corona virus btn
corona virus btn
Loading

দেড়শো বছর আগে এসেছিল বর্ধমান ফিভার, উজাড় হয়ে গিয়েছিল গ্রামের পর গ্রাম

দেড়শো বছর আগে এসেছিল বর্ধমান ফিভার, উজাড় হয়ে গিয়েছিল গ্রামের পর গ্রাম
বর্ধমান ফিভার প্রাণ কেড়েছিল হাজার হাজার মানুষের৷

মহামারির নাম বর্ধমান ফিভার হলেও তার উৎপত্তি কিন্তু বর্ধমানে ছিল না। ইতিহাসবিদদের তথ্য বলছে, এই জ্বরের উৎপত্তি হয়েছিল বাংলাদেশে।

  • Share this:

#বর্ধমান: প্রায় দেড়শো বছর আগের কথা। বাংলায় প্লেগ মহামারির আগেই বর্ধমান জেলায় এসেছিল এক মারণ রোগ৷ উজাড় হয়ে গিয়েছিল একের পর এক গ্রাম, জনপদ। ক্রমেই যা মহামারির আকার নেয়৷ সেই জ্বরের নাম দেওয়া হয়েছিল বর্ধমান ফিভার৷

 শুধু বর্ধমানেই নয়, ধীরে ধীরে এই জ্বর ছড়িয়েছিল চব্বিশ পরগণা, নদিয়া এবং হুগলিতেও। ওই জেলাগুলিতেও বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল৷ শ্মশানে পরিণত হয়েছিল এক একটি জনপদ। তবে বর্ধমানে তা স্হায়ী হয়েছিল বহু বছর। এই মারণ জ্বরে বর্ধমানে তখন ঠিক কত মানুষের মৃত্যু হয়েছিল জানেন কি?

বর্ধমান ফিভার জাঁকিয়ে বসায় তখন ঘরে ঘরে মৃত্যু যেন স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।  একটি পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে,  ১৮৬৯ সালে বর্ধমানের জনসংখ্যা ছিল ৪৬০০০। ১৮৭২ সালে তা কমে হয় ৩২৬৮৭। অর্থাৎ তিরিশ শতাংশ মানুষের মৃত্যু হয় শুধুমাত্র এই ক বছরে। তার অনেক আগে থেকেই বর্ধমানের জাঁকিয়ে বসেছিল এই জ্বর। চলেছিল আরও বেশ কয়ক বছর। তাই কত মানুষের মৃত্যু হয়েছিল তার একটা ধারণা এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট।

আর একটা পরিসংখ্যান রয়েছে কাটোয়ার একটি এলাকা কেন্দ্রিক। এই জ্বর মহামারির আকার নিয়েছিল কাটোয়ার আঠারোটি গ্রামে। কাটোয়ার ওই আঠারোটি গ্রামে তখন জনসংখ্যা ছিল ১৪৯৮২ জন। তার মধ্যে ৬২৪৩ জনের মৃত্যু হয় শুধুমাত্র বর্ধমান  জ্বরেই।  অর্থাৎ বর্ধমান ফিভারে ওই আঠারোটি গ্রামের প্রায় বিয়াল্লিশ শতাংশ মানুষের মৃত্যু হয়।

মহামারির নাম বর্ধমান ফিভার হলেও তার উৎপত্তি কিন্তু বর্ধমানে ছিল না। ইতিহাসবিদদের তথ্য বলছে, এই জ্বরের উৎপত্তি হয়েছিল বাংলাদেশে। যশোরের কাছে রাস্তা তৈরির কাজ করছিলেন পাঁচ - ছশো শ্রমিক।  ঠিক হয়েছিল যশোর থেকে ওই রাস্তা মহম্মদপুর হয়ে ঢাকার দিকে যাবে। শীতকালে শুরু হলো কাজ। মার্চ মাসে অল্প দিনের মধ্যেই জ্বরে দেড়শ মজুরের মৃত্যু হয়। মৃত্যুভয়ে বাকি শ্রমিক, ঠিকাদারের লোকজন কাজ ছেড়ে পালান। তাঁদের মাধ্যমে মহম্মদপুর ও যশোরে ঢুকে পড়ে জ্বর। মৃত্যু মিছিল শুরু হয় সেখানে। এরপর ওই জ্বর নদিয়া জেলায় ঢুকে বীরনগর গ্রামকে উজাড় করে দেয়। পরে তা ঢুকে পড়ে চব্বিশ পরগনায়। এরপর হুগলি হয়ে তা জাঁকিয়ে বসে বর্ধমানে৷

Saradindu Ghosh

First published: April 25, 2020, 2:11 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर