ছাত্রছাত্রীদের দেশপ্রেম জাগাতে অভিনব উদ্যোগ বিএসএফ-এর

ছাত্রছাত্রীদের দেশপ্রেম জাগাতে অভিনব উদ্যোগ বিএসএফ-এর
বরাসতের দিল্লি পাবলিক স্কুলে অস্ত্রের প্রদর্শনী করল বিএসএফ

দেশের প্রতি ভালোবাসা, দেশপ্রেমকে আরও শক্ত, আরও মজবুত করতেই এদিন স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের সামনে উপস্থাপন করলেন দেশ রক্ষায় ব্যাবহৃত সব অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র।

  • Share this:

Rajarshi Roy

#বারাসত: এবার শহরতলীর ইংরাজি মাধ্যম স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে দেশপ্রেম বোধ জাগ্রত করতে অভিনব ব্যাবস্থা নিলেন ১৭৯ নম্বর ব্যাটেলিয়ানের জওয়ানেরা। সীমান্ত এলাকায় কী কী ধরনের অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে দেশের শুত্রুদের মোকাবিলা করেন, তার একটা ধারনা এদিন বারাসতের দিল্লী পাবলিক স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের সামনে রাখলেন বিএসএফ জাওয়ানরা। লেখাপড়া শিখে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা এমবিএ করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ইদুর দৌড়ে ছুটে বেড়ায় বর্তমান প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা। ছোটবেলা থেকেই তাদের অবিভাবক থেকে শিক্ষক শিক্ষিকারাও সেই শিক্ষায় ছেলে মেয়েদের মোটিভেট করতে থাকেন। সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরীরা সেই ধারনাটাই ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করলেন এদিন। দেশের প্রতি ভালোবাসা, দেশপ্রেমকে আরও শক্ত, আরও মজবুত করতেই এদিন স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের সামনে উপস্থাপন করলেন দেশ রক্ষায় ব্যাবহৃত সব অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র। শুধু নিয়ে আসাই নয়, সেগুলো একেবারে কচিকাচা পড়ুয়া থেকে উচু ক্লাসের ছাত্রছাত্রীদের সামনে এক একটা অত্যাধুনিক অস্ত্র কিভাবে প্রয়োগ করা, শত্রুকে নিকেষে, তাও বিস্তারিত ভাবে সীমান্তরক্ষি বাহিনীর জওয়ানেরা বুঝিয়ে দিলেন। বিএসএফের এই উদ্যোগে শুধু খুশি হওয়াই নয়,অনেক ছাত্রছাত্রীই উদবুদ্ধ হয়েছেন দেশপ্রেমে। অনেকেই জানিয়েছেন তারা আগামী দিনে সেনা বাহিনী, এয়ারফোর্স এবং নেভিতে যুক্ত হতে চান।

বারাসত শহর থেকে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে প্রায় ৪ কিলোমিটার গেলেই রাস্তার ধারে পড়বে এই বেসরকারি ইংরাজি মাধ্যম স্কুল। এদিন স্কুলে গিয়ে দেখা গেল মুল গেটে দাঁড়িয়ে আছেন সশস্ত্র দুই বিএসএফ জওয়ান। স্কুলের ভিতরেই অস্থায়ী ভাবে তাবু লাগানো হয়েছে। বিএসএফ-এর ব্যানার ও পোস্টার। তারই এক দিকে রাখা হয়েছে মিডিয়াম লাইট মেশিন গান, স্ন্যাপ শুটিং গান,৯ এম এম পিস্তল, ৯ এম এম সাব মেশিন গান,এল এম জি, ৫১ এম এম মটর, ৮১ এম এম মটর সহ বেশ কয়েকটি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র। রয়েছে নানা ধরনের বাইনোকুলার। একেবারেই কচিকাচা পড়ুয়া থেকে উচু ক্লাসের ছাত্রছাত্রীরা সার দিয়ে সেখানে আসছেন। বি এস এফের জওয়ানরা এক একটা আগ্নেয়াস্ত্র তাদের হাতে ধরিয়ে এর কার্যকারিতা সম্পর্কে সচেতন করছেন।

