corona virus btn
corona virus btn
Loading

অন্যের শরীরেই বেঁচে থাক দাদা, সিদ্ধান্ত ভাইয়ের

অন্যের শরীরেই বেঁচে থাক দাদা, সিদ্ধান্ত ভাইয়ের

স্বপনের পরিবার এখন চাইছে যত দ্রুত সম্ভব গ্রহীতা খুঁজে তাঁর অঙ্গ প্রতিস্থাপন করুক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

  • Share this:

#কাঁথি: পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথির কাছে পথ দুর্ঘটনায় মাথার খুলি উড়ে গিয়েছিল স্বপন হাজরার (৪৫)। প্রায় তিনদিন এসএসকেএম হাসপাতালে যমে-মানুষে লড়াইয়ের পর বাঁচানো সম্ভব হয়নি তাঁকে। চিকিৎসকরা হাত তুলে দিয়ে জানিয়ে দেয় বাঁচানো সম্ভব নয়। ব্রেন ডেথ ঘোষণা করা হয় রবিবার রাতে। সেই মুহূর্তেই স্বপনের ভাই সুরজিৎ হাজরা সিদ্ধান্ত নেয় দাদার অঙ্গদানের। অন্য কারও শরীরে দাদাকে বাঁচিয়ে রাখতেই এই সিদ্ধান্ত।

গত ৯ জানুয়ারি পূর্ব মেদিনীপুরের ভাজাচাউলির বাসিন্দা স্বপন হাজরা (৪৫) তিন বন্ধুর সাথে মোটরবাইকে করে বাড়ি ফিরছিলেন। বাইকের মাঝে বসেছিলেন তিনি। একটি গাড়িকে ওভারটেক করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারায় তাদের বাইক। তখন দূরে ছিটকে গিয়ে একজন বেঁচে গেলেও মাথায় গভীর আঘাত পান স্বপনবাবু। হেলমেট না থাকায় মাথার খুলি উড়ে যায়।

সেই অবস্থায় ওই জেলার দারুয়াতে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে এমএমকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখান থেকে নিয়ে এসে এমএমকেএম হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে ভর্তি করা হয় ওই দিনই। দ্রুত চিকিৎসাও শুরু হয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় স্বপনের ব্রেন ডেথ হয়েছে বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অঙ্গদানের প্রস্তাব দিতেই রাজি হয়ে যায় ভাই সুরজিৎ।

পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন স্বপন। চার মেয়ে ও এক ছেলের সংসার চলত তাঁর আয়েই। দাদার অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নিলেও পরিবারের বাকিদের রাজি করানো খুব একটা সহজ ছিল না সুরজিতের কাছে। পরিবারের লোকেদের সেই বোঝায় যে স্বপন ফিরে না এলেও সে অন্য কারও শরীরে বেঁচে তো থাকবে অঙ্গদানের মাধ্যমে। এতেই পরিবারের তরফেও অঙ্গদানে সম্মতি দেওয়া হয়।

সুরজিত বলেন, "দাদাকে বাঁচাতে পারব না বুঝতে পেরেই অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। দাদাকে আর কোনওদিন হাসতে দেখবো না। কিন্তু দাদার কোনও অঙ্গ অন্য কারও মুখে যদি হাসি ফোঁটায়, প্রাণ ফিরিয়ে দেয় তাতেই মনে করবো দাদা বেঁচে আছে।"

পরিবারের থেকে সবুজ সংকেত পেতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অঙ্গদানের পরবর্তী প্রস্তুতি শুরু করে। লিভার, হার্ট ও দুটি কিডনি স্বপনের দেহ থেকে নেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে পরিবারের লোকেদের জানায় হাসপাতাল। এরমধ্যে গ্রিন চ্যানেল করে লিভার যায় বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে। কিডনি ও হার্ট কারা পাবেন সে বিষয়ে পরিবারের লোকেদের এখনও কিছু জানানো হয়নি।

স্বপনের পরিবার এখন চাইছে যত দ্রুত সম্ভব গ্রহীতা খুঁজে তাঁর অঙ্গ প্রতিস্থাপন করুক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

Sujoy Pal

Published by: Siddhartha Sarkar
First published: January 13, 2020, 10:16 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर