজিত দাস নামে এক যুবকের ঘরের মধ্যে থেকে মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয় রামকৃষ্ণ সরকার নামে এক ব্যক্তির দেহ৷

  • Share this:

#গাইঘাটা: গাইঘাটা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে আসছে পুলিশের৷ তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, প্রেমিক সুজিতের সঙ্গে মিলে স্বামী রামকৃষ্ণ সরকারের দেহ মাটিতে পুঁতে ফেলেছিল তার স্ত্রী স্বপ্না! প্রাথমিক জেরার পর সুজিত এবং স্বপ্নাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ৷

এ দিনই গাইঘাটার গোয়ালবাতান এলাকায় সুজিত দাস নামে এক যুবকের ঘরের মধ্যে থেকে মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয় রামকৃষ্ণ সরকার নামে এক ব্যক্তির দেহ৷ রামকৃষ্ণ এবং সুজিত দু' জনেই পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিল৷ দু' জনের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল৷ সেই সূত্রেই সুজিতের সঙ্গে পরিচয় হয় রামকৃষ্ণের স্ত্রী স্বপ্নার৷ দু' জনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে৷ রামকৃষ্ণের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় সুজিতের সঙ্গে নতুন করে ঘর বাঁধার সিদ্ধান্ত নেন স্বপ্না৷ আর সেই কারণেই পথের কাঁটাকে সরিয়ে দিতে রামকৃষ্ণকে খুনের সিদ্ধান্ত নেয় দু' জনে৷

তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, মদ খাওয়ার নাম করে সোমবার বিকেলে রামকৃষ্ণকে নিজের বাড়ির কাছে ডাকে সুজিত৷ বাঁশবাগানের মধ্যে বসে মদ্যপান করে তারা৷ সুযোগ বুঝে রামকৃষ্ণকে খুন করে সুজিত৷ খুন করার পর বাঁশ বাগানেই রামকৃষ্ণের দেহ লুকিয়ে রাখে সে৷ এর পর ফোন করে প্রেমিকা স্বপ্নাকে ডেকে পাঠায় সুজিত৷ দু' জনে মিলে দেহ রামকৃষ্ণের দেহ প্লাস্টিকে মুড়ে সুজিতের ঘরে নিয়ে গিয়ে মাটির নীচে পুঁতে দেয়৷

মঙ্গলবার দুপুরে সুজিতের বাড়ির কাছে গোয়ালবাথান এলাকার খাল পাড়ে রক্ত দেখতে পায় স্থানীয়রা। চাপ চাপ রক্ত দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। তাঁরাই খবর দেয় গাইঘাটা থানায়।তদন্ত শুরু করে পুলিশ।সেই সঙ্গে স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজি শুরু করে কী ভাবে খালপাড়ে রক্ত এল।স্থানীয়রা খালের কাছাকাছি বাঁশ বাগান থেকে জুতো, মাস্ক, টর্চলাইট উদ্ধার করে। মঙ্গলবার সারারাত আলো জ্বেলে রাত পাহারারও ব্যবস্থা করে গ্রামবাসীরা৷ বুধবার সকালে সুজিত দাসের বাড়ির সামনে রক্ত দেখতে পান প্রতিবেশীরা৷ তাতেই তাঁদের সন্দেহ আরও দৃঢ় হয়৷

বাড়িতে বিধবা মা ও বোনকে নিয়ে থাকত সুজিত৷ কিন্তু এ দিন সকাল থেকেই বাড়িতে কেউ ছিল না৷ পুলিশ এসে তালা ভেঙে সুজিতের ঘরে ঢোকে৷ সেখানেই খাটের নীচে মাটি খুঁড়ে রামকৃষ্ণ সরকারের দেহ উদ্ধার হয়৷ তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, মা এবং বোন ও জামাই ডাক্তার দেখানোর জন্য বাড়ি থাকবেন না তা আগেই জানত সুজিত৷ সেই সুযোগেই রামকৃষ্ণকে খুন করে দেহ নিয়ে এসে ঘরে পুঁতে দেয় সে৷

তদন্তে নেমে প্রথমে স্বপ্নাকে আটক করে পুলিশ৷ তাকে জেরা করেই সুজিতের খোঁজ মেলে৷ পুলিশি জেরায় খুনের কথা স্বীকার করে নেয় তারা৷ সুজিত ও স্বপ্না জানিয়েছে, গত চার-পাঁচ বছর ধরে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল৷ ইতিমধ্যেই খুন এবং দেহ লোপাটে ব্যবহৃত কাটারি, দা ও কোদাল উদ্ধার করেছে পুলিশ৷

বনগাঁ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার তরুণ হালদার জানিয়েছেন, খুনের অভিযোগে দু' জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷ ১৪ দিন হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়ে বৃহস্পতিবারই সুজিত ও স্বপ্নাকে আদালতে পেশ করা হবে৷ দু' জনকে হেফাজতে পেলেই ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হবে৷

নিহত রামকৃষ্ণ সরকার কোচবিহারের বানেশ্বরপুর এলাকার বাসিন্দা বলে স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে। বিয়ের পর থেকেই উত্তর ২৪ পরগণার বনগাঁর বাবুপাড়ায় স্বামী ও স্ত্রী ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতেন।

Rajarshi Roy

Published by: Debamoy Ghosh
First published: October 28, 2020, 7:49 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर