লিখবে-পড়বে মেয়েরা, ছাত্রীদের দত্তক নিল বর্ধমানের পৌষালি

দুঃস্থ ছাত্রীদের দত্তক নিয়ে নজির গড়ল বর্ধমানের পৌষালি উৎসব৷

দুঃস্থ ছাত্রীদের দত্তক নিয়ে নজির গড়ল বর্ধমানের পৌষালি উৎসব৷

  • Share this:

#বর্ধমান: পয়সার অভাবে হয়ত ভাত জোটে না, পড়াশোনা দূরের কথা৷ তবে দূরকেই কাছে আনল পৌষালি ৷ পৌষালি এক উৎসবের নাম৷ উৎসবে চমক বলতে কিছু নেই, শুধু পাওয়া আছে ৷  দুঃস্থ ছাত্রীদের দত্তক নিয়ে নজির গড়ল বর্ধমানের পৌষালি উৎসব৷

বর্ধমানের বাজেপ্রতাপপুর বিধান সংঘের মাঠে বসেছে মিলন উৎসব পৌষালির আসর৷ চারদিকে সব উৎসবে যখন গ্ল্যামারে একে অন্য়কে ছাপিয়ে যাওয়ার দৌড়, পৌষালি এসব মাতামাতিতে নেই৷ মুম্বইয়ের নামী অভিনেতা বা নামী প্লে ব্য়াক সিঙ্গারদের এনে মঞ্চে অনুষ্ঠান করানো এখন জলভাত৷ বাজেটেও কাটছাঁট হয় না৷ তখনই অন্য়রকম রাস্তায় হাঁটল এই উৎসব কমিটি৷  জলসার বাজেট কমিয়ে গরিব পরিবারের ১০ ছাত্রীকে দত্তক নেওয়া হয়েছে৷

সামাজিক কাজে বেশি করে যুক্ত হতে চেয়েছে উৎসব কমিটি। প্রথমে এলাকারই ১০ ছাত্রীকে দত্তক নেওয়া হয়। সম্পাদক নুরুল আলম বললেন, ‘আর্থিক অনটনের জন্য এলাকার মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাক তা আমরা চাই না। সেজন্যই দুঃস্থ  ১০ ছাত্রীকে আমরা বেছে নিয়েছি। তাদের সারা বছরের পড়াশোনার সব খরচ আমরাই দেব।’

এবারই প্রথম নয়। গত দু’বছরে ১০ জন করে ২০ ছাত্রীকে দত্তক নিয়েছিল বাজেপ্রতাপপুর মিলন উৎসব কমিটি। দত্তক নেওয়া ছাত্রীদের মাসে ৬০০ টাকা করে দেওয়া হয়। এবার সেই ২০ ছাত্রীর সঙ্গে আরও ১০ জন যুক্ত হল।

বর্ধমান শহরের বাসিন্দাদের জন্য একটি অ্যাম্বুলান্সের ব্যবস্থা করেছে উৎসব কমিটি। ফোন করলেই পৌঁছে যাবে অ্যাম্বুলান্স। মৃত্যুর পর সৎকারে যাতে কোনও অসুবিধা না হয় তা নিশ্চিত করতেই শববাহী যানের ব্য়বস্থা হয়েছে৷ নাম ‘স্বর্গরথ’। বর্ধমান শহরের ৪০ ক্লাব ও সংস্থাকে ক্রীড়া সরঞ্জাম দিয়েছে উৎসব কমিটি। বিশেষ চাহিদা সম্পন্নদের দেওয়া হয়েছে সহায়ক সরঞ্জাম।

২১ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে পৌষালি উৎসব। চলবে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত। এবারের থিম সম্প্রীতি। এবারের স্লোগান, না রাম, না যিশু, না আলি, সম্প্রীতির উৎসব বর্ধমানের পৌষালি।

SARADINDU GHOSH

Published by:Siddhartha Sarkar
First published: