Chandana Bauri : 'সকলের সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে', বাবু-কোলে প্রার্থনা বিধায়ক চন্দনার

সন্তান কোলে চন্দনা বাউড়ি

গত দেড় সপ্তাহ জুড়ে বিধানসভা অধিবেশনে (Assembly Session) যোগ দিয়েছেন নিয়ম করে। গিয়েছেন বিধায়কদের ক্লাসেও নিয়মিত। তবু মন পড়ে থেকেছে সেই শালতোড়ার (Saltora, Bankura) ভাঙাচোরা এক কামরার বাড়িটার অন্ধকার ঘরে।

  • Share this:

কলকাতা : তাঁর লড়াইয়ের কাহিনী, তাঁর জেদ, তাঁর উঠে আসার কাহিনী মুগ্ধ করেছে সকলকে। শালতোড়ার বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউড়ি (Chandana Bauri)। গত দেড় সপ্তাহ জুড়ে বিধানসভা অধিবেশনে (Assembly Session) যোগ দিয়েছেন নিয়ম করে। গিয়েছেন বিধায়কদের ক্লাসেও নিয়মিত। তবু মন পড়ে থেকেছে সেই শালতোড়ার (Saltora, Bankura) ভাঙাচোরা এক কামরার বাড়িটার অন্ধকার ঘরে। স্বামীর সাথে কলকাতায় আসলেও নিজের একরত্তি সন্তানকে রেখে এসেছিলেন বাড়িতে। অবশেষে ক্ষনিকের সুযোগে সেই বাবুর কাছেই ফিরেছেন 'মা' চন্দনা! নিজেই সামাজিক মাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন সন্তানের ছবি আর মুহূর্তের অস্ফুট আনন্দ।

শালতোড়া থেকে কলকাতা। দূরত্ব যতটা না শারীরিক, ততটাই মানসিক। রাজনীতির অলিন্দে নেমে জিত হাসিল করার পরে কলকাতা চেনার চেষ্টা শুরু করেছিলেন বিধায়ক চন্দনা। নতুন নিয়ম, জীবন, দিনলিপি, মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা অপরিসীম সদ্য বিধায়ক হওয়া চন্দনার। কিন্তু বাড়িতে ছেড়ে আসা সন্তানের জন্য মন কী কাঁদেনি? সন্তানের ছবি পোস্ট করে লিখেছিলেন #missyou । বলেছিলেন বিধানসভা শেষ হলেই এক দৌড়ে চলে যাবেন বাবুর কাছে। এবার সেই সন্তানকেই কাছে পেয়ে মায়ের মন আনন্দে উত্তেজনায় ভরপুর চন্দনা। বাড়ি ফিরে সন্তানকে কোলে নিয়েই পোস্ট করলেন ছবি, হাসিমুখে। আবার নিজেই ইংরেজি অক্ষরে লিখেছেন 'কিউট চিলড্রেন'।

আনন্দ ভাগ করে নিতে গিয়ে চন্দনা বাউড়ি বললেন, "খুব ভাল লাগছে, কতদিন পরে এসে আমি আমার বাবুকে দেখতে পেলাম৷ অনেক অনেক আদর করেছি। আমার তো ওকে ছেড়ে যেতে কোথাও ইচ্ছাই করে না।" তবে কথায় আছে, যিনি রাঁধেন, তিনি চুলও বাঁধেন। তাই বাড়ি ফিরে এলাকার উন্নয়নের কাজের তদারকি করতেও তিনি নেমে পড়েছেন। শালতোড়ার রাস্তা-ঘাট তৈরির কাজেই প্রথম মন দিতে চান চন্দনা। ইতিমধ্যেই কাজের পরিকল্পনা নিয়ে হোম ওয়ার্ক করা বিজেপি বিধায়কের পরিকল্পনায় রয়েছে এলাকার মানুষের জন্যে যত দ্রুত সম্ভব জলের সু-বন্দোবস্ত করার পরিকল্পনাও। এই সব বিষয় নিয়েও বিধানসভায় সব বিধায়কের সাথে চন্দনা বাউড়ি সোচ্চার হতে চান।

এলাকার মানুষের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিতে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছেন বিজেপির দরিদ্রতম বিধায়ক। এলাকার আরও অনেক সন্তানের স্বপ্নপূরণের দায়িত্ব যে আজ তাঁরই হাতে। বিজেপির দরিদ্রতম প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই বারবার শিরোনামে উঠে আসে চন্দনার নাম। এমনকি প্রচারের গোড়ার দিক থেকেই সকলের নজর কেড়েছিলেন ছোটোখাটো চেহারার মেয়েটি। এক দিন মজুরের স্ত্রী, সন্তান নিয়ে চন্দনার দিনলিপি প্রথম থেকেই আর পাঁচজন প্রার্থীর তুলনায় ছিল অন্যরকম। পান্তা খেয়ে দিন রাত পাড়ায় পাড়ায় প্রচার চালানো চন্দনা চাইছেন সব সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।

Published by:Sanjukta Sarkar
First published: