Home /News /south-bengal /
আর কিছু চাপা থাকল না, সিবিআই-কে 'সবকিছু' বলে দিলেন অনুব্রতর বাড়িতে যাওয়া চিকিৎসক চন্দ্রনাথ

আর কিছু চাপা থাকল না, সিবিআই-কে 'সবকিছু' বলে দিলেন অনুব্রতর বাড়িতে যাওয়া চিকিৎসক চন্দ্রনাথ

চিকিৎসক চন্দ্রনাথকেই জোর করে পাঠানো হয়েছিল অনুব্রতর বাড়িতে

  • Share this:

    #বীরভূম: এক দিকে গ্রেফতার হলেন অনুব্রত মণ্ডল, অন্য দিকে ছুটির আবেদন করলেন অনুব্রতর চিকিৎসা করা বোলপুরের সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালের চিকিৎসক চন্দ্রনাথ অধিকারী। বৃহস্পতিবার এই খবর সামনে আসার পরই শুরু হয় না জল্পনা-কল্পনা! সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে চিকিৎসক চন্দ্রনাথ অধিকারী জানিয়েছেন, তিনি বৃহস্পতিবারই আগামী সাতদিনের ছুটির আবেদন করেছেন। তাঁকে কি কোনও শোকজ নোটিস দেওয়া হয়েছে? চন্দ্রনাথ স্পষ্ট জানিয়েছেন, না, তেমন কোনও ঘটনা ঘটেনি। তাঁকে কেউ শোকজ নোটিস দেয়নি। তিনি এখন মানসিক ভাবে যথেষ্ট চাপে রয়েছেন। সেই কারণে তিনি আপাতত ছুটিতে যেতে চাইছেন। এ ছাড়া ভুগছেন নিরাপত্তাহীনতায়।

    অনুব্রত মণ্ডলের শারীরিক পরীক্ষার পর একপ্রকার বোমা ফাটিয়েছিলেন বোলপুর মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসক চন্দ্রনাথ অধিকারী। অনুব্রত মণ্ডল কার্যত জোর করে তাঁকে দিয়ে সাদা কাগজে বেড রেস্টের কথা লিখতে বাধ্য করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই চিকিৎসক৷ শুক্রবার সকালে সেই চন্দ্রনাথকে জিজ্ঞাসাবাদ করল সিবিআই। চিকিৎসকের বাড়িতে গিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে অনুব্রতের চিকিৎসা সংক্রান্ত নানা খোঁজখবর নেন সিবিআই আধিকারিকরা। বয়ান করা হয় তাঁর রেকর্ড।

    আরও পড়ুন: 'কম অক্সিজেনেই এমন, ঠিকঠাক গেলে কেমন হত!' অনুব্রতর গ্রেফতারিতে কটাক্ষ দিলীপের

    সিবিআইয়ের তরফে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালের সুপার বুদ্ধদেব মুর্মু এবং অনুব্রতের চিকিৎসা করা ডাক্তারকে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। তার পর সিবিআইয়ের মুখোমুখি হন চন্দ্রনাথ। সূত্রের খবর, সংবাদমাধ্যমের সামনে চন্দ্রনাথ ঠিক যা যা বলেছিলেন, সিবিআইকেও তাই বলেছেন। তিনি জানান, হাসপাতালের সুপারের নির্দেশেই অনুব্রতকে দেখতে তাঁর বাড়িতে মেডিক্যাল টিম নিয়ে যান তিনি। তার পর তৃণমূল নেতার ‘অনুরোধে’ তাঁকে ১৪ দিনের ‘বেড রেস্ট’ লিখে দিয়েছিলেন। তবে সেই পরামর্শ কোনও প্যাডে নয়, নেতার বাড়ি থেকে একটি এ-ফোর সাইজের কাগজ চেয়ে নিয়ে লিখে দিয়েছিলেন। এই সাদা কাগজের লেখার ব্যাপারটিও তিনি হাসপাতাল সুপারের নির্দেশে করেন বলে জানান।

    আরও পড়ুন: তড়িঘড়ি এল খাট, মধ্যরাতে নিজামে ঢুকতেই অনুব্রতকে ঘিরে একের পর এক চমক! 'যত্ন' করছে সিবিআই

    মঙ্গলবারের পর থেকেই গোটা রাজ্যে চর্চিত বোলপুর চিকিৎসক চন্দ্রনাথ অধিকারীর নাম৷ সংবাদমাধ্যমের সামনে চন্দ্রনাথ বলছেন, 'মাধ্যমিকে দ্বিতীয় হয়েছিলাম, উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম স্থান পেয়েছিলাম৷ জয়েন্ট এন্ট্রান্সের কাউন্সিলিংয়ে আমার স্থান ছিল ২২৷ সেদিন থেকেই নিজের মেরুদণ্ডটা সোজা রেখেছি৷' শুক্রবার, সিবিআই তাঁর কাছে জানতে চান অনুব্রতের ঠিক কী কী শারীরিক সমস্যা রয়েছে? তাঁকে দেখার পর কী বুঝেছেন? সেচন্দ্রনাথ আগেই দাবি করেছেন, অনুব্রতকে তিনি হাসপাতালে এসে দেখানোর কথা বললেও, সুপার তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন নেতার বাড়ি গিয়ে তাঁকে দেখে আসতে। সিবিআইকে সেই কথাই জানান তিনি।

    কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করার পর কলকাতার বি সি রায় হাসপাতাল থেকে শিশুরোগ চিকিৎসায় ডিপ্লোমা পাস করেন চন্দ্রনাথ৷ এর পর এসএসকেএম হাসপাতাল থেকে সার্জারিতে স্নাতকোত্তর পাস করেন এই চিকিৎসক৷ তাঁর কথায়, মঙ্গলবার অনুব্রত মণ্ডলের বাড়ি গিয়ে চাপে পড়েই সাদা কাগজে বেড রেস্টের পরামর্শ লিখতে বাধ্য হন তিনি৷ অনুব্রতর মতো প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে সেকথা সংবাদমাধ্যমের সামনে বলা সম্ভব হয়নি তাঁর পক্ষে৷ পরে বাড়ি ফিরে বুঝতে পারেন, এভাবে সাদা কাগজে বেড রেস্টের পরামর্শ দিলে সমস্যায় পড়তে পারেন তিনি৷ তার উপরে বিবেক দংশনেও ভুগছিলেন৷ সেই কারণেই সংবাদমাধ্যমকে গোটা ঘটনার কথা জানান তিনি৷ চন্দ্রনাথের কথায়, 'মনে হয়েছিল, সাধারণ মানুষের চোখে আমি হেয় হয়ে গেলাম৷ আমি বরাবরই অন্যায়ের প্রতিবাদ করি৷ মেরুদণ্ডটা বাঁকাতে পারব না৷'

    অন্য দিকে, হাসপাতাল সুপার বুদ্ধদেবকে ডেকেও তাঁর সাড়া পায়নি সিবিআই। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবারই বুদ্ধদেবের ছুটির মেয়াদ শেষ হয়েছিল। তিনি আবার ছুটির আর্জি জানিয়েছেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে। অন্য দিকে, চন্দ্রনাথও ছুটিতে রয়েছেন। তিনি দাবি করেন, এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

    Published by:Rukmini Mazumder
    First published:

    Tags: Anubrata Mandal

    পরবর্তী খবর