bsf 1

স্কুলের সময় এবং বাকি সময়েও বই,খাতা নিয়ে তার মধ্যে ডুবে থাকা, নয়তো কোচিং ক্লাস থেকে অন্য কোচিং ক্লাসে যাওয়াটাই ছিল ছাত্রছাত্রীদের রোজনামচা। চেনা সেই গন্ডি থেকে একেবারে দেশের সীমান্তরক্ষি বাহিনী এবং অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র চোখের সামনে দেখতে পেয়ে তাদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতোই। দেশ রক্ষায় ব্যাবহার করা অস্ত্র এবং রক্ষাকারীদের হাতের কাছে পেয়ে ছাত্রছাত্রীদের দেশের প্রতি ভালবাসা কয়েক গুন যেন বেড়ে গিয়েছে বলেই জানান দিয়েছে তাদের শরীরের ভাষা। সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী খুশি কুমারি বলেন আমার বাবাও সেনা বাহিনীতে রয়েছেন। তাই আমিও বড় হয়ে সোলজার হতে চাই। দেশ রক্ষায় তারা বুক চিতিয়ে কীভাবে তারা আমাদের রক্ষা করে তার অনেক গল্প বাবার কাছ থেকে শুনেছি। তাদের এই সাহসিকতাকে আমি হ্যাটস অফ জানাই। সপ্তম শ্রেণীর আর এক ছাত্র অংকিত কর্মকার বলেন আমি বড় হয়ে নেভিতে যোগ দিতে চাই। বি এস এফ, সেনারা শত্রুদের হাত থেকে ৩৬৫ দিন সাহসের সাথে রক্ষা করে বলেই আমরা ভারতবাসীরা নিশ্চিন্তে রাতে ঘুমোতে পারি। দেশকে ভালোবাসার শিক্ষাটাই এদিন বি এস এফের কাকুদের কাছে পেলাম।আদিত্যরুপ ঘোষ বলেন এই ধরনের উদ্যোগ এর আগে আমাদের স্কুলে হয় নি।তাই রোমান্চ লাগছে। সেও বড় হয়ে ডাক্তার কিংম্বা ইঞ্জিনিয়ার নয় হতে ইন্ডিয়ান এয়ারফোর্স এর জাওয়ান।

bsf 2

১৭৯ নম্বর বি এস এফ ব্যাটেলিয়ানের ডেপুটি কমান্ডার এইচ হালদার বলেন ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বি এস এফ। ৫৫ তম বছরে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের মনে দেশপ্রেমের ভাবাবেগ বৃদ্ধি করতেই আমাদের এই উদ্যোগ। আসলে আমরা বি এস এফ রেসিং ডে সেলিব্রেট করছি এখানো। এখন সকলেই কেরিয়ারের প্রতি ছোটে। অবিভাবকরাও চান তাদের ছেলে মেয়েরা ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার বা অন্য কিছু হোক। মাসের শেষে মোটা টাকা উপার্জন করে নিজের পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্তে থাকাটাই অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন। এই মানসিকতার জন্যই সেনা বাহিনীতে এই প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা কম আসছে। আগ্রহ কমছে তাদের। তাই একেবারে স্কুল লেবেলের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে দেশপ্রেম বৃদ্ধি করতেই এই প্রচেষ্টা।

বারাসতের দিল্লি পাবলিক স্কুলের একাডেমির ভাইস চেয়ারম্যান সুনিতা ঘোষ বলেন বি এস এফের কর্তারা আমাদের স্কুলে এসে এই ধরনের কর্মসুচি করার জন্য আমরা খুব গর্বিত। আর এই সুযোগে দেশের সাফল্য ও সামর্থ্য সম্পর্কে একটা ধারনা হবে ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে। সেটাও বড় পাওনা হবে তাদের।

First published: 08:12:06 PM Nov 27, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